চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট এলাকায় এক যুবককে সড়কে বাইক থেকে নামিয়ে শারীরিকভাবে আঘাত ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে সাঈদ হোসেন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আলী ওয়ামিম খান পাঁচলাইশ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে আক্তারুজ্জামান ফ্লাইওভার-এর পাঁচলাইশ থানা অংশে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী আলী ওয়ামিম জানান, তিনি পাঠাও বাইকে করে বহদ্দারহাট প্রান্ত দিয়ে ফ্লাইওভারে উঠছিলেন। এ সময় অভিযুক্ত সাঈদ হোসেন বেপরোয়া গতিতে তার কালো রঙের নিশান এক্স-ট্রেইল (চট্টমেট্রো-ঘ ১১-২৩১২) গাড়ি দিয়ে চাপ দিলে বাইকটি পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। পরে সাঈদ গাড়ি থেকে নেমে তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান।

সড়কে উপস্থিত অন্যান্য যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা সাঈদের আচরণের প্রতিবাদ জানালে তিনি সেখান থেকে সরে যান। তবে অভিযোগ রয়েছে, কিছুক্ষণ পর পাঁচলাইশ থানাধীন মুরাদপুর এলাকায় গিয়ে একই পাঠাও বাইকের গতিরোধ করেন। এরপর বাইকের পেছনে বসা যাত্রী আলী ওয়ামিমকে নামিয়ে শারীরিকভাবে আঘাত ও লাঞ্ছিত করেন।
আহত আলী ওয়ামিম ওই রাতেই পাঁচলাইশ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এ চিকিৎসা নেন। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সাঈদ হোসেনের ব্যবহৃত নিশান এক্স-ট্রেইল গাড়িটি ফটিকছড়ির আবুল হাসেম নামের এক ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত। যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অনেক আগেই গাড়িটি সাঈদের কাছে বিক্রি করেছেন। নাম পরিবর্তনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হলেও এখনো মালিকানা হস্তান্তর হয়নি বলে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।
ঘটনার বিষয়ে জানতে ২৪ ফেব্রুয়ারি দুপুর ২টা ৭ মিনিটে সাঈদ হোসেনকে ফোন করা হলে প্রথমে কল রিসিভ করেননি। পরে তিনি নিজে থেকেই প্রতিবেদককে কল দেন। এ সময় তিনি নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দেন এবং তার ভাই বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট বলে দাবি করেন।
তার ভাষ্য, “ছেলেটি আমার গাড়িতে হাত দিয়ে চড় মারে। তখন আমি মনে করেছি সে কোনো সমন্বয়ক। এক পর্যায়ে আমি তাকে কান ধরিয়েছি এবং শাস্তি দিয়েছি।”
সড়কে কাউকে শারীরিকভাবে আঘাত করা যায় কি না—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, “অবশ্যই যায়। আমার ছেলেও তার বয়সী হতো। তাই আমি সেটা করতেই পারি।”
একজন সাংবাদিকের পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে ফোন করার বিষয়ে প্রশ্ন তুললে তিনি ক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া জানান এবং কটু মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ। পরে প্রতিবেদকের নাম ও কর্মস্থল জেনে নেন এবং উল্টো হয়রানির অভিযোগ তোলেন। যদিও কললিস্ট অনুযায়ী সাঈদ হোসেনই একাধিকবার প্রতিবেদককে কল করেছেন। এক পর্যায়ে তিনি প্রতিবেদককে থানায় নিয়ে যাওয়ার হুমকিও দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাঈদ হোসেন বহদ্দারহাট এলাকায় পৈত্রিক সূত্রে বিপুল সম্পদের মালিক। বহদ্দারহাট আরাকান সড়কে তার একটি জিম ব্যবসা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে পূর্বেও বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে বিবাদে জড়ানোর অভিযোগ রয়েছে।
প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়-এ অধ্যয়নকালে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে। সর্বশেষ স্বেচ্ছাসেবক লীগের রাজনীতির সঙ্গেও সম্পৃক্ত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
আইনজীবীর মতামত
এ বিষয়ে আইনগত দিক জানতে চাইলে গোলাম মাওলা মুরাদ বলেন, “সড়কে তর্ক-বিতর্ক হলেও কাউকে শারীরিকভাবে আঘাত করার কোনো আইনগত অধিকার কারও নেই। এটি দণ্ডবিধি অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কেউ নিজেকে আইনজীবী বা প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য পরিচয় দিলেও তিনি আইনের ঊর্ধ্বে নন।”
তিনি আরও বলেন, “ইচ্ছাকৃতভাবে গাড়ি দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা, মারধর কিংবা হুমকি দেওয়া—সবই ফৌজদারি অপরাধের আওতায় পড়ে। ভুক্তভোগী চাইলে নিয়মিত মামলা দায়ের করতে পারেন। পুলিশের উচিত নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া।”
পাঁচলাইশ থানা পুলিশ জানিয়েছে, আলী ওয়ামিম নামে এক যুবকের অভিযোগ জিডি আকারে গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।




