“বিশ্ব হিমোফিলিয়া দিবস ২০২৬” উপলক্ষে ব্লাড ট্রান্সফিউশন সোসাইটি অব বাংলাদেশ (BTSB) দেশের সকল হিমোফিলিয়া রোগীর জন্য উন্নত, নিরাপদ এবং সমতাভিত্তিক চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছে।
সংগঠনটি জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে ক্লটিং ফ্যাক্টর। বিশেষ করে ফ্যাক্টর VIII ও IX—এর সীমিত প্রাপ্যতা এবং উচ্চ ব্যয়ের কারণে বহু রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে একটি সমন্বিত ও বাস্তবমুখী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছে বিটিএসবি।
সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. ফারহানা ইসলাম, মহাসচিব ডা. মো. খায়রুল ইসলাম ও কোষাধ্যক্ষ ডা. মো. ওয়াসীম স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ক্লটিং ফ্যাক্টরের প্রাপ্যতা বাড়াতে সরকারি ক্রয়, ভর্তুকি এবং অংশীদারিত্ব জোরদার করা জরুরি। পাশাপাশি এসব সেবা বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতাল পর্যন্ত বিস্তৃত করতে হবে।
যেখানে ক্লটিং ফ্যাক্টর সহজলভ্য নয়, সেখানে ট্রান্সফিউশন মেডিসিন সেবা শক্তিশালী করে Fresh Frozen Plasma (FFP) ও Cryoprecipitate-এর সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ফ্যাক্টর, FFP এবং Cryoprecipitate-এর নিরাপদ ও সঠিক ব্যবহারের জন্য জাতীয় মানসম্মত গাইডলাইন প্রণয়ন জরুরি বলে উল্লেখ করেছে বিটিএসবি।
দ্রুত ও সাশ্রয়ী চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ডে-কেয়ার ট্রান্সফিউশন সেবা চালু ও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে নিরাপদ প্লাজমা পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিতে স্বেচ্ছায় রক্তদান এবং এফেরেসিস পদ্ধতিতে প্লাজমা ডোনেশন উৎসাহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংগঠনটি আরও জানায়, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ জোরদার করা গেলে হিমোফিলিয়ার জটিলতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা সম্ভব।
বিটিএসবি মনে করে, ক্লটিং ফ্যাক্টর কনসেন্ট্রেট হিমোফিলিয়ার সর্বোত্তম চিকিৎসা হলেও বাংলাদেশের মতো সম্পদ-সীমিত প্রেক্ষাপটে Fresh Frozen Plasma (FFP) ও Cryoprecipitate কার্যকর সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
এ উপলক্ষে সংগঠনটি নীতিনির্ধারক, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী এবং উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতি সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে দেশে হিমোফিলিয়া চিকিৎসা আরও সহজলভ্য ও সবার জন্য নিশ্চিত করা যায়।




