ভারতে বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে কংগ্রেস। মঙ্গলবার (১১ ডিসেম্বর) রাতে কংগ্রেসকে টুইটারে অভিনন্দন জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। কংগ্রেস সভাপতি পদে নাম ঘোষণার ঠিক এক বছর পূর্ণ হওয়ার দিনই জয় পেলেন রাহুল।
ভারতে লোকসভা নির্বাচনে ভোটের বাকি এখনও কয়েক মাস। লোকসভার আগে পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোটকে ধরা হয় সেমিফাইনাল হিসেবে। কিন্তু তার আগেই থমকে গেল নরেন্দ্র মোদীর বিজয়রথ। গোটা দেশের হিন্দি বলয়ের রাজস্থান এবং ছত্রিশগড়ে বিজেপিকে হারিয়ে ক্ষমতায় ফিরল কংগ্রেস।
মোদী জমানায় প্রথমবার হিন্দি বলয়ের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে বিজেপিকে হারালেন রাহুল।
ঘোষিত ফলে পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোটে কোনোটাতেই কংগ্রেসের চেয়ে বেশি আসন পায়নি বিজেপি। মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, ছত্রিশগড়, তেলাঙ্গানা, মিজোরাম– সব ক’টি রাজ্যে বিজেপির চেয়ে অনেক বেশি আসন পেয়েছে কংগ্রেস।
মধ্যপ্রদেশের ২৩০ আসনের মধ্যে কংগ্রেস পেয়েছে ১১৪টি আসন। সেখানে বিজেপি পেয়েছে ১০৯টি। রাজস্থানে বিজেপির চেয়ে বেশ এগিয়ে কংগ্রেস। এখানকার ২০০ আসনের ১০১টি আসন পেয়েছে কংগ্রেস। সেখানে বিজেপি পেয়েছে মাত্র ৭৩টি আসন। ছত্রিশগড়ে মাত্র কয়েকটি আসনে জয় পেয়েছে বিজেপি। এখানকার ৯০ আসনের মধ্যে কংগ্রেস পেয়েছে ৬৮টি আসন।
তেলাঙ্গানাতে সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে টিআরএস। এখানে বিজেপি পেয়েছে মাত্র একটি আসন। আর কংগ্রেস ও টিডিপি জোট পেয়েছে ২১ আসন।
মিজোরামেও বিজেপির চেয়ে এগিয়ে কংগ্রেস। এ রাজ্যে মোট আসন সংখ্যা ৪০টি। এখানে অবশ্য সবচেয়ে বেশি পেয়েছে এমএনএফ (২৬ আসন)। কংগ্রেস পেয়েছে ৫টি। আর বিজেপি পেয়েছে মাত্র একটি আসন।
মাত্র দুইটি আসনের জন্য রাজস্থানে কংগ্রেস একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। আর হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে মধ্যপ্রদেশে রাত পর্যন্ত ম্যাজিক সংখ্যার নিচেই থেকে গেছে দুইদল। এখানেও সরকার গড়া নিয়ে নিশ্চিত কংগ্রেস।
অবশ্য মোদীর প্রধান সেনাপতি অমিত শাহ বলেছিলেন, সব রাজ্যেই জিতবে বিজেপি।
পাঁচ বছর আগে রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ আর ছত্রিশগড়ে বিধানসভা নির্বাচনে মোদীঝড়ে বিপুল ভোট বিজেপি ক্ষমতাসীন হয়েছিল।
এই ফলে স্বাভাবিকভাবেই উজ্জীবিত কংগ্রেস। দলের নেতাদের মতে, ২০১৮–র এই ভোটই ২০১৯–এর ভোটের ক্ষেত্র প্রস্তুত করে দিল।
জয়নিউজ/আরসি