পর্যটন নগরী কক্সবাজারে নির্মাণ হয়েছে বাংলাদেশের প্রথম আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন। ২১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ঝিনুকের আদলে তৈরি স্টেশন ভবনটির কাজ শেষ পর্যায়ে। এর মধ্যেই সামনে আসছে নির্মাণকাজের নানা ত্রুটি।
ব্যয়বহুল আইকনিক স্টেশন ভবনটির নির্মাণকাজের মান নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন (সিসিইসিসি) সঙ্গে যৌথভাবে স্টেশন ভবনটি তৈরি করেছে বাংলাদেশের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড।
দোহাজারী–কক্সবাজার রেললাইন উদ্বোধন হয়েছিল ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর। উদ্বোধনের পর ওই বছরের ১ ডিসেম্বর প্রথম ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছিল পর্যটন নগরী কক্সবাজারে।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে চালু হয় পর্যটক এক্সপ্রেস। কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হওয়ার ১৪ মাস পরও কক্সবাজারে নির্মিত দেশের একমাত্র আইকনিক রেল স্টেশনটির অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু করতে পারেননি বাংলাদেশ রেলওয়ে।
আধুনিক, দৃষ্টিনন্দন এশিয়ার অন্যতম এই রেল স্টেশন ঘিরে রেলযাত্রীদের অনেক স্বপ্ন। পরিপূর্ণভাবে এই স্টেশন ভবনের কাজ শেষ হলে স্টেশন ভবনে যাত্রীরা অনেক সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে না।
বিশেষ করে যাত্রীদের থাকা–খাওয়ার তারকা মানের হোটেল, রেস্টুরেন্ট, শপিংমল, কমিউনিটি সেন্টার, যাত্রীদের মালামাল রাখার লকার, শিশু যত্ন কেন্দ্র, মসজিদসহ অত্যাধুনিক সব ধরনের সুযোগ–সুবিধা।
কেউ চাইলে রাতের ট্রেন ধরে সকালে কক্সবাজার পৌছে মালামাল স্টেশনে রেখে সারা দিন সমুদ্রসৈকত বা পর্যটন স্পট ঘুরে রাতে আবার ফিরে যেতে পারবেন। কিন্তু ট্রেন চলাচল শুরু হওয়ার ১৪ মাস পরও স্টেশন বিল্ডিংটি চালু করতে পারেনি রেল কর্তৃপক্ষ। যার কারণে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে ট্রেন যাত্রীরা স্টেশনের সুযোগ–সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে।
আইকনিক স্টেশন ভবনের কাজ শেষ হতে আরো ২–৩ মাস লাগবে। কিন্ত রেল স্টেশন ভবনের কাজ শেষ হলেও রেলযাত্রীদের স্টেশন ভবনের সুযোগ–সুবিধা পেতে আরো সময় লাগবে।
কারণ এই ভবনের আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে কক্সবাজার আইকনিক রেল স্টেশন ভবনের হোটেল, শপিংমল এবং কমিউনিটি সেন্টার বেসরকরিভাবে টেন্ডারে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলওয়ে।
দোহাজারী–কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পের অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মুহম্মদ আবুল কালাম চৌধুরী বলেন, কক্সবাজার আইকনিক রেল স্টেশনের কাজ এক–দুই মাসের মধ্যে শেষ হবে।
তিনি বলেন, কাজ শেষে আইকনিক স্টেশনের নিচতলা এবং দ্বিতীয় তলায় রেলওয়ের অপারেশনাল কাজ চলবে। তৃতীয় তলায় শপিংমল, ৪র্থ তলায় তারকা মানের হোটেল, ৫ম তলায় কমিউনিটি সেন্টার পরিচালনার জন্য প্রাইভেট খাতে লিজ দেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে।
কারণ হোটেল, শপিংমল এবং কমিউনিটি সেন্টারের আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে হবে।দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্প সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১০১ কিলোমিটার রেলপথ প্রকল্পের মধ্যে আইকনিক স্টেশন ভবন নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২১৫ কোটি টাকা।
সম্প্রতি সরকারি রেল পরিদর্শক (জিআইবিআর) ইঞ্জিনিয়ার ফরিদ আহমেদ স্টেশনটি পরিদর্শন করে নির্মাণে বেশ কিছু ত্রুটি সনাক্ত করেছেন বলে জানান।
দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথটি ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ট্রেন চলাচল শুরু হয় ১ ডিসেম্বর থেকে।
জেএন/আমিন/পিআর




