লেবাননে হামলা বন্ধ, মার্কিন সেনা প্রত্যাহারসহ যা থাকছে চুক্তিতে

অনলাইন ডেস্ক

১০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর অবশেষে অবসান ঘটতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের। আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে দুই দেশের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ হামলা চালানোর পর এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়েছিল।

- Advertisement -

ইরানি সংবাদমাধ্যম ‘মেহের নিউজ এজেন্সি’র তথ্যমতে, খসড়া চুক্তিটিতে মোট ১৪টি প্রধান পয়েন্ট বা শর্ত রয়েছে।

- Advertisement -
google news follower

এর মধ্যে রয়েছে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে স্থায়ী ও তাৎক্ষণিক সামরিক অভিযান বন্ধ করা। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নৌবাহিনীর সব ধরনের অবরোধ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা।

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত ও অবাধ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া। ইরানের চারপাশ ও সীমান্ত এলাকা থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি।

- Advertisement -
islamibank

ইরানের তেল বিক্রির ওপর থাকা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা। চুক্তি স্বাক্ষরের ৬০ দিনের মধ্যে বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানের ২৪ বিলিয়ন (২ হাজার ৪০০ কোটি) মার্কিন ডলারের তহবিল অবমুক্ত করা।

চুক্তি স্বাক্ষরের ৬০ দিনের মধ্যে দুই পক্ষ পরমাণু কর্মসূচি সংক্রান্ত বিষয়গুলোর একটি চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছাবে।

ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, আটকে থাকা তহবিলের অন্তত অর্ধেক অর্থ ছাড় না করা এবং হরমুজ প্রণালির ওপর থেকে বিধিনিষেধ পুরোপুরি প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত ইরান চূড়ান্ত আলোচনায় বসবে না।

তবে এবারের আলোচনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোকে তেহরানের সমর্থনের বিষয়টি আলোচনার এজেন্ডা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

কারা প্রথম এই ঘোষণা দেন?
রোববার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) প্রথম এই চুক্তির খবর প্রকাশ করেন। কাতার ও পাকিস্তানের যৌথ মধ্যস্থতায় এই পরোক্ষ আলোচনা সফলতার মুখ দেখেছে।

শাহবাজ শরীফের ঘোষণার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে লেখেন, ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই চুক্তিতে তিনি নিজে অথবা ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইলেকট্রনিক উপায়ে স্বাক্ষর করতে পারেন।

তবে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প কিছুটা হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, ইরান চুক্তি লঙ্ঘন করলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে। অথবা মধ্যপ্রাচ্যের মোট রাজস্বের ২০ শতাংশের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলের ‘অভিভাবক’ হতে পারে।

জেএন/এমআর

KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ