বিজয়ের মাসেও রেহাই পেল না মুক্তিযোদ্ধা

রাউজানে এক মুক্তিযোদ্ধার উপর একের পর এক তাণ্ডব চালাচ্ছে দুষ্কৃতিকারীরা। শুরুটা হয় তাঁর মালিকানাধীন মার্কেটে আগুন লাগিয়ে। দুষ্কৃতিকারীদের এতটাই স্পর্ধা, বিজয়ের মাসেও রেহাই দেওয়া হয়নি ওই মুক্তিযোদ্ধাকে। এবার দুষ্কৃতিকারীরা আগুনে দিয়েছে তাঁর ঘর ও গ্যারেজে।

- Advertisement -

দুষ্কৃতিকারীদের একের পর এক তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ওই মুক্তিযোদ্ধার নাম আবু জাফর চৌধুরী। তিনি রাউজান উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্বা বিষয়ক সম্পাদক।

- Advertisement -
google news follower

জানা যায়, ৩ ডিসেম্বর রাত ৩টার দিকে ৭নং রাউজান ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামে মুক্তিযোদ্ধা আবু জাফরের শয়নকক্ষে আগুন লাগিয়ে দেয় দুষ্কৃতিকারীরা। এতে ঘরের আসবাবপত্র, জমির দলিলপত্রসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিস পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তবে আগুন লাগানোর সময় আবু জাফর চৌধুরী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ঘরে ছিলেন না ।

এর আগে রাত পৌনে ৩টার দিকে আগুন লাগিয়ে দেওয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশে তাঁর অটোরিকশা রাখার গ্যারেজে। গ্যারেজের ভাড়টিয়া ইউছুপ আগুন দেখে চিৎকার শুরু করলে স্থানীয় লোকজন এসে আগুন নেভান।

- Advertisement -
islamibank

কাজী আবদুল হামিদ নামে এক প্রতিবেশী জয়নিউজকে জানান, ঘুমের মধ্যে শরীরে গরমের তাপ লাগায় জেগে উঠি। দেখি মুক্তিযোদ্ধা আবু জাফর চৌধুরীর ঘরে আগুন জ্বলছে। এলাকার লোকজন মসজিদের মাইকে ঘটনা প্রচার করলে স্থানীয় শত শত লোকজন আগুন নেভাতে এগিয়ে আসে। রাত সাড়ে তিনটার দিকে রাউজান ফায়ার স্টেশনের কর্মীরা আসার আগেই আগুন নিভিয়ে ফেলে স্থানীয় লোকজন।

৩ ডিসেম্বর সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রাউজান থানার ওসি তদন্ত মীর হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল।

এর আগে ২৮ নভেম্বর শুক্রবার রাতে উপজেলার রমজান আলী হাট এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা আবু জাফরের মালিকাধীন মাকের্টে আগুল লাগিয়ে দেয় দুস্কৃতকারীরা। এতে মাকের্টের রবি নাথ ও লক্ষী নাথের দোকান এবং পাশে আবদুল মোনাফ কোম্পানীর মালিকাধীন গাউছিয়া ডেকোরোটার্স পুড়ে ছাই হয়ে যায়। সবমিলিয়ে ক্ষতি হয় কোটি টাকার।

এদিকে মুক্তিযোদ্ধা আবু জাফরের ঘরে আগুন লাগানোর ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছেন মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধিসহ স্থানীয়রা। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষোভ জানিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা কাজী আবদুল ওহাব, উপজেলা যুবলীগ সভাপতি জমির উদ্দিন পারভেজ, মুক্তিযোদ্ধা ইউছুপ খান, সাধন পালিত, সুনিল চক্রবর্তী, চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা রফিক, চেয়ারম্যান বিএম জসিম উদ্দিন হিরু ও রাউজান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন।  তারা অবিলম্বে দুষ্কৃতিকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

অবশ্য এ ঘটনায় ইতোমধ্যে রাউজান থানায় নাশকতার মামলা দায়ের করেছেন মুক্তিযোদ্ধা আবু জাফর। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ১০/১২ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জয়নিউজকে জানান রাউজান থানার এস আই নুর নবী।

জয়নিউজ

KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ