আইনশৃঙ্খলার জালে অবশেষে বন্দি হলো চট্টলার দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী চক্র। নগরের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানের চার দুর্ধর্ষ সহযোগীকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এক ঝটিকা অভিযানে তাদের জালে তোলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গ্রেপ্তারকৃতদের তালিকা যেন একঝাঁক দুর্ধর্ষ অপরাধের খতিয়ান।
পুলিশের হাতে ধরা পড়া চার অপরাধী হলেন-চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলী এলাকায় আলোচিত যুবদল নেতা মাসুদ হত্যা মামলার অন্যতম এজাহারনামীয় আসামি দিদার ও আফসার। মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ থানা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও অপরাধ জগতের পরিচিত মুখ বোরহান, এবং হাটহাজারী থানার চাঞ্চল্যকর আজম হত্যা মামলার প্রধান পলাতক আসামি দিদার (২)।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকাভিত্তিক চাঁদাবাজি, কিলিং স্কোয়াড পরিচালনা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। তারা এক জায়গায় বেশিদিন অবস্থান করত না।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি বিশেষ টিম সুনির্দিষ্ট স্থানে ঘেরাও দিয়ে অভিযান চালায়। উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও চৌকস পুলিশ কর্মকর্তাদের তৎপরতায় চারজনই হাতেনাতে গ্রেপ্তার হয়।
তল্লাশি চালিয়ে তাদের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয় বেশ কিছু বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও প্রাণঘাতী গুলি।
বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) মো. রাসেল জানান, গ্রেপ্তারকৃত প্রত্যেকেই এলাকাভিত্তিক ত্রাস এবং একাধিক হত্যা ও সন্ত্রাসবিরোধী মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি। তাদের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সন্ত্রাসী চক্রটির আর কারা নেপথ্যে রয়েছে এবং এই অস্ত্র দিয়ে নতুন কোনো নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কিনা-তা জানতে আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি চলছে।
জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত আসন্ন এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এই সফল অভিযানের বিস্তারিত ও নেপথ্যের চাঞ্চল্যকর তথ্য সংবাদমাধ্যমকে জানানো হবে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশের এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন ঝটিকা অভিযানে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন সাধারণ মানুষ।
অপরাধীদের ডেরা ভাঙতে পুলিশের এমন কঠোর অবস্থান অপরাধ জগতে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




