চট্টগ্রাম নগরী পানির ওপর ভাসছে না: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

টানা তিনদিন ভারি বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার ভোগান্তির মধ্যেই নগরী ঘুরে দেখে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, চট্টগ্রাম শহর পানির উপর ‘ভাসছে’ না, সুন্দর আছে।

- Advertisement -

মঙ্গলবার কয়েক ঘণ্টার টানা ভারি বৃষ্টিতে নগরীর পুরনো জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকার সঙ্গে নতুন নতুন এলাকাও প্লাবিত হয়। এর মধ্যে প্রবর্তক মোড় ও আশেপাশের এলাকায় পানি ছিল সবচেয়ে বেশি।

- Advertisement -
google news follower

বুধবার আবার বৃষ্টির মধ্যে নগরীর প্রবর্তক মোড় ঘিরে ফের জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। তার আগে সোমবারও ওই এলাকায় জলাবদ্ধতা হয়েছিল।

মঙ্গলবারের জলাবদ্ধতার ভোগান্তিতে নগরবাসী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। এরপর বুধবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামে এসে প্রবর্তক এলাকা ঘুরে দেখেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী।

- Advertisement -
islamibank

পরিদর্শন শেষে মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের বলেন, “প্রথমত আমি মিডিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলতে চাই, আপনারা যেভাবে নিউজটি করেছেন বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলছে, চট্টগ্রাম শহর পানির উপর ভাসছে।

“আমি চট্টগ্রাম এসে ঘুরে দেখলাম সন্ধ্যার পর থেকে। চট্টগ্রাম শহর পানির উপর ভাসছে না। চট্টগ্রাম শহর সুন্দর আছে। যেরকম ছিল সেরকমই আছে। হঠাৎ করে অতি বৃষ্টির কারণে কিছুটা পানি জমা পড়লেও সঠিক সময়ে তা নিষ্কাশন হয়ে গেছে।”

প্রবর্তক মোড়ে জলাবদ্ধতা ‘খুব বেশি হয়নি’–এমন ধারণা দিয়ে তিনি বলেন, “৬০ কিলোমিটার আয়তনের একটা সিটি করপোরেশন। প্রবর্তক মোড়ে আমরা পানির মধ্যে যতটুকু পায়ে হাঁটলাম, এটা ৬০ ফুটও হবে না। সর্বোচ্চ ৩০ ফুট জায়গা; এক গোছা পানি হবে।

“আমরা ঢাকা থেকে যতটুকু দেখলাম, বুঝলাম, শুনলাম। প্রধানমন্ত্রী এবং আমার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, দুইজন আমাকে নির্দেশনা দিয়েছেন সরেজমিনে এসে দেখবার জন্য। আমি এসে দেখলাম- চট্টগ্রাম নগরী পানির ওপর ভাসছে না। চট্টগ্রাম নগরী শুষ্ক মৌসুমে যেরকম থাকে সেরকমই আছে।

“প্রধানমন্ত্রী মহানুভবতা ও জনগণের প্রতি তার দরদ থেকে এই ছোট্ট একটি ঘটনা নিয়ে সংসদে দাঁড়িয়ে চট্টগ্রাম নগরবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এরপরে আমার আর কিছু বলার আছে বলে মনে করি না।”

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমি এখনই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মিটিং করব; আগামী দিনগুলোতে ও বর্ষা মৌসুমে যাতে জলাবদ্ধতা না হয়। চট্টগ্রাম নগরবাসী যাতে স্বস্তিতে বসবাস করতে পারে সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেব।”

চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান প্রকল্পের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ৩৬টি খালের মধ্যে ৩০টির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট ছয়টি খালের মধ্যে পাঁচটির কাজ এমন পর্যায়ে আছে, সেটি পানি প্রবাহে খুব একটা বিঘ্ন ঘটাবে না। আর এই হিজড়া খাল একটি।

“খাল পুনঃনির্মাণের সময় স্টিল স্ট্রাকচারের মাধ্যমে রিটেইনিং ওয়াল দিয়ে ব্যারিকেড করতে হয়; যাতে মাটি ও পানি উল্টো দিক থেকে এসে কনস্ট্রাকশন কাজকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে। ঠিক এরকম এই খালের মাঝখানেও ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছিল। সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোর মনে করেছিল, ১৫ মের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন করে রিটেইনিং ওয়াল সরিয়ে নিয়ে খালটি সচল করবে।

“কিন্তু হঠাৎ এই সময়ের মধ্যে বর্ষকালের আগে অতিবৃষ্টি হয়ে যাওয়ায় দুই একদিন হয়ত এই এলাকার মানুষ একটু কষ্ট পেয়েছে। এখন পানি নিষ্কাশন হয়েছে। ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে স্টিল স্ট্রাকচারের যে রিটেইনিং ওয়াল দেওয়া আছে সেগুলো সরিয়ে খাল সচল করে দেবে।”

পরিদর্শনকালে চট্টগ্রামের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, সিডিএর প্রকল্প পরিচালক আহম্মদ মঈনুদ্দিন এবং সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের কর্মকর্তারা প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।

জেএন/এমআর

KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ