সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো, গ্রেডের অসংগতি এবং বিভিন্ন ধরনের ভাতা নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনায় বসছে সরকার।
এ লক্ষ্যে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ আরও চার মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। একই দিনে এ বিষয়ে সরকারি গেজেটও প্রকাশ করা হয়।
সরকার গঠিত ছয় সদস্যের এ কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে। অন্য সদস্যরা হলেন-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন (বকুল) ও জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীদের বেতনস্কেলের বিভিন্ন অসংগতি নিয়ে ইতোমধ্যে পাওয়া অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করবে কমিটি। এসব অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে নিষ্পত্তির বিষয়ে প্রয়োজনীয় সুপারিশ সরকারের কাছে তুলে ধরবে তারা।
শুধু বিদ্যমান সমস্যার সমাধানই নয়, ভবিষ্যতে সরকারি কর্মচারীদের বেতন গ্রেড উন্নীতকরণ, অবনমন এবং বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধানের বিষয়েও সুপারিশ দেওয়ার দায়িত্ব পালন করবে এ কমিটি।
অর্থাৎ, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামোর বিদ্যমান অসংগতি চিহ্নিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে গ্রেড ব্যবস্থাপনা আরও সুসংগত করার বিষয়টিও পর্যালোচনার আওতায় আসছে।
কমিটির দায়িত্বের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সরকারি কর্মচারীদের বিভিন্ন ভাতা পর্যালোচনা।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন করে ঝুঁকিভাতা ও অন্যান্য ভাতা চালুর প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করবে কমিটি। পাশাপাশি বর্তমানে প্রচলিত বিভিন্ন ভাতার হার কমানো বা বাড়ানোর বিষয়েও পর্যালোচনা করে সুপারিশ দেওয়া হবে।
এ ছাড়া ভাতাসংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ও কমিটির বিবেচনায় থাকবে। ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামোর পাশাপাশি আর্থিক সুযোগ-সুবিধার বিভিন্ন দিকও উঠে আসবে এ পর্যালোচনায়।
কমিটির কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও নীতিগত সহায়তা দেবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব বা সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থ বিভাগের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবরা।
প্রয়োজনে কমিটি নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষমতাও রাখবে। প্রজ্ঞাপনে আরও জানানো হয়েছে, প্রয়োজন অনুযায়ী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। আর কমিটির সাচিবিক সহায়তার দায়িত্ব পালন করবে অর্থ বিভাগ।
সরকারি কর্মচারীদের বেতন গ্রেডের অসংগতি, গ্রেড উন্নীতকরণ, অবনমন, ঝুঁকিভাতা এবং অন্যান্য আর্থিক সুযোগ-সুবিধা-সব মিলিয়ে বিস্তৃত পরিসরে কাজ করবে ছয় সদস্যের এ কমিটি।
তবে কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে বেতন-ভাতায় কী ধরনের পরিবর্তন আসবে, তা এখনই নিশ্চিত নয়। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে কমিটির পর্যালোচনা, সুপারিশ এবং সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।
এখন সরকারি চাকরিজীবীদের আগ্রহের কেন্দ্রে থাকবে কমিটির কার্যক্রম এবং তাদের সুপারিশে বেতন কাঠামো ও বিভিন্ন ভাতার ক্ষেত্রে কী পরিবর্তনের প্রস্তাব উঠে আসে।




