‘সরকার প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ’

সরকার প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের নেতারা। তারা বলেন, দেশে রেমিটেন্স পাঠনো এই শ্রমিকদের নিরাপত্তায় সরকার কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। প্রবাসী কল্যাণ সংস্থা ও দূতাবাসগুলো তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছে না। এসকল অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার বিচার যদি হতো তাহলে শত শত গৃহশ্রমিককে আজ লাশ হয়ে ফিরতে হতো না।

- Advertisement -

শুক্রবার (১ নভেম্বর) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম নেতৃবৃন্দ এইসব কথা বলেন। সৌদি আরবে নারী গৃহশ্রমিক নির্যাতন-হত্যা বন্ধ ও প্রবাসী নারীশ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

- Advertisement -
google news follower

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম এর কেন্দ্রীয় সভাপতি রওশন আরা রুশো। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শম্পা বসুর পরিচালনায় সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন মহিলা ফোরাম এর ঢাকা নগর শাখার সদস্য রুখসানা আফরোজ আশা, নারীনেত্রী প্রীতিলতা, ঢাকা নগর সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি জুলফিকার আলী ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় সভাপতি আল কাদেরী জয় ।

বক্তারা বলেন, সৌদি আরবে অমানুষিক নির্যাতনে নাজমা বেগম (৪০) নামে মানিকগঞ্জের এক নারী শ্রমিক মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর ১ মাস ২৪ দিন পর গত ২৪ অক্টোবর দেশে আসে নাজমা বেগমের মৃতদেহ। সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরাতে ১০ মাস আগে মো. সিদ্দিক নামের এক দালালের মাধ্যমে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা খরচ করে সৌদি আরবে পাড়ি জমান নাজমা। সেখানে তাকে একটি হাসপাতালের পরিছন্নতাকর্মীর কাজ দেওয়ার কথা থাকলেও তাকে গৃহকর্মী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু যে বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন সেখানে শুরু থেকেই চরম নির্যাতনের সম্মুখীন হন নাজমা। বাড়ির মালিকের ছেলে তাকে যৌন নির্যাতন করতেন। কথা না শুনলে বেধড়ক মারপিটও করা হতো তাকে। এমনকি ওই বাড়ির অন্যান্যরাও সুযোগ পেলেই তার ওপর পাশবিক অত্যাচার চালাতেন। মৃত্যুর দু’দিন আগেও নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য স্বজনদের কাছে আকুতি জানান নাজমা। কিন্তু অর্থাভাবে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। তিনি নির্যাতনের কথা জানিয়ে সৌদি আরবের বাংলাদেশী দূতাবাসে ফোনও করেছিলেন; কিন্তু তাকে কেউ সহযোগিতা তো করেইনি উল্টা গালিগালাজ করেছে। এভাবে গত দশমাসে সৌদিসহ বিভিন্ন দেশ থেকে লাশ হয়ে ফিরেছেন ১১৯ নারী গৃহকর্মী।

- Advertisement -
islamibank

বক্তারা আরো বলেন, নির্যাতনের অভিযোগে ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইন সৌদিতে গৃহকর্মী পাঠানো বন্ধ করে দিলে ২০১৫ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করে সৌদি আরব। এরপর থেকে গত জুলাই মাস পর্যন্ত ৩ লাখ নারী কর্মী গেছেন সৌদি আরবে। দুই বছরের চুক্তিতে যাওয়া নারী গৃহকর্মীরা মাসে বেতন পান বাংলাদেশী টাকায় মাত্র ১৭ হাজার টাকা। চুক্তি অনুযায়ী গৃহকর্মীদের বিনা খরচে সৌদি আরব যাওয়ার কথা। কিন্তু দেখা যায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ১০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা লেগে যায় সৌদি আরব যেতে। নির্যাতনের শিকার হয়ে এইবছর জানুয়ারি থেকে আগস্ট এই ৮ মাসে দেশে পিরেছেন ৮৫০জন নারী। এর মধ্যে আগস্ট মাসে একদিনেই ফিরেছেন ১০৯জন। তাদের অনেকে সেখানে শারীরিক-মানসিক ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। গত বছর ফিরেছেন ১হাজার ৩৫৩জন নারী। ফেরত আসা নারীশ্রমিকদের তথ্য মতে প্রবাসী নারী শ্রমিকের ৬১% শারীরিক নির্যাতন, ১৪% যৌন নিপীড়ন, ৫২% দীর্ঘশ্রম, নির্যাতনজনিত অসুস্থতা ৬৩%, ৮৬% বেতন পান।

সমাবেশ থেকে নাজমা হত্যার বিচার দাবি করা হয়। এই হত্যার সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বিচারের আওতায় আনতে সরকারকে অবিলম্বে কূটনৈতিক ও আইনী পদক্ষেপ নেয়ার জোর দাবি জানানো হয়।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

জয়নিউজ/পার্থ/পিডি

KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ