গোল-অ্যাসিস্ট না করেও রদ্রির ‘গোল্ডেন বল’

অনলাইন ডেস্ক

মেটলাইফ স্টেডিয়ামের জমকালো মঞ্চে যখন আতশবাজির আলো আর সব ক্যামেরা লিওনেল মেসি কিংবা লামিন ইয়ামালকে খুঁজছিল, তখন ডাগআউটের এক কোণে দাঁড়িয়ে শান্ত মুখে হাসছিলেন একজন। তিনি রদ্রিগো হার্নান্দেজ কাসকান্তে—ফুটবলবিশ্ব যাঁকে চেনে কেবল ‘রদ্রি’ নামে।

- Advertisement -

বিশ্বকাপের ট্রফি জয়ের পাশাপাশি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ‘গোল্ডেন বল’ উঠেছে তাঁরই হাতে। ফুটবল যেখানে কেবলই গতি আর চটকদার ড্রিবলিংয়ের প্রদর্শনী, সেখানে রদ্রি প্রমাণ করলেন—মাঠের আসল নিয়ন্ত্রণ থাকে নীরব মস্তিষ্কের আর নিখুঁত টেকনিকের হাতে।

- Advertisement -
google news follower

পুরো বিশ্বকাপে কোনো গোল বা অ্যাসিস্ট না করেও গোল্ডেন বল পুরস্কার হাতে তুলেছেন রদ্রি। মাঝমাঠে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের প্রধান ইঞ্জিন এই ম্যানচেস্টার সিটি তারকা। ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে স্পেনের নিউক্লিয়াস ছিলেন তিনি। পুরো টুর্নামেন্টে স্পেন গোল হজম করেছে মাত্র ১টি। মিডফিল্ডের পাশাপাশি ডিফেন্স সহায়তায়ও রদ্রি ছিলেন দারুণ কার্যকর।

টুর্নামেন্ট জুড়ে রক্ষণ আর আক্রমণের মাঝে এক অদৃশ্য সুতোর মতো কাজ করেছেন রদ্রি। গোল হয়তো তিনি প্রতি ম্যাচে করেন না, অ্যাসিস্টের খাতায়ও হয়তো স্ট্রাইকারদের মতো বড় বড় সংখ্যা থাকে না; কিন্তু স্পেনের প্রতিটি পাস, প্রতিটি আক্রমণ আর প্রতিটি মাঝমাঠের প্রতিরোধ গড়ে উঠেছে তাঁর পা ছুঁয়েই।

- Advertisement -
islamibank

রদ্রি ৮টি ম্যাচ খেলেছেন, টুর্নামেন্টের রেকর্ড গড়ে ৬৫০টিরও বেশি সফল পাস দিয়েছেন এবং যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক হাই-ইনটেনসিটি রান সম্পন্ন করেছেন। আর তাই, বিশ্বজয়ের এই মহাকাব্যে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের মুকুটটি তাঁর হাতেই উঠেছে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে গোল্ডেন বল সাধারণত ফরোয়ার্ড বা উইঙ্গারদের দখলে যায়, যাঁরা গোল করে গ্যালারিতে উদযাপনের রোল তোলেন। কিন্তু কাতার বিশ্বকাপে মেসির জাদুর পর, ২০২৬-এর এই উত্তর আমেরিকান মঞ্চ দেখল এক রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডারের মস্তিষ্কের লড়াই।

ফাইনাল শেষে পুরস্কার হাতে রদ্রির সেই চেনা লাজুক হাসিই বলে দিচ্ছিল, তিনি স্পটলাইটের চেয়ে দলের জয়ে অবদান রাখতেই বেশি ভালোবাসেন। পুরো টুর্নামেন্টে তাঁর পাসিং অ্যাকুরেসির গ্রাফ আর মাঠের প্রতিটি ইঞ্চিতে তাঁর উপস্থিতি বাধ্য করেছে বিচারকদের তাঁর হাতেই বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারটি তুলে দিতে। তিনি ৮টি ম্যাচ খেলেছেন, টুর্নামেন্টের রেকর্ড গড়ে ৬৫০টিরও বেশি সফল পাস দিয়েছেন এবং যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক হাই-ইনটেনসিটি রান (তীব্র গতির দৌড়) সম্পন্ন করেছেন।”

লিওনেল মেসি ৮ গোল ও ৪টি অ্যাসিস্ট করে গোল্ডেন বুটের দাবিদার ছিলেন। তবে বিচারকদের ভোটে রদ্রি জিতলেন পুরস্কার।

গুরু লুইস দে লা ফুয়েন্তের ফুটবল দর্শনের আদর্শ প্রতিচ্ছবি হয়ে রদ্রিরা আজ স্পেনের জার্সিতে যোগ করলেন দ্বিতীয় তারকা। বিশ্বজয়ের ট্রফি আর গোল্ডেন বল বগলদাবা করে রদ্রি বুঝিয়ে দিলেন, ফুটবলে রাজত্ব করতে হলে সবসময় উচ্চস্বরে চিৎকার করতে হয় না, মাঝমাঠে শান্ত থেকে নিখুঁত একটা পাস দিয়েই পুরো বিশ্বকে পায়ের মুঠোয় আনা যায়।

জেএন/এমআর

KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ