চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের নিলাম বিভাগ থেকে বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি লিমিটেডের (বিএমটিএফ) অনুকূলে ১১টি লটের পণ্য খালাসের অনুমতি দিয়ে ডেলিভারি অর্ডার জারি করা হয়েছে।
নিলামে বিক্রি হওয়া এসব পণ্যের বিপরীতে সংরক্ষিত মূল্যের ৬০ শতাংশ, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও আগাম আয়করসহ মোট ৩ কোটি ৫১ লাখ ৫৫ হাজার ২৬৪ টাকা ৬৩ পয়সা পরিশোধের তথ্য যাচাই শেষে এ অনুমতি দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) কাস্টমস হাউস, চট্টগ্রামের রেভিনিউ অফিসার অব কাস্টমস পীযূষ কুমার বিশ্বাস স্বাক্ষরিত আদেশে এ ডেলিভারি অর্ডার জারি করা হয়।
কাস্টমসের আদেশ অনুযায়ী, নিলামে বিক্রি হওয়া ১১টি লটের পণ্য হস্তান্তরের আগে নির্ধারিত অর্থ, ভ্যাট ও আগাম আয়কর পরিশোধের তথ্য যাচাই করা হয়েছে। যাচাইয়ে এসব তথ্য সঠিক পাওয়া যাওয়ার পর যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে পণ্য খালাসের অনুমতি দেওয়া হয়।
ডেলিভারি অর্ডারে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, ১১টি লটের বিপরীতে সংরক্ষিত মূল্যের ৬০ শতাংশ বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ২ কোটি ৮১ লাখ ২৪ হাজার ২১১ টাকা ৭০ পয়সা। ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডের গাজীপুর সেনানিবাস শাখার মাধ্যমে পে-অর্ডারে এ অর্থ জমা দেওয়া হয়।
এ ছাড়া মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) বাবদ ৪২ লাখ ১৮ হাজার ৬৩১ টাকা ৭৬ পয়সা এবং আগাম আয়কর বাবদ ২৮ লাখ ১২ হাজার ৪২১ টাকা ১৭ পয়সা পরিশোধ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে তিন খাতে পরিশোধের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৫১ লাখ ৫৫ হাজার ২৬৪ টাকা ৬৩ পয়সা। অর্থ পরিশোধের তথ্য যাচাই ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন শেষে পণ্য হস্তান্তরের পথ উন্মুক্ত হয়েছে।
ডেলিভারি অর্ডারের ছক অনুযায়ী, ১১টি লটে বিভিন্ন ধরনের শিল্পপণ্য, কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সামগ্রী রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো প্লাস্টিক স্ক্র্যাপ, মিথানল, ডুপ্লেক্স বোর্ড, জেডএফ মেরিন গিয়ারবক্স, স্টেনটার মেশিন ও এর আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম, আর্ট পেপার, গ্র্যানাইট টাইলস, মারলেক্স হাই-ডেনসিটি পলিইথিলিন (এইচডিপিই), অপরিশোধিত গ্র্যানাইট ব্লক এবং খালি কনটেইনার।
পণ্যগুলোর ধরন ভিন্ন হওয়ায় খালাসের ক্ষেত্রেও রয়েছে পৃথক শর্ত। বিশেষ করে প্লাস্টিক স্ক্র্যাপ ও মিথানলের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান এবং অনুমোদনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
প্লাস্টিক স্ক্র্যাপ খালাসের ক্ষেত্রে আমদানি নীতির প্রযোজ্য শর্ত অনুযায়ী, শিল্পের কাঁচামালের প্রকৃত ব্যবহারকারী ইন্ডাস্ট্রিয়াল আইআরসি-ধারীর অনুকূলে পণ্য খালাস করতে হবে।
অন্যদিকে, মিথানল খালাসের জন্য বিস্ফোরক অধিদপ্তর ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অনাপত্তিপত্র দাখিল করতে হবে। অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রেও ডেলিভারি অর্ডারে উল্লিখিত শর্তের পাশাপাশি নিলামসংক্রান্ত প্রযোজ্য বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে।
পণ্য খালাসের জন্য সময়সীমাও নির্ধারণ করে দিয়েছে কাস্টমস হাউস। আদেশ অনুযায়ী, ডেলিভারি অর্ডার জারির পর তিন কার্যদিবসের মধ্যে পণ্য খালাস নিতে হবে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য খালাস করা না হলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নিলামসংক্রান্ত স্থায়ী আদেশ এবং কাস্টমস হাউস, চট্টগ্রামের সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অর্থাৎ, ডেলিভারি অর্ডার জারির মধ্য দিয়ে পণ্য খালাসের অনুমতি মিললেও নির্ধারিত সময়সীমা ও পণ্যভিত্তিক শর্ত পরিপালন করতে হবে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে।
কাস্টমস হাউস সূত্রে জানা যায়, নিলাম কমিটির গত ৮ সেপ্টেম্বরের সভার সুপারিশের ভিত্তিতে ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে সংশ্লিষ্ট লটগুলোর বিক্রয়াদেশ জারি করা হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এরপর যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে পণ্য হস্তান্তরের জন্য ডেলিভারি অর্ডার জারি করা হয়।
এ বিষয়ে রেভিনিউ অফিসার অব কাস্টমস পীযূষ কুমার বিশ্বাস বলেন, নিলামসংক্রান্ত বিধিবিধান অনুসরণ করে নির্ধারিত অর্থ, ভ্যাট ও আগাম আয়কর পরিশোধের তথ্য যাচাই শেষে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে ডেলিভারি অর্ডার জারি করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে আমদানি নীতি এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনাপত্তিপত্রসহ প্রযোজ্য সব শর্ত পরিপালন করতে হবে।




