চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার সাজিনাস হাসপাতালের নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) চিকিৎসা অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগে এক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এতে হাসপাতালের পরিচালকসহ আট চিকিৎসক এবং অজ্ঞাতনামা কয়েকজন নার্সকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) চট্টগ্রামের ৩য় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলমগীর হোসেনের আদালতে এই অভিযোগ দায়ের করেন নিহত শিশুর মা আমাতুল মাকনুন।
আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে সিআইডিকে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র বিশেষজ্ঞদের মতামত সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন সাজিনাস হাসপাতালের পরিচালক হাসান মাহমুদ চৌধুরী, সহযোগী কনসালটেন্ট (এনআইসিইউ) ডা. আনোয়ার হোসেন, সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. ফয়সাল আহমেদ, পেডিয়াট্রিক সার্জন ডা. আদনান ওয়ালিদ, কার্ডিওথোরাসিক ও ভাসকুলার সার্জন ডা. মো. মিনহাজুল হাসান, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. হাবিবুর রহমান, কার্ডিওথোরাসিক ও ভাসকুলার সার্জন ডা. মো. ফজলে মারুফ এবং ল্যাপারোস্কোপিক সার্জন ডা. মো. তামিম সাফায়েত চৌধুরী।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, গত ২৫ মে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া নবজাতকটি শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে সাজিনাস হাসপাতালের এনআইসিইউতে ভর্তি করা হয়।
শুরুতে শিশুটির অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও পরবর্তীতে বাম হাতে ব্যান্ডেজ দেখা যায়, যা নিয়ে পরিবারের প্রশ্নের কোনো স্পষ্ট উত্তর মেলেনি বলে অভিযোগ।
পরিবারের দাবি, পরদিনই শিশুটির বাম হাতের নিচের অংশ কালো হয়ে যায় এবং আঙুলে পচন (গ্যাংগ্রিন) শুরু হয়। সময়মতো পর্যবেক্ষণ ও যথাযথ চিকিৎসা না দেওয়ার কারণে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একাধিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে পরিবার দাবি করেছে, ভুলভাবে আইভি ক্যানুলা স্থাপন এবং পরবর্তীতে ভুল অস্ত্রোপচারের কারণে রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এই জটিলতার সৃষ্টি হয়।
গত ৩ জুন অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশুটির আক্রান্ত হাত অপসারণ করা হয়। তবে পরদিনই তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং ৪ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়।
নিহত শিশুর মা আমাতুল মাকনুন জানান, চিকিৎসা অবহেলা ও ভুল সিদ্ধান্তের কারণে তার সন্তানকে হারাতে হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে বিচার দাবি করেন।
আইনজীবী শুভাশীষ শর্মা জানান, আদালত বিষয়টি গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করেছে এবং সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। তদন্তে চিকিৎসা প্রটোকল, সার্জিক্যাল সিদ্ধান্ত ও এনআইসিইউ ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে এবং চিকিৎসা মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। একটি নবজাতকের মৃত্যু ঘিরে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ এখন বিচারিক তদন্তের অপেক্ষায়।




