সরকার ন্যায্যমূল্যে ধান কেনার ঘোষণা দেওয়ার পর কৃষক যাতে ধানের ন্যায্য দাম পায়, সেটি নিশ্চিত করতে গ্রামে গিয়ে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে সরকারি মূল্যে ধান কিনছেন হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুহুল আমীন।
শুক্রবার (২৪ মে) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার গুমানমর্দন ইউনিয়নের প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে তিনি ধান কেনেন।
সরকার নির্ধারিত মূল্য প্রতি কেজি ২৬ টাকা দরে ধান বিক্রি করতে পেরে এবং ইউএনও’র এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেন ধান বিক্রি করতে আসা কৃষকেরা।
এ সময় কৃষকের কাছ থেকে পরীক্ষা করে ৩ হাজার কেজি বোরো ধান ২৬ টাকা দরে সংগ্রহ করেন তিনি।
যদিও বুধবার (২২ মে) উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের চারিয়া এলাকার কৃষক মো. ওসমান প্রতি কেজি ২৬ টাকা দরে ২৪০ কেজি ধান ক্রয়ের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন ইউএনও।
উপজেলা খাদ্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর উপজেলা খাদ্য বিভাগ ১০৭ মেট্রিক টন ধান সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে সংগ্রহ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। যা আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ধান সংগ্রহ অভিযান চলবে।
অপরদিকে, মিল মালিকদের কাছ থেকে চাল সংগ্রহ করা হবে ১৭৯ মেট্রিক টন। এক্ষেত্রে চালের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ টাকা প্রতি কেজি।
সূত্র আরও জানায়, একজন কৃষক একসঙ্গে ৩ টন পর্যন্ত ধান বিক্রি করতে পারবে।
ধান বিক্রি করতে আসা উপজেলার গুমানমর্দন এলাকার প্রান্তিক কৃষক মো.আলী ও মো. আলাউদ্দীন জয়নিউজকে বলেন, ধানের দাম নিয়ে হতাশায় ভুগছিলাম। কিন্তু সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনায় আমি ধানের ন্যায্যমূল্য পেয়েছি। এভাবে প্রতিবছর কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনলে আমরা উপকৃত হব।
এ ব্যাপারে ইউএনও রুহুল আমীন জয়নিউজকে বলেন, কঠোর পরিশ্রম করে ফসল ফলানোর পরও ন্যায্যদাম পান না কৃষক। এবার ধান সংগ্রহে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী যাতে সুযোগ নিতে না পারে এবং কৃষক যাতে ধানের ন্যায্যমূল্য পায় সে জন্য সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয় কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলার গুমানমর্দন ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিয়াজ মোর্শেদ, উপজেলার ১১ মাইল খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনির হোসেন, ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. আবু তৈয়ব ও জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী।