তাৎক্ষণিক ফোন করে সমস্যা সমাধানের নির্দেশ মেয়রের

নিরাপদ সড়কের দাবিতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন কলেজ ও স্কুলের শিক্ষার্থীরা রোববার (১২ আগস্ট) নগর ভবনে এসেছিলো । মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন তাদেরকে স্বাগত জানিয়ে মতবিনিময় করেন ।

- Advertisement -

মতবিনিময়ের এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা কেন্দ্র ঘোষিত নয়দফার পাশাপাশি আরো কতগুলো দাবি পেশ করেন। দাবিগুলোর মধ্যে ছিলো নিউ মার্কেট মোড়, আগ্রাবাদ বাদামতলির মোড়, জিইসি মোড়, মুরাদপুর মোড়ে ফুট ওভার ব্রিজ বা আন্ডারপাস নির্মাণের ব্যবস্থা করা, নগরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্প্রিড বেকার স্থাপন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে গতিরোধক সাইনবোর্ড স্থাপন ও বাসস্টপেজ চালুর বিষয়ে সড়ক পরিবহণ ও বাস মালিকদের সাথে মেয়রের উদ্যোগে বৈঠকের ব্যবস্থা করা, গণপরিবহন ও নগরে চলাচলরত বিআরটিসি’র বাস সমূহে শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়ার ব্যবস্থা করা,পণ্যবাহী যানবাহনগুলোকে নির্দ্দিষ্ট সময়ের আগে নগরে ঢুকতে না দেয়াসহ ইত্যাদি।

- Advertisement -
google news follower

দাবির কথা শুনার  সঙ্গে সঙ্গে  মেয়র নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) কুসুম দেওয়ানকে ফোন করেন। ফোন করে মেয়র কিছু বিষয় দ্রুত সমাধানের জন্য নির্দেশ দেন। নির্দেশের মধ্যে রয়েছে, রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত ট্রাক চলাচল করা, শহরের মধ্যে দূরপাল্লার বাসের টার্মিনাল না করা, জেব্রা ক্রসিং এর সামনে ট্রাফিক পুলিশ দেয়া ইত্যাদি।  মেয়র শিক্ষার্থীদের অন্যান্য দাবিগুলো ক্রমান্বয়ে পূরণ করার আশ্বাস প্রদান করেন।

প্রতিনিধিদল নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মোড়ে জেব্রাক্রসিং এর ব্যবস্থা করায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।

- Advertisement -
islamibank

শিক্ষার্থীদের উদ্দ্যেশে মেয়র বলেন, আপনারা আন্দোলন করে সমাজ ব্যবস্থার অসঙ্গতি,ভুল ও অবহেলাগুলোকে চিহ্নিত করে আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন ঢাকার সাথে চট্টগ্রাম শহরকে তুলনা করা যৌক্তিক নয়। নতুন ঢাকা পরিকল্পিত শহর। কিন্তু আমাদের চট্টগ্রাম অপরিকল্পিত ও পুরানো শহর। আমরা এ নগরীকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছি। এ শহরে রাস্তার পাশে পর্যাপ্ত জায়গা নাই। অথচ উন্নত রাষ্ট্রের শহরগুলোতে রাস্তার পাশে পর্যাপ্ত জায়গা থাকে।

এছাড়াও চট্টগ্রামে ওয়াসা,সিডিএ,বিটিআরসি সহ বিভিন্ন সেবা সংস্থার একাধিক উন্নয়নকাজ চলার কারণে নগরীর সড়কগুলোর অবস্থা নাগরিক চাহিদা অনুযায়ী পুরোপুরি চলাচল উপযোগী নয়। মেয়র নগরীর বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ফুটওভার ব্রিজ ও যাত্রী ছাউনী স্থাপন করা হবে বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন ইতোমধ্যে আমরা নগরীর বেশকিছু সড়ক ও ফুটপাতে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করেছি। ফুটপাতে ভাসমান হকারদের বিকেল ৫ টার পরে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ করে দিয়েছি। এতে করে চট্টগ্রাম নগরীতে বসবাসরত হতদরিদ্র ও নিন্ম মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষজন সহজে কেনাকাটার সুযোগ পাচ্ছে।

সিটি মেয়র বলেন, সমালোচনা থাকলেও রাতারাতি হকারদের শৃংখলার মধ্যে আনা যায় না। তারপরও আমরা হকারদের মাঝে কাউন্সিলিং করে শৃংখলায় আনার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছি। মেয়র মাদক,সন্দ্রাস ও জঙ্গীবাদ এর কথা উল্লেখ করে  বলেন ধর্মীয় অনুশাসনই এ মরন ব্যাধী থেকে পরিত্রান দিতে পারে।

ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা একজন ছাত্র কখনও অসামাজিক ও অন্যায় কাজে লিপ্ত  হতে পারে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সাক্ষাতকালে কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু সালেহ, নির্বাহী প্রকৌশলী সুদিপ বসাক, শাহিনুল ইসলাম, ফারজানা মুক্তা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

 

KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ