বিএসআরএম স্টিল মিলের ১০ কর্মকর্তাকে জখম করে মালামাল লুট

অনলাইন ডেস্ক

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানাধীন বিএসআরএম স্টিল রোলিং-২ ও স্টিল মেলটিং-২ কারখানায় সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে।

- Advertisement -

হামলায় অফিস স্টাফ ও নিরাপত্তাকর্মীসহ অন্তত ১০ কর্মকর্তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে কারখানা ভাঙচুর, লুটপাট ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

- Advertisement -
google news follower

গতকাল রবিবার (৩ আগষ্ট) জোরারগঞ্জ থানায় দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টায় প্রথমে হামলার ঘটনা ঘটেছে। পরে রবিবার ভোরে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা।

এ ঘটনায় বিএসআরএমের মিরসরাই জোনের প্রশাসনিক ম্যানেজার মো. আবদুল কাদের মোল্লা বাদি হয়ে জোরারগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

- Advertisement -
islamibank

অভিযোগে বলা হয়, বেলাল, নাজমুল, হক সাবসহ অজ্ঞাতনামা ১৮-২০ জনের সংঘবদ্ধ দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সিকিউরিটি অফিস ও পোস্টে প্রবেশ করে।

হামলাকারীরা প্রথমেই সিসিটিভি মনিটর ২টি, কম্পিউটার ২টি, টেম্পারড গ্লাসের দরজা ২টি ও ৯টি থাই গ্লাসের জানালা ভাঙচুর করে।

এরপর ডিউটি অফিসার অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ মো. শাহ আলম, সিকিউরিটি গার্ড মোরশেদ, প্লাবন পালিত, রিয়াদ মোরশেদ এবং ডাম্প ট্রাক চালক সোহাগকে মারধর করে আহত করে। এসময় তাদের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা নিরাপত্তাকর্মীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে কারখানা থেকে বিপুল পরিমাণ লোহা তৈরির স্ক্র্যাপ এবং নির্মাণাধীন নিরাপত্তা বেষ্টনীর ১২-১৫টি টিন খুলে নিয়ে যায়।

কেন এ বেষ্টনী নির্মাণ করা হচ্ছে এমন প্রশ্ন তুলে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে এবং বেষ্টনী নির্মাণ অব্যাহত রাখলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

এমনকি কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মীর নাম ধরে খোঁজাখুঁজি করে, সামনে পেলে কুপিয়ে হত্যার হুমকিও দেয়। এসময় প্রায় ১৫ লাখ টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে বিএসআরএম মিরসরাই জোনের প্রশাসনিক ম্যানেজার মো. দেলোয়ার হোসেন মোল্লা জানান, ‘এ ধরনের ঘটনা শুধু আমাদের শিল্পকারখানাই নয়, পুরো এলাকার নিরাপত্তার জন্যও হুমকি।

বিএসআরএম কারখানায় দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রটি স্ক্র্যাপ চুরির সঙ্গে জড়িত। আগে রাতের আঁধারে চুরি করলেও এবার প্রকাশ্যে হামলা চালিয়েছে। ভেতরে প্রবেশ করে ভাংচুর চালিয়ে অফিস স্টাফদের আহত করেছে।

তাদের বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক মামলা হয়েছে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা ছাড়া এ চক্রকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল হালিম জানান, খিলমুরারী গ্রামের একটি অপরাধীচক্র দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় নানা অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত। পুলিশ তাদের আটক করতে গেলে ওরা পাহাড়ি এলাকায় গা ঢাকা দেয়।

সবশেষ বিএসআরএমের দুটি কারখানায় হামলা হয়েছে। এসময় ভাংচুর এবং অফিস তছনছ করে চক্রটি। এ ঘটনায় ৩০/৩২ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আসামিদের ধরার জন্য চেষ্টা চলছে। অভিযুক্তদের শীঘ্রই আটক করতে সক্ষম হবো বলে আশা করেন ওসি।

জেএন/পিআর

KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ