ফিলিপাইনে টাইফুন কালমায়েগির তাণ্ডবে অন্তত ৯৩ জনের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক

ফিলিপাইনে টাইফুন কালমায়েগির তাণ্ডবে অন্তত ৯৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এখনো ২৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

- Advertisement -

এর আগে সংবাদ সংস্থা আরটিইর প্রতিবেদন মতে, সেবু প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র রন রামোস বুধবার (৫ নভেম্বর) সকালে জানিয়েছেন, সেবু সিটির মেট্রোপলিটন এলাকার অংশ লিলোয়ান শহর থেকে এখন পর্যন্ত ৩৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এতে প্রদেশটিতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৬।

- Advertisement -
google news follower

সবশেষ জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার উপপ্রধান রাফায়েলিতো আলেহান্দ্রো জানান, অন্যান্য প্রদেশে আরও কমপক্ষে ১৭ জন মারা গেছেন। ফলে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৯৩ জনে দাঁড়িয়েছে। আরও ২৬ জন নিখোঁজ রয়েছে।

তবে বিবিসি ও সিএনএনের সবশেষ তথ্য মতে, মৃত্যুর সংখ্যা ৮৫ জনে দাঁড়িয়েছে।

- Advertisement -
islamibank

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘মূল শহরগুলোতেই বন্যার প্রভাব সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল, যেগুলো উচ্চমাত্রায় নগরায়িত অঞ্চল। এমন বন্যা কখনও দেখিনি।’

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ চার্মাগনে ভারিলা জানান, কালমায়েগি আঘাত হানার আগের ২৪ ঘণ্টায় সেবু সিটি অঞ্চলে ১৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় যা পুরো মাসের গড় (১৩১ মিমি) এর চেয়েও অনেক বেশি।

প্রাদেশিক গভর্নর পামেলা বারিকুয়াত্রো এই পরিস্থিতিকে ‘অভূতপূর্ব’ বলে বর্ণনা করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম ঝড়ের বাতাসই সবচেয়ে বড় বিপদ হবে। কিন্তু আসলে পানি আমাদের মানুষদের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

এদিকে ফিলিপাইনের সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, টাইফুন পরবর্তী ত্রাণ কার্যক্রমে নিয়োজিত চারটি হেলিকপ্টারের মধ্যে একটি উত্তর মিন্দানাও দ্বীপে বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন।

ইস্টার্ন মিন্দানাও কমান্ড জানায়, সুপার হিউই হেলিকপ্টারটি বুতুয়ান শহরে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দিতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে।

পরে বিমানবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মারিয়া ক্রিস্টিনা বাস্কো জানান, দুর্ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে দুইজন পাইলট এবং চারজন ক্রু সদস্য ছিলেন।

গত সোমবার (৩ নভেম্বর) মধ্যরাতে ফিলিপিন্সের মধ্যাঞ্চলে আঘাত হানে টাইফুন কালমায়েগি। এরপর স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) সকাল ৮টার দিকে টাইফুনটি সেবু ও নেগরোস দ্বীপ অতিক্রম করে। সেবু প্রদেশে রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়েছে ঘূর্ণিঝড়টি।

এ সময় বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার। কোথাও কোথাও তা ১৮৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছায়।

প্রচণ্ড বেগের বাতাস ও প্রবল বৃষ্টিতে প্লাবিত হয়েছে পুরো সেবু দ্বীপ। এই দুর্যোগে গত মঙ্গলবার মাত্র দুইজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। তবে এরপর দ্রুতই বেড়েছে মৃত্যুর সংখ্যা।

KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ