রাজিয়াদের পাসপোর্টের প্রতীক্ষার শেষ কবে?

প্রিয়তোষ বড়ুয়া ফটিকছড়ির ধর্মপুরের বাসিন্দা। গত ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি নতুন পাসপোর্টের জন্য নগরের মনসুরাবাদ পাসপোর্ট অফিসে আবেদন করেন। আবেদনের পর তাকে একটি ডেলিভারি স্লিপ দেওয়া হয়। যেখানে পাসপোর্ট সরবরাহের সম্ভাব্য তারিখ দেওয়া হয় ৩ মার্চ। তবে মার্চ মাস শেষ হয়ে এপ্রিল মাস চলে আসলেও এখনো পাসপোর্ট হাতে পাননি তিনি।

- Advertisement -

নগরের পতেঙ্গার কাঠগড় এলাকার বাসিন্দা রাজিয়া সুলতানা ছয় হাজার টাকা পরিশোধ করেন জরুরি পাসপোর্টের জন্য। ১২ মার্চ পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার কথা ছিল তার। মার্চ ঘুরে এখন এপ্রিল মাস এসেছে। কিন্তু এখনও পাসপোর্ট পাননি তিনি।

- Advertisement -
google news follower

একই অবস্থা রাউজানের নোয়াপাড়ার অমর সেনের। তার পাসপোর্টের সম্ভাব্য ডেলিভারি তারিখ ছিল ৭ মার্চ। কিন্তু এখনো তিনি পাসপোর্ট পাননি।

অথচ তিনজনই সব ধরনের ফি যথাসময়ে প্রদান করেছেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ করেছেন।

- Advertisement -
islamibank

শুধু প্রিয়তোষ কিংবা অমর নন, চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকার মানুষ এখন যথাসময়ে পাসপোর্ট না পাওয়ার ভোগান্তিতে ভুগছেন। নিয়ম অনুযায়ী সবকিছু করেও যথাসময়ে পাসপোর্ট না পাওয়ায় তাদের মধ্যে হতাশা কাজ করছে। অনেকে চিকিৎসাসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য জরুরি পাসপোর্টের আবেদন করেও যথাসময়ে পাসপোর্ট পাচ্ছেন না। কর্তৃপক্ষও বিষয়টির কোনো সদুত্তর দিতে পারছে না।

জাতীয় তথ্য বাতায়নে বলা হয়েছে, ‘পাসপোর্ট প্রদানের সময়সীমা প্রার্থীর প্রয়োজন অনুসারে নির্ধারিত হয়। প্রার্থী অতি জরুরি (৭২ ঘণ্টার), জরুরি (১১-২১ দিনের মধ্যে) এবং সাধারণ (২১-৩০ দিনের মধ্যে) সময়সীমার জন্য অথবা তার প্রয়োজনের ভিত্তিতে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারে।’

এদিকে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করার পর যে ডেলিভারি স্লিপ দেওয়া হয় তার নিচে একটি নির্দেশনা দেওয়া থাকে। আবেদনকারীর পাসপোর্টের এমআরপি এনরোলমেন্ট আইডি নাম্বারটি লিখে ৬৯৬৯ নাম্বারে এসএমএস করলে তার পাসপোর্টটি বর্তমানে কী অবস্থায় আছে সেটি জানানো হয়। কিন্তু অনেকেই এ নাম্বারে এসএমএস করে ফিরতি কোনো এসএমএস পাননি অথবা অনেকে তার পাসপোর্ট এখনো তৈরি হয়নি-এ ধরনের ফিরতি এসএমএস পেয়েছেন। কিন্তু কেন তাদের পাসপোর্ট নির্ধারিত সময়ে দেওয়া হচ্ছে না, তা কাউকেই জানানো হচ্ছে না।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে নতুন পাসপোর্টের সংকট রয়েছে। এজন্য সিঙ্গাপুরে ২০ লাখ নতুন পাসপোর্টের অর্ডার দেওয়া হয়েছে। পাসপোর্টগুলো এলেই গ্রাহকদের তাদের পাসপোর্ট দেওয়া হবে। তবে সেগুলো কখন আসবে সেটির নিশ্চয়তা কর্তৃপক্ষ দিতে পারছে না। এছাড়া অনেক গ্রাহকের পাসপোর্ট তৈরি হয়ে গেলেও ঢাকা কেন্দ্রীয় পাসপোর্ট কার্যালয়ে তা নানা জটিলতায় আটকে আছে।

ভুক্তভোগী অমর সেন জয়নিউজকে বলেন, আমি হার্টের রোগী। উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়া বিশেষ প্রয়োজন। পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছি দুই মাস আগে। এখনো পাসপোর্ট হাতে পাইনি। ডেলিভারি স্লিপে সম্ভাব্য ডেলিভারির তারিখ দেওয়া ছিল ৭ মার্চ। এখন এপ্রিল মাস চলে এল, পাসপোর্টের খবর নেই। পাসপোর্ট ছাড়া চিকিৎসার জন্য ভারতেও যেতে পারছি না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মনসুরাবাদ বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের উপ-পরিচালক আবু নোমান মো. জাকির হোসাইন জয়নিউজকে বলেন, ডেলিভারি স্লিপে সম্ভাব্য তারিখ দেওয়া থাকে। তাতে এটা বোঝায় না যে সেদিনই পাসপোর্ট দেওয়া হবে। ওই তারিখের দুই দিন পরেও পাসপোর্ট পেতে পারে আবার দুই মাস পরেও পেতে পারে। কারণ পাসপোর্ট ইস্যু করার আগে অনেক বিষয় যাচাই-বাছাই করতে হয়। প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্তের গরমিল ও নানা বিষয়ে অসঙ্গতি থাকলে পাসপোর্ট সরবরাহে দেরি হয়। তবে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করি যাতে গ্রাহককে তার পাসপোর্ট দ্রুত বুঝিয়ে দেওয়া যায়।

পাসপোর্ট সংকট ও নতুন ২০ লাখ পাসপোর্টের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

জয়নিউজ/জুলফিকার
KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ