মেরামত হচ্ছে ১২৪ বগি, ইতিমধ্যে প্রস্তুত ৯৯টি

ঈদে স্বস্তির যাত্রা নিশ্চিত করতে দিনরাত কাজ পাহাড়তলীর রেল কারখানায়

অনলাইন ডেস্ক

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দেশের অন্যতম বড় গণপরিবহন মাধ্যম রেলওয়েতে বাড়তি যাত্রীর চাপ সামাল দিতে পুরোনো ও অচল কোচগুলো নতুন করে সচল করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

- Advertisement -

চট্টগ্রামের পাহাড়তলী রেলওয়ে কারখানায় দিনরাত কাজ করে মেরামত করা হচ্ছে ১২৪টি কোচ। এর মধ্যে ইতিমধ্যে ৯৯টি কোচ মেরামত শেষে পরিবহন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

- Advertisement -
google news follower

অবশিষ্ট কোচগুলোও আগামী সপ্তাহের মধ্যে প্রস্তুত করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদুল আজহাকে ঘিরে লাখো মানুষের ঘরমুখী যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আগেভাগেই প্রস্তুতি শুরু করেছে রেলওয়ে।

- Advertisement -
islamibank

বিশেষ করে কোরবানির ঈদে মানুষের বাড়ি ফেরার প্রবণতা রোজার ঈদের তুলনায় বেশি হওয়ায় অতিরিক্ত কোচ ও বিশেষ ট্রেন পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঈদযাত্রায় যাত্রীচাপ মোকাবিলায় আন্তঃনগর ও মেইল ট্রেনগুলোতে অতিরিক্ত দুই থেকে পাঁচটি পর্যন্ত বগি সংযোজন করা হয়।

পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ রুটে চালু করা হয় ‘ঈদ স্পেশাল’ ট্রেন। এ জন্যই পুরোনো ও দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কোচগুলো দ্রুত মেরামত করে চলাচলের উপযোগী করা হচ্ছে।

চট্টগ্রামের পাহাড়তলী রেলওয়ে কারখানায় গিয়ে দেখা গেছে, শ্রমিকদের ব্যস্ততা এখন অন্য সময়ের চেয়ে অনেক বেশি।

কেউ বগির যান্ত্রিক ত্রুটি সারাচ্ছেন, কেউ রং করছেন, আবার কেউ অভ্যন্তরীণ আসন ও বৈদ্যুতিক সংযোগ মেরামতে ব্যস্ত। কারখানাজুড়ে চলছে নিরবচ্ছিন্ন কর্মযজ্ঞ।

কারখানার শ্রমিকরা জানান, গত ঈদুল ফিতরেও ১২৪টি কোচ মেরামত করা হয়েছিল। তবে কোরবানির ঈদে যাত্রীর চাপ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় এবার বাড়তি কোচের প্রয়োজনীয়তাও বেড়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ করতে তাঁরা দিনরাত পরিশ্রম করছেন।

বাংলাদেশ রেলওয়ের দুটি প্রধান কারখানার একটি পাহাড়তলী, অন্যটি সৈয়দপুর। পূর্বাঞ্চলের পুরোনো ও ক্ষতিগ্রস্ত কোচ মেরামতের দায়িত্ব পালন করে পাহাড়তলী কারখানা। প্রতিবছর দুই ঈদের আগে এখানেই সবচেয়ে বেশি কর্মচাঞ্চল্য দেখা যায়।

পাহাড়তলী রেলওয়ে কারখানার তত্ত্বাবধায়ক মোস্তফা জাকির হাসান বলেন, “ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে প্রায় দেড় মাস আগে থেকেই বগি মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। ১২৪টি বগির মধ্যে ৯৯টির কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। বাকি কোচগুলোও দ্রুত পরিবহন বিভাগকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “প্রতি বছর দুই ঈদেই ট্রেনে যাত্রীচাপ থাকে। তবে কোরবানির ঈদে চাপ আরও বাড়ে। তাই যাত্রীদের নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে প্রতিটি ট্রেনে চাহিদা অনুযায়ী অতিরিক্ত বগি সংযোজন করা হবে।”

রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সড়কপথে যানজট ও দীর্ঘ ভোগান্তির কারণে ঈদযাত্রায় ট্রেনের প্রতি মানুষের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে।

সময়মতো কোচ মেরামত ও অতিরিক্ত ট্রেন পরিচালনার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এবারের ঈদযাত্রা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক হতে পারে।

KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ