ক্ষতির আশঙ্কা শ্রমিকদের

১৫ কোটির স্ক্র্যাপ ৩ কোটিতে বিক্রির চেষ্টা: জিইএমকোতে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

অনলাইন ডেস্ক

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান জেনারেল ইলেকট্রিক ম্যানুফেকচারিং কোম্পানি লিমিটেড (জিইএমকো)-এ প্রায় ১৫ কোটি টাকার বেশি মূল্যের স্ক্র্যাপ মাত্র তিন কোটি টাকায় বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

- Advertisement -

অভিযোগ অনুযায়ী, ৪৬৫টি অকেজো মেশিনারিজসহ লৌহজাতীয় স্ক্র্যাপ এবং পুরোনো ব্যবহার অনুপযোগী বিভিন্ন মালামাল টেন্ডার ছাড়াই বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

- Advertisement -
google news follower

সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন ধরে কারখানায় পড়ে থাকা এসব মালামাল সম্প্রতি সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি (ডিপিএম) ব্যবহার করে বিক্রির চেষ্টা চলছে।

তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি, সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে স্ক্র্যাপ বিক্রিতে ডিপিএম পদ্ধতি গ্রহণযোগ্য নয় এবং এ ধরনের বিক্রয় সাধারণত উন্মুক্ত দরপত্র বা প্রতিযোগিতামূলক মূল্য নির্ধারণের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ার নিয়ম রয়েছে।

- Advertisement -
islamibank

এ ক্ষেত্রে সেই স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশন (বিএসইসি) নীতিমালা উপেক্ষা করে স্ক্র্যাপ বিক্রির চেষ্টা চলছে।

এতে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সরকারি রাজস্বেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

জিইএমকোর শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে বিএসইসি চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, নীতিমালা লঙ্ঘনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির সম্পদ বিক্রি করা হলে তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি ডেকে আনবে এবং সুশাসনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানান, স্ক্র্যাপ বিক্রির ক্ষেত্রে সাধারণত প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের নিয়ম অনুসরণ করা হয়। কিন্তু এবার সেই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে বলে অভ্যন্তরীণভাবে প্রশ্ন উঠেছে।

নথি অনুযায়ী, জিইএমকোতে স্ক্র্যাপ বিক্রির জন্য একটি কমিটি রয়েছে। কমিটির সভাপতি ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম এবং সদস্য সচিব বাণিজ্যিক কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন উপমহাব্যবস্থাপক ও বাণিজ্যিক বিভাগীয় প্রধান হুমায়ুন কবির, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা প্রাণজিত পাল, উপপ্রধান প্রকৌশলী ও উৎপাদন বিভাগীয় প্রধান হায়াত মাহমুদ, বিএসইসির বিপণন বিভাগের ব্যবস্থাপক নূরে আলম আজরফ এবং ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তা জুহিরুল হক। সূত্র : যুগান্তর

শ্রমিকনেতাদের অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, নীতিমালা অনুসরণ না করলে প্রতিষ্ঠানের বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হবে এবং সরকারের রাজস্ব হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে। একই সঙ্গে শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ ও হতাশা বাড়ছে।

জিইএমকোর কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠন (সিবিএ) সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, “বিএসইসির নীতিমালা উপেক্ষা করে স্ক্র্যাপ বিক্রির চেষ্টা হচ্ছে।

কেন টেন্ডার ছাড়া করা হচ্ছে, তা আমাদের জানা নেই। তাই আমরা বিষয়টি লিখিতভাবে বিএসইসিকে জানিয়েছি।”

এ বিষয়ে জানতে জিইএমকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ