এক পরিবারের ৪ মরদেহ: বাবা-শাশুড়ির পৃথক মামলা

অনলাইন ডেস্ক

রাজশাহীর পবা উপজেলার বামনশিখর গ্রামের একটি বাড়ি থেকে শুক্রবার (১৫ আগস্ট) সকালে একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে।

- Advertisement -

ঘটনার দিন রাতেই মৃত মিনারুল ইসলামের বাবা রুস্তম আলী বাদি হয়ে নগরের মতিহার থানায় অপমৃত্যুর অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। অন্যদিকে প্রায় একই সময়ে মৃত মিনারুলের শাশুড়ি শিউলি বেগম বাদী একই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

- Advertisement -
google news follower

এ সম্পর্কে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মালেক বলেন, ওই ঘটনায় দুটি পৃথক মামলা হয়েছে। একটি অপমৃত্যু ও অপরটি হত্যা মামলা।

অপমৃত্যু মামলার বাদী হয়েছেন মিনারুলের বাবা রুস্তম আলী। আর হত্যা মামলা করেছেন মিনারুলের শাশুড়ি। তবে এসব মামলায় কাউকে আসামি করা হয়নি। তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

- Advertisement -
islamibank

ওসি আবদুল মালেক আরও বলেন, গতকাল দুপুরে লাশ উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে নেওয়া হয়। আজ শনিবার ময়নাতদন্ত শেষে লাশগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এর আগে গতকাল সকাল পৌনে ৯টার দিকে নিজ ঘরে একই পরিবারের চারজনের মরদেহ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ তাঁদের লাশ উদ্ধার করে। লাশের পাশে থাকা দুই পৃষ্ঠার একটি চিরকুটও উদ্ধার করা হয়েছে।

চিরকুটের এক জায়গায় লেখা আছে, ‘আমরা মরে গেলাম ঋণের দায়ে আর খাওয়ার অভাবে।’ পরিবার, পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের ধারণা, অভাবের কারণে তিনি স্ত্রী, দুই সন্তানকে শ্বাস রোধ করে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করেছেন।

মৃত ব্যক্তিরা হলেন পবা উপজেলার পারিলা ইউনিয়নের বামনশিখর গ্রামের মিনারুল ইসলাম (৩৫), স্ত্রী মনিরা বেগম (২৮) এবং তাঁদের ছেলে মাহিন (১৩) ও মেয়ে মিথিলা (২)। মাহিন খড়খড়ি উচ্চবিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত। আর মিনারুল কৃষিকাজ করতেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, মিনারুলের মেয়ে মিথিলার জন্য গতকাল সকালে মিনারুলের বাবা রুস্তম আলী হাট থেকে মাছ কিনে আনেন। দাদি আঞ্জুয়ারা বেগম নাতনিকে ডাকতে যান। অনেক ডাকাডাকির পরও কেউ সাড়া দিচ্ছিলেন না।

সকাল পৌনে ৯টার দিকে লাগোয়া ঘরের পাশে ঘরের সিলিংয়ের ওপর দিয়ে ছেলেকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে জানাজানি হলে প্রতিবেশীরা বাড়িতে আসেন।

স্থানীয় পারিলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাহেদ আলী পুলিশকে ফোন করেন। পরে পুলিশ এসে ঘরের দরজা খোলে।

তাঁদের ‘এল’ আকৃতির বাড়িতে চারটি কক্ষ। পশ্চিম দিকের প্রথম ঘরে মিনারুলকে পাওয়া যায়। তিনি ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছিলেন। ছেলে মাহিন বিছানায় পড়ে ছিল। তার গলার পাশে একটি গামছা পাওয়া যায়।

সেখানে দুই পৃষ্ঠার হাতে লেখা চিরকুট পড়ে ছিল। ঘরের ভেতরে দুটি কক্ষ। পরের কক্ষের বিছানায় স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ পাওয়া যায়। মিনারুলের পরের ঘরটি তাঁর বড় ভাই রুহুলের। তারপরের কক্ষে থাকতেন তাঁদের মা-বাবা।

পরিবারের সদস্য, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিনারুল আগে একসময় জুয়া খেলতেন। পরে ছেড়ে দেন। এ জন্য তিনি ঋণগ্রস্ত ছিলেন।

দেড় বছর আগে বাবা রুস্তম আলী ধানি জমি বিক্রি করে ঋণের একটা অংশ দেড় লাখ টাকা পরিশোধ করেন। এরপরও তাঁর দুই লাখ টাকা ঋণ ছিল। এই ঋণের জন্য প্রতি সপ্তাহে তাঁকে ২ হাজার ৭০০ টাকার বেশি কিস্তি পরিশোধ করতে হতো। কিন্তু কিস্তি চালাতে পারছিলেন না মিনারুল।

বাবাকে মিনারুল আর কিছু জমি বিক্রি করে পুরো টাকা পরিশোধ করতে বলেছিলেন। কিন্তু বাবা জমি বিক্রি করতে চাননি। এ নিয়ে মা-বাবার সঙ্গে মিনারুল কথা বলা বন্ধ করে দেন। এমনকি ছেলে–মেয়েদেরও মিশতে দিতেন না।

জেএন/পিআর

KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ