ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর মিরপুরে নাশকতার পরিকল্পনা ও অর্থায়নের অভিযোগ পেয়েছে পুলিশ।
পুলিশের তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী জাহাঙ্গীর আলম বিদেশে বসে এই অর্থের জোগান ও নির্দেশনা দিচ্ছেন; আর ঢাকায় তাদের হয়ে লোক সংগ্রহ ও সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন ইলিয়াস মোল্লার ভাগ্নে আলিফ মোল্লাহ এবং জাহাঙ্গীরের সহযোগী মাহবুবুর রহমান জুয়েল।
পুলিশের দাবি, শ্রমিকদের আন্দোলনে অংশ নেওয়া, মিছিল করা, টায়ারে আগুন দেওয়া, গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের জন্য আলাদা অঙ্কের টাকা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কাজের প্রমাণ হিসেবে ছবি ও ভিডিও পাঠানোর পর মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা দেওয়া হতো। গত রোববার মিরপুর এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ থেকে গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের ২৬ নেতাকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তাদের মোবাইল ফোন যাচাই করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশের দাবি, মিরপুর-পল্লবী এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান কচি এবং জাহাঙ্গীর আলম মিরপুরের পোশাকশিল্পে অস্থিরতা তৈরিতে অর্থায়ন করছেন। এসএম মান্নান কচি তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি। অন্যদিকে দুর্নীতির অভিযোগে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারীর পদ হারিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন জাহাঙ্গীর আলম। ২০২৫ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তারা আত্মগোপনে থাকায় এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
মিছিলে ৫০০, আগুনে ১০ হাজার টাকা
ডিবির তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শ্রমিকের ছদ্মবেশে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিক্ষোভে অংশ নিতে বলা হয়েছিল। আত্মগোপনে থাকা বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের নির্দেশনায় নাশকতার জন্য লোকজন জড়ো করা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, মিছিলে অংশ নিলে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা, টায়ারে আগুন দিলে ৩ হাজার টাকা এবং গাড়ি বা কোনো স্থাপনায় আগুন দিলে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের জন্য কোথাও কোথাও ৬ থেকে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার তথ্যও পেয়েছেন কর্মকর্তারা। কাজের প্রমাণ হিসেবে ছবি বা ভিডিও পাঠানো ছিল টাকা পাওয়ার অন্যতম শর্ত। কয়েকজন গ্রেপ্তার ব্যক্তি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা পেয়েছেন বলেও দাবি ডিবির।
ডিবি সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার ১১ জনের মধ্যে কেউ রংমিস্ত্রি, কেউ রিকশাচালক, কেউ রিকশার গ্যারেজে কাজ করেন; কেউ বা ফুটপাথের দোকানি। তাদের মোবাইল ফোনে বিভিন্ন অ্যাপসে ভিন্ন ভিন্ন নামে ২০ থেকে ২৫টি গ্রুপের সন্ধান পেয়েছেন গোয়েন্দারা। এসব গ্রুপে আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা ছবি ও ভিডিও পাঠিয়ে নিজেদের অবস্থান এবং তৎপরতার তথ্য দিতেন। গ্রেপ্তারকৃতদের মোবাইলে কাছ থেকে আগুনের ভিডিও করা ফুটেজ পাওয়া গেছে। ডিবি পুলিশ ওই পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার সময় বেশ কয়েকজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য পেয়ে পরে আরো বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।
ডিবির হাতে গ্রেপ্তার ১১ জন হলেন মাহবুবুর রহমান জুয়েল (৩৮), মো. কামাল গাজী (৩২), মো. ওলীউল্লাহ অনিক (২০), আলিফ হোসেন ইমন (২৬), মো. নাহিদ হাসান (১৮), আরিফ আকন্দ (২৯), মো. রমজান সরকার (১৮), মোয়াজ্জেম শাহরিয়ার ওরফে নিয়াজ (২৬), জুবায়ের ইসলাম জিসান (২২), আরিফ (১৮) ও মাহিম মোল্লা (১৮)।
মাঠপর্যায়ে সমন্বয়ে আলিফ ও জুয়েল
ডিবির তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, বিদেশ থেকে বিভিন্ন অনলাইন গ্রুপের মাধ্যমে নির্দেশনা দিতেন এসএম মান্নান কচি, জাহাঙ্গীর আলম ও ইলিয়াস মোল্লা। ঢাকায় তাদের হয়ে লোকবল সংগ্রহ ও সমন্বয়ের কাজ করছিলেন ইলিয়াস মোল্লার ভাগ্নে আলিফ মোল্লা এবং জাহাঙ্গীরের সহযোগী মাহবুবুর রহমান জুয়েল। জুয়েলের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী। তিনি দীর্ঘদিন জাহাঙ্গীরের সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। ইতোমধ্যে ইলিয়াস মোল্লার ভাগ্নে আলিফ মোল্লাকে ধরতে বেশ কয়েক জায়গায় অভিযান চালিয়েছে ডিবি।
এ ছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শুভ এবং মিরপুরের রূপনগর আওয়ামী লীগের সদস্য কামাল গাজীর নামও পেয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা। তাদের মধ্যে জুয়েল ও কামাল গাজী গত রোববার মিরপুর ১২ নম্বর এলাকা থেকে ডিবির হাতে গ্রেপ্তার হন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনে বিদেশে পলাতক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ছবি পাঠানোর তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি গোয়েন্দাদের।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিবির মিরপুর বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলনে যোগ দিয়ে নাশকতার উদ্দেশ্যে অন্তত ১০০ থেকে ১৫০ জন নেতাকর্মীকে জড়ো করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে কক্সবাজার, নোয়াখালী ও গাইবান্ধাসহ বিভিন্ন জেলার তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী রয়েছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অনেকে নিজ এলাকা ছেড়ে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিক ও দিনমজুর হিসেবে কাজ করছেন। পাশাপাশি তারা বিভিন্ন এলাকায় ঝটিকা মিছিলসহ নানা কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
ওই কর্মকর্তা জানান, এসব ব্যক্তি সাধারণ শ্রমিকের ছদ্মবেশে মিরপুর ২, ১০, ১১ ও ১২ নম্বরসহ আশপাশের এলাকায় অবস্থান নেন। পরে অনলাইন গ্রুপের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট স্থানে জড়ো হয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে মিশে যান। পুলিশের তৎপরতা বুঝে দূর থেকে তাদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হতো।
ডিবি সূত্রে জানা যায়, মাঠ পর্যায়ে এসব কর্মীদের বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে তাদের কাছে টাকা পাঠানো হতো। আসামিদের গ্রেফতারের পর তাদের কাছ থেকে পাওয়া বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং এ আসা টাকা কোথা থেকে আসতো সেই উৎস নিয়ে কাজ করছেন। এরা দলভেদে দেড়শ থেকে ২০০ জনের মতো এসে বিভিন্ন জায়গায় গ্রুপ অনুসারে ভাগ হয়ে নাশকতার কাজ চালাত। তাদের ধরার জন্য ওই এলাকার বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কন্ট্রোল রুমের ফুটেজ ও আশেপাশের বিভিন্ন বাসা প্রতিষ্ঠানের ফুটেজ যাচাই করছে ডিবি পুলিশ।
হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সক্রিয় আরিফ
ডিবির তদন্তে আরিফ আকন্দ (২৯) নামে এক ব্যক্তির নামও এসেছে। তিনি যুবলীগ ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
আরিফের বাবার নাম মৃত শফিকুল ইসলাম এবং মায়ের নাম সাজেদা বেগম। তার গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার খিদির পূর্বপাড়ায়। বর্তমানে তিনি রাজধানীর রূপনগর থানার বর্ধিত পল্লবী এলাকার ব্লক-এফে বসবাস করেন।
প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা গেছে, ‘মেরিল্যান্ড আওয়ামী লীগ’, ‘সবুজ বাংলা চেতনা মুক্তিযুদ্ধ ৭১’, ‘স্পিরিট ৭১’, ‘শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের প্রত্যাশা’, ‘বঙ্গবন্ধু আদর্শ গেরিলা ৭১’, ‘সংগঠন ৭১’, ‘ঢাকা জেলা গেরিলা ৭১’, ‘ঢাকা বিভাগ গেরিলা ৭১’, ‘পটুয়াখালী জেলা গেরিলা ৭১’, ‘ঢাকা মহানগর উত্তর’, ‘বঙ্গবন্ধু আদর্শ ৭১’, ‘আমরা সবাই শেখ হাসিনার সৈনিক’, ‘গেরিলা ৭১ রংপুর জেলা’, ‘বিপ্লবী চট্টলা’ এবং ‘পল্লবী রূপনগর পরিচ্ছন্ন যুবলীগের সংগ্রাম পরিষদ’সহ বিভিন্ন সংগঠন ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সঙ্গে তিনি যুক্ত।
এ ছাড়া রূপনগরের শুভ ও আলিফ তাকে একটি প্রোগ্রামে অংশ নেওয়ার জন্য ডেকেছিলেন বলেও তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।
আলিফের নির্দেশে পুলিশের গাড়িতে আগুন
পুলিশের দাবি, গত রোববার মিরপুর ১০ নম্বরে শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘর্ষ চলাকালে অনলাইন গ্রুপে বার্তা পাঠান ইলিয়াস মোল্লার ভাগ্নে আলিফ মোল্লা। তিনি নেতাকর্মীদের মিরপুর ২ নম্বরের লাভ রোডে জড়ো হওয়ার নির্দেশ দেন। পরে সেখান থেকে তাদের মিরপুর ১১ নম্বর মেট্রো স্টেশনের নিচে পাঠানো হয়।
পুলিশ সংঘর্ষ সামাল দিতে ব্যস্ত থাকার সুযোগে মেট্রো স্টেশনের নিচে থাকা পুলিশের একটি গাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। পরে সেই ঘটনার ছবি ও ভিডিও আলিফের কাছে পাঠানো হয় বলে দাবি তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। গতকাল গ্রেপ্তার হওয়া একাধিক ব্যক্তির মোবাইল ফোনে এ-সংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা। আলিফকে গ্রেপ্তারে একাধিক স্থানে অভিযান চালানো হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
গাড়িতে আগুন দেওয়ার পোস্ট দিয়ে গ্রেপ্তার
মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের সময় পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে রাজিব চন্দ্র দাস নামে এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার রাতে রাজধানীর উত্তরার ৯ নম্বর সেক্টর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ। পরে তাকে পল্লবী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রাজিব প্যারাগন গ্রুপের ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন। তিনি শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলা ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছে পুলিশ। গাড়িতে আগুন দেওয়ার ছবি ও ভিডিও বিভিন্ন নেতার কাছে পাঠানোর তথ্যও পাওয়া গেছে বলে দাবি পল্লবী থানা পুলিশের।
দুই দিনে গ্রেপ্তার ৫০
গত রোববার মিরপুর ১১ নম্বরে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ থেকে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় মিরপুরের তিন থানায় চারটি মামলা করেছে পুলিশ। মামলাগুলোতে অন্তত ১০ হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশের ওপর হামলা, ট্রাফিক পুলিশ বক্স ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ এবং সরকারি গাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এসব মামলায় দুই দিনে থানা পুলিশ ও ডিবি অন্তত ৫০ জন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। এর মধ্যে গত রোববার গ্রেপ্তার হওয়া ২৬ জনকে সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। তাদের তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। শুনানি শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গ্রেপ্তার ২৬ জনের মধ্যে পল্লবী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা একটি মামলায় ১৩ জন, বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ও দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় করা আরেকটি মামলায় ৭ জন এবং মিরপুর মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় ৬ জন রয়েছেন।
এদিকে একই দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো সোমবারও মিরপুরে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন শ্রমিকরা। তবে তাদের সড়কে নামতে বাধা দেয় পুলিশ। দুই দফায় আন্দোলনকারীরা সড়কে নামার চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার আবু নাসের রিকাবদার বলেন, পুরো বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই করে আরও কয়েকটি মামলার প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম ও প্রিভেনশন উত্তর) মো. মহিদুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের সঙ্গে দুষ্কৃতকারীরা রয়েছে। যারা আইন অমান্য করছে, আইন লঙ্ঘন করছে কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছে, তারা পুলিশের দৃষ্টিতে অপরাধী। তাদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
নাশকতাকারীদের ছাড় দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
শ্রমিকদের সামনে রেখে নাশকতাকারীদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। সোমবার সচিবালয়ে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি বলেন, যারা শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং দেশে অস্থিরতা ও সহিংসতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কিছুদিন ধরে পতিত স্বৈরাচারের পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত কিছু পক্ষ নিরীহ শ্রমিকদের ব্যবহার করে সড়ক-মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে ও অবরোধ সৃষ্টি করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। অথচ প্রকৃত শ্রমিক ও তাদের সংগঠনের নেতারা কখনোই নিজেদের কর্মসংস্থান বিনষ্ট হোক বা শিল্পকারখানায় অস্থিতিশীলতা তৈরি হোক, তা চান না।
তিনি আরও বলেন, সহিংসতা ও ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত চিহ্নিত ইন্ধনদাতা এবং কয়েকজন শিল্পমালিককে ইতিমধ্যে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। অডিও-ভিডিও প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেএন/এমআর




