লোহাগাড়ায় জায়গা-জমির বিরোধে রণক্ষেত্র, একই পরিবারের তিনজন আহত

লোহাগাড়া প্রতিনিধি: 

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নোয়ারবিলা পূর্ব রাজঘাটা ফরেস্ট অফিসপাড়া এলাকায় জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় একই পরিবারের তিনজন আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

- Advertisement -

আহতরা হলেন ওই এলাকার আমিন শরীফের পুত্র মোঃ মহি উদ্দিন (৪০), তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা এবং তাদের মেয়ে জান্নাতুল মাওয়া (১৫)। মহি উদ্দিন পেশায় একজন কৃষক।

- Advertisement -
google news follower

গত ২৯ আগস্ট দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে বাড়ির পার্শ্ববর্তী ফসলি জমি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় আহত মহি উদ্দিন বাদী হয়ে একই এলাকার মৃত আবদুর রহমানের পুত্র মোঃ জসিম উদ্দিন (৪২), জসিমের ছেলে মোঃ রাসেল (১৯), জসিমের স্ত্রী মাবিয়া, মৃত আকবর আলীর স্ত্রী জহুরা বেগম, আবদুল গফুরের ছেলে বাবুসহ ৬ জনকে বিবাদী করে লোহাগাড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

- Advertisement -
islamibank

অভিযোগটি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ এসআই ইয়াছিন আরাফাতকে নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

থানায় দায়েরকৃত লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উল্লেখিত বিবাদীগণ পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভোগদখলীয় জায়গায় যাওয়া-আসার জন্য ব্যবহৃত একটি চলাচলের রাস্তা ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে ঘেরাবেড়া নির্মাণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরে বিভিন্ন লোকজনের মাধ্যমে ওই জায়গায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে ঘেরাবেড়া নির্মাণের বিষয়টি জানতে পেরে মহি উদ্দিন বিবাদীদের কাছে এর কারণ জানতে চান এবং এর প্রতিবাদ করেন। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।

একপর্যায়ে অভিযোগ অনুযায়ী, মোঃ জসিম উদ্দিনসহ তার সঙ্গে থাকা লোকজন মহি উদ্দিনের ওপর হামলা চালায়। তাকে লাথি, কিল ও ঘুষি মারার পাশাপাশি দা দিয়ে আঘাত করা হলে তিনি রক্তাক্ত জখম হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্বামীকে মারধরের চিৎকার শুনে তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেন মহি উদ্দিনের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা (৩০)।

অভিযোগে বলা হয়েছে, এ সময় তাকেও মারধর করা হয়। তাদের মেয়ে জান্নাতুল মাওয়া (১৫) এগিয়ে এলে তাকে চুলের মুঠি ধরে টানা-হেঁচড়া করা হয় বলেও লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহত অবস্থায় মহি উদ্দিন, তার স্ত্রী ও মেয়েকে উদ্ধার করে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মহি উদ্দিনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) প্রেরণ করেন। অন্যদিকে তার স্ত্রী ও মেয়েকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

আহত মহি উদ্দিন বলেন, জায়গা-জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে জসিমসহ দলবল নিয়ে আমার ওপর হামলা চালিয়েছে। আমার মাথায় রক্তাক্ত জখম হয়েছে। প্রতিপক্ষরা ক্ষিপ্ত হয়ে আমার স্ত্রী ও মেয়েকেও মারধর করেছে। আমি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। থানা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার কামনা করছি।

তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মোঃ জসিম উদ্দিন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, জায়গা নিয়ে তার বোন জহুরা বেগমের সঙ্গে মহি উদ্দিনের ঝগড়া সৃষ্টি হয়। তার বোনকে মারধর করা হচ্ছে শুনে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন।

অপর অভিযুক্ত জহুরা বেগম বলেন, তার একটি শশার ক্ষেত রয়েছে। প্রতিপক্ষরা তার সঙ্গে ঝগড়া করেছে। তার কোনো স্বামী নেই এবং মেয়েদের নিয়ে তিনি সংসার পরিচালনা করছেন।

ঘটনার খবর পেয়ে লোহাগাড়া থানার এসআই ইয়াছিন আরাফাত সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়ে প্রয়োজনীয় তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এসআই ইয়াছিন আরাফাতকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। তদন্ত করে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ