আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন

আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রত্যাহার সমাপ্ত হয়েছে। সোমবার (৩০ আগস্ট) সর্বশেষ মার্কিন সেনাকেও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

- Advertisement -

যদিও তালেবান শাসন থেকে বাঁচতে এখনো হাজার হাজার আফগান নাগরিক দেশ ছাড়তে মরিয়া। ইতিমধ্যে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের হামলায় ১৩ আমেরিকান সেনাকে প্রাণ দিতে হয়েছে।

- Advertisement -
google news follower

সোমবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে পেন্টাগন বলেছে, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরে সন্ত্রাসী হামলার পর গত দুদশকের মধ্যে এই প্রথম কোনো মার্কিন সেনার উপস্থিতি নেই আফগানিস্তানে।

যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘতম যুদ্ধের সমাপ্তি ঘিরে তৈরি হওয়া আবেগঘন পরিবেশকে ‘হৃদয় বিদারক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন মার্কিন মেরিন জেনারেল ফ্রাংক ম্যাকাঞ্জি। এর আগে আমেরিকান নাগরিক ও ঝুঁকিপূর্ণ আফগানদের সরাতে অক্লান্ত ও বিপজ্জনক পরিশ্রম করতে হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের।

- Advertisement -
islamibank

মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের প্রধান জেনারেল ম্যাকাঞ্জি বলেন, এই প্রত্যাহারের সঙ্গে অনেক হৃদয়বিদারক ঘটনা জড়িত। আমরা সবাইকে সরিয়ে আনতে পারিনি। যদিও তাদের সঙ্গে করে নিয়ে আসতে চেয়েছিলাম।

আফগানিস্তানে মার্কিন শীর্ষ কূটনীতিক রস উইলসন কাবুল বিমানবন্দরের সর্বশেষ সি-১৭ সামরিক পরিবহন ফ্লাইটে ওঠেন। তখন রাত এগারোটা ৫৯ মিনিট। তার সঙ্গে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের কমান্ডিং জেনারেলরাও ছিলেন।

গত ১৪ আগস্ট থেকে কাবুল থেকে এক লাখ ২২ হাজার মানুষকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ম্যাকাঞ্জি বলেন, যদি আমরা আরও ১০টি দিন বেশি থাকতাম। তবুও সবাইকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে আসতে পারতাম না। মার্কিন বাহিনীর প্রত্যাহারকালে তারা ৭০টি বিমান, কয়েক ডজন সাঁজোয়া যান ধ্বংস করে দিয়েছে। এছাড়া চলে আসার আগে আইএসের রকেট হামলা থেকে বিমানবন্দরকে রক্ষা করা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও অকার্যকর করে দিয়ে এসেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে লোকজনকে জরুরিভিত্তিতে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শেষ করা হয়েছে। তালেবানের সঙ্গে পূর্বসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্পের চুক্তি অনুসারে সেনাপ্রত্যাহারের দায়িত্ব পড়েছিল বাইডেনের ঘাড়ে। কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই সেনাপ্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

ম্যাকাঞ্জি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আইএসকেপিকে মোকাবিলায় তালেবানকে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে হতে পারে। ভবিষ্যতে তালেবানের সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়ে কোনো পূর্বধারণা দিতে তিনি অস্বীকার জানিয়েছেন। যদিও গত সপ্তাহের বোমা হামলায় দায়ী আইএস যোদ্ধাদের খুঁজে বের করে শাস্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাইডেন।

যুক্তরাষ্ট্রের এই জেনারেল বলেন, তালেবান অনেক লোককে কারাগার থেকে ছেড়ে দিয়েছেন। ভবিষ্যতে এর পরিণতিও তাদের ভোগ করতে হবে।

জয়নিউজ/পিডি

KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ