এরশাদের হাজার কোটি টাকার হিসাবনিকাশ

প্রয়াত জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ছিল বিপুল সম্পদ। এই বিপুল সম্পদের কিছু অংশ নিজের গড়া ট্রাস্টে দান করে গেছেন, কিছু সম্পদ আত্মীয়-স্বজন ও পালিত ছেলে-মেয়েদের মাঝেও বণ্টন করে দিয়েছেন।

- Advertisement -

বিলি বন্টন করার পরও তাঁর নামে কয়েক শ কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে যা কাউকে দেওয়া হয়নি। এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিক বারিধারার প্রয়াত রাষ্ট্রপতির বাসভবন ‘প্রেসিডেন্ট পার্কে’ অবস্থান করছেন । যদিও তাঁর দাবি, বাবাহারা প্রতিবন্ধী সন্তান এরিককে দেখাশোনার জন্যই তিনি বাসভবনটিতে থিতু হয়েছেন। তবে এ নিয়ে নানা গুঞ্জন- এই সম্পদের মালিক কে হচ্ছেন?

- Advertisement -
google news follower

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট পার্কে বিদিশা অবস্থান নেওয়ার পরপরই হঠাৎ এরশাদের নিয়োগ দেওয়া পুরনো সব কর্মচারীকে বিদায় করে দেওয়া হয়েছে। জাতীয় পার্টিতে এরশাদের ভাই জি এম কাদের বিরোধী হিসেবে পরিচিতদের নিয়ে পুনর্গঠন করা হয়েছে ‘এরশাদ ট্রাস্ট’।

এরশাদের পরিবার ও জাতীয় পার্টিসংশ্লিষ্ট অনেকেই বলছেন, কেবল সন্তানের জন্য প্রেসিডেন্ট পার্কে থাকলে এসব পরিবর্তন কেন? তাঁদের ভাষ্য, ট্রাস্টের বাইরে থাকা এরশাদের বিপুল সম্পদে ভাগ বসাতে বিদিশা তৎপর। এছাড়া জাতীয় পার্টির রাজনীতিতেও আসন গেড়ে বসতে চান তিনি।

- Advertisement -
islamibank

বিদিশা অবশ্য করোনাকালে এসব বিষয়ে কথা বলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন। মহামারি-পরবর্তী সময়ে সব প্রশ্নের উত্তর দেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

২০১৯ সালের ৭ এপ্রিল এরশাদ নিজের নামে ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর দান করা সম্পদের তালিকায় রয়েছে—বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্ক, গুলশানের দুটি ফ্ল্যাট, বাংলামোটরের একটি দোকান, রংপুরের একটি কোল্ড স্টোরেজ, রংপুরে এরশাদের বাড়ি ‘পল্লী নিবাস’, রংপুর জাতীয় পার্টির কার্যালয় এবং ব্যাংকে রাখা ১০ কোটি টাকার ফিক্সড ডিপোজিট।

ট্রাস্টের অসিয়তনামায় বলা হয়েছে, ট্রাস্টের আয় থেকে তাঁর ছেলে শাহতা জারাব এরিক এরশাদের ভরণ-পোষণের পর উদ্বৃত্ত অর্থ সামাজিক কাজে ব্যয় করা হবে।

এরশাদ তাঁর গুলশান-২-এর বাড়িটি রওশন এরশাদকে দিয়েছেন বহু আগেই। পালিত ছেলে আরমানকে দেওয়া হয়েছে গুলশানের একটি ফ্ল্যাট। রংপুরের সম্পত্তি পেয়েছেন ভাই জি এম কাদের ও ভাতিজা আতিক শাহরিয়ার। কয়েক বছর আগে চলচ্চিত্র পরিচালক শফি বিক্রমপুরীর কাছ থেকে কেনা ঢাকার কাকরাইলে জাতীয় পার্টির প্রধান কার্যালয়টি এরশাদের নামে ছিল। এটি তিনি পার্টিকে দান করে গেছেন।

তবে একাধিক সূত্রে জানা গেছে, এর বাইরেও এরশাদের অনেক সম্পদ রয়েছে। ২০১৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় হলফনামায় এরশাদ উল্লেখ করেন, তাঁর বার্ষিক আয় এক কোটি আট লাখ টাকা। আয়ের উৎস ইউনিয়ন ব্যাংক থেকে পাওয়া বার্ষিক সম্মানীর ৭৪ লাখ টাকা এবং বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার থেকে পাওয়া সম্মানী। সূত্র মতে, ইউনিয়ন ব্যাংকে এরশাদের ৪০০ কোটি টাকার শেয়ার রয়েছে, যা তিনি কাউকে দিয়ে যাননি। এছাড়া রয়েছে গুলশান ও বনানীতে দুটি করে ফ্ল্যাট, সাভারে ৫০ একর জমি, জাপার এক সাবেক মহাসচিবের কাছে ২০০ কোটি টাকা, একজন অতিরিক্ত মহাসচিবের কাছে ১৭ কোটি টাকা, সাবেক এক ব্যক্তিগত কর্মকর্তার কাছে ৪০ কোটি টাকা এবং প্রেস উইংয়ের কাজে জড়িত একজনের কাছে ৩৫ কোটি টাকা গচ্ছিত রয়েছে।

জাতীয় পার্টির একটি সূত্র জানায়, বিদিশার রাজনীতির অভিলাষ পূরণে মাঠে নেমেছেন পার্টির দুই নেতা। তিনি নাকি জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির অতিরিক্ত মহাসচিব পদ চান, পাশাপাশি রাজশাহী বিভাগের দায়িত্ব পেতে আগ্রহী। সূত্র মতে, এরই মধ্যে সম্পদের হিস্যা নিয়ে রওশন এরশাদের সঙ্গে বিদিশার আলো-আঁধারের একটি যোগাযোগ হয়েছে এবং সেই যোগাযোগের ফলেই এরিকের জন্মদিনে প্রেসিডেন্ট পার্কে গিয়েছিলেন সাদ এরশাদ।

তবে এ প্রশ্নে একরকম এড়িয়ে গেলেন বিদিশা সিদ্দিক। জবাবে তিনি বলেন, এখন করোনার সময়, আপনি আমাকে করোনার বিষয়ে প্রশ্ন করতে পারেন। অন্য কোনো বিষয়ে ফোনে জবাব দেব না।

জয়নিউজ/পিডি
KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ