নগর জামায়াতের উদ্যােগে এতিমদের সম্মানে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক

মাহে রমাদানের ২য় দিনে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে আয়োজিত এতিমদের সম্মানে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

- Advertisement -

উক্ত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

- Advertisement -
google news follower

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ উল্লাহর সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, নগর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারী অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, বিআইএ জামে মসজিদ পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মাহফুজুর রহমান মিনহাজ ও মাওলানা আবুল বাশার প্রমুখ।

এতে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সিদ্দিকুর রহমান, নগর কর্মপরিষদ সদস্য হামেদ হাসান ইলাহী, বিআইএ জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন মিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।

- Advertisement -
islamibank

চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, আল-কুরআনের সূরা মাউনে এতিমকে গলা ধাক্কা দেয়া এবং মিসকিনের অন্ন যোগানোতে অনুৎসাহিত করাকে আখিরাত অস্বীকারকারী দুশ্চরিত্রের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

সুরা কুরাইশে অন্ন সংস্থান এবং নিরাপত্তা বিধানকে মৌলিক মানবাধিকার ঘোষণা করা হয়েছে। এতিমদের প্রতি ভালোবাসাপূর্ণ আচরণ, অধিকার রক্ষা ও লালন-পালন করা আমাদের ঈমানি দায়িত্ব।

আল-হাদীসের শিক্ষানুযায়ী এতিমদের সাহায্যকারী আল্লাহর পথে জিহাদকারীর সমতুল্য এবং এতিম প্রতিপালনকারী জান্নাতে নবী করিম (সা.)-এর সাথে তর্জনী ও মধ্যমা আঙুলের মতই নিকটবর্তী হয়ে জান্নাতে অবস্থান করবেন।

এতিমদের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভোগ করা, তাদের সাথে কঠোর আচরণ, অবজ্ঞা বা অযত্ন করা পরকালে শাস্তির কারণ হবে।

তাই তাদের প্রতি সহানুভূতি, ভালোবাসা ও তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি আরও বলেন, চারদলীয় জোট সরকারের আমলে শহীদ আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি প্রতিবন্ধিসহ এতিম-অসহায়দের দায়িত্ব পালনে অত্যন্ত সংবেদনশীল ছিলেন।

চট্টগ্রামে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে বেশ কয়েকটি সরকারি শিশুসদন রয়েছে, যা এতিম, পিতৃ-মাতৃ পরিচয়হীন ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ভরণপোষণ, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রদান করে।

সরকারি শিশু পরিবার (বালক) এবং সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা), ছোটমণি নিবাস, সেফহোম ও সরকারি আশ্রয় কেন্দ্র ইত্যাদি জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি পরিচালনা করে থাকেন।

সম্পূর্ণ সরকারি খরচে থাকা, খাওয়া, পোশাক ও চিকিৎসা সুবিধাসহ সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কম্পিউটার, সেলাই, পোলট্রি ও ডেইরি প্রশিক্ষণ দিয়ে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়। শহীদ মুজাহিদ দায়িত্ব পালনকালে সবগুলো কেন্দ্রে সফর করে যোগ্যতার সাথে মনিটরিং করেছেন।

নবগঠিত সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়কেও প্রতিটি শিশুসদন ব্যবস্থাপনায় যথাযথ দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানান।

তিনি আরও বলেন, শহীদ মুজাহিদের অনন্য অবদান ছিলো ‘মুক্তা পানি’ যা সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘শারীরিক প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট, মৈত্রী শিল্প’ কর্তৃক উৎপাদিত একটি উচ্চমানের বোতলজাত বিশুদ্ধ খাবার পানি।

এটি গাজীপুরের কারখানা থেকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দ্বারা ৭০০ ফুট গভীর নলকূপ থেকে সংগ্রহ করে ১১টি ধাপে পরিশোধিত হয়ে প্রস্তুত করা হয় এবং এ পানি বিক্রির লভ্যাংশ প্রতিবন্ধীদের জীবনমান উন্নয়নে ব্যয় করা হয়।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বাবলম্বী করতে “মুক্তা পানি” প্রকল্পকে আরো সম্প্রসারণ করতে নবগঠিত সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় উদ্যোগী ভূমিকা পালন করবেন বলে আশা রাখছি।

KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ