সবুজ পাহাড় এখন বৃক্ষশূন্যতার পথে: খাগড়াছড়িতে বন ধ্বংসের ভয়াবহ চিত্র

অনলাইন ডেস্ক

খাগড়াছড়ির পার্বত্য অঞ্চলে অসংখ্য প্রজাতির গাছ নিয়ে গড়ে ওঠা প্রাকৃতিক বনাঞ্চল আজ ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়েছে। সংরক্ষিত, রক্ষিত, ব্যক্তিমালিকানাধীন ও অশ্রেণিভুক্ত—এই চার ধরনের বনভূমির মধ্যে বিশেষ করে সংরক্ষিত ও অশ্রেণিভুক্ত বনাঞ্চলে নির্বিচার গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে।

- Advertisement -

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অশ্রেণিভুক্ত বনভূমির পরিমাণ ৮৩৫৮.৭৬ একর। এর মধ্যে সংরক্ষিত বনভূমি ৬২০০ একর। পানছড়ি উপজেলায় সংরক্ষিত বন ২৪১৫ একর এবং মাটিরাঙ্গা উপজেলায় ৩৭৮৫ একর।

- Advertisement -
google news follower

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব বনভূমির বড় অংশই এখন অব্যাহতভাবে উজাড় হচ্ছে। প্রতিদিনই কাটা হচ্ছে মূল্যবান গাছ, যার বড় অংশ ইটভাটা ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে পাহাড়ের সবুজ আচ্ছাদন দ্রুত কমে যাচ্ছে এবং জীববৈচিত্র্য চরম হুমকিতে পড়ছে।

স্থানীয় পরিবেশবিদ ও সচেতন মহল অভিযোগ করেছেন, বন রক্ষায় প্রশাসনের ভূমিকা অনেক ক্ষেত্রে দুর্বল। তাঁদের দাবি, প্রভাবশালী চক্রের সঙ্গে আঁতাতের মাধ্যমে কাঠ পাচারের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

- Advertisement -
islamibank

এ প্রসঙ্গে খাগড়াছড়ি বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ফরিদ মিয়ার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, তিনি বিভিন্ন রেঞ্জ ও বিট অফিস থেকে মাসিক ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ‘চাঁদা’ গ্রহণ করেন—এমন অভিযোগও রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের কোনো আনুষ্ঠানিক সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

খাগড়াছড়ি বন বিভাগের অধীন রয়েছে পানছড়ি রেঞ্জ, সদর রেঞ্জ, খাগড়াছড়ি রেঞ্জ, মাটিরাঙ্গা রেঞ্জ, জালিয়াপাড়া রেঞ্জ, রামগড় রেঞ্জ ও মানিকছড়ি রেঞ্জসহ একাধিক বিট ও চেক স্টেশন।

অভিযোগ অনুযায়ী, এসব অঞ্চলের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী চোরাচালান চক্রের সঙ্গে জড়িত থেকে কাঠ পরিবহনে সহায়তা করছেন।

শ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, পাহাড়ি বনাঞ্চল থেকে চাপালিশ, চম্পাফুল, গামারি সহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কাটা হয়। বছরের প্রায় পাঁচ মাস ধরে এই কার্যক্রম চলে বলে তাঁদের দাবি।

গাছ কাটা শ্রমিকদের একজন বলেন, এসব কাঠ পরে ইটভাটা ও মিল কারখানায় ব্যবহৃত হয়।

বনের গাছ কমে যাওয়ায় বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলও ধ্বংস হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের আশঙ্কা, অনেক প্রজাতির প্রাণী ইতোমধ্যেই বিলুপ্তির পথে।

পিঠাছড়া বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ উদ্যোগের প্রতিষ্ঠাতা মাহফুজ রাসেল বলেন, “বন উজাড়ের কারণে পরিবেশের ওপর মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বন্যপ্রাণীর আশ্রয় নষ্ট হচ্ছে। বাণিজ্যিকভাবে গাছ কাটা বন্ধ করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, বন বিভাগ অনেক সময় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়।

অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ফরিদ মিয়া জানান, কাঠ পরিবহন বন্ধে টহল কার্যক্রম বাড়ানো হচ্ছে এবং শুষ্ক মৌসুমে ইটভাটায় বনের কাঠ ব্যবহার রোধে সমন্বিত অভিযান চালানো হবে।

স্থানীয় পরিবেশবিদ ও সচেতন মহল বলছেন, বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এখনই কঠোর ও কার্যকর আইন প্রয়োগ ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।

KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ