৫২ বছরের গোল-খরা ভাঙল হাইতি, কিন্তু শেষ হাসি হাসল মরক্কো

অনলাইন ডেস্ক

দুইবার পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি মরক্কো। হাইতির সাহসী লড়াই, ঐতিহাসিক গোল এবং বারবার চমকে দেওয়ার প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত থামাতে পারেনি উত্তর আফ্রিকার দলটিকে।

- Advertisement -

আক্রমণাত্মক ফুটবলের প্রদর্শনীতে প্রতিপক্ষের প্রতিরোধ ভেঙে ৪-২ গোলের রোমাঞ্চকর জয় তুলে নিয়েছে গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্টরা।

- Advertisement -
google news follower

এই জয়ের মধ্য দিয়ে শুধু তিন পয়েন্টই নয়, নিশ্চিত হয়েছে মরক্কোর নকআউট পর্বের টিকিটও।

গ্রুপ ‘সি’-তে ব্রাজিলের পর দ্বিতীয় স্থানে থেকে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছে তারা। অন্যদিকে, লড়াই করেও বিশ্বকাপ যাত্রার শেষ অধ্যায় লিখতে হয়েছে হাইতিকে।

- Advertisement -
islamibank

তবে বিদায়ের ম্যাচেও ইতিহাস গড়েছে ক্যারিবীয় দেশটি। প্রায় ১৯ হাজার দিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে আবার গোলের দেখা পেয়েছে হাইতি।

১৯৭৪ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কিংবদন্তি ইমানুয়েল মান্নো সাননের গোলের পর আর কোনো বিশ্বকাপে গোল করতে পারেনি দলটি।

অবশ্য দীর্ঘ এই সময়ে বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার সুযোগও পায়নি তারা। ২০২৬ আসরে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া হাইতি প্রথম দুই ম্যাচে স্কটল্যান্ড ও ব্রাজিলের বিপক্ষে গোলশূন্য ছিল।

আটলান্টা স্টেডিয়ামে নিজেদের শেষ ম্যাচে শুরু থেকেই চমক দেখায় হাইতি। ম্যাচের ১০ মিনিটে ইতিহাস গড়ে দলকে এগিয়ে দেন জোসেফ।

ডান প্রান্ত থেকে ডুভের্নের নিচু ক্রস পেয়ে দারুণ এক ব্যাকহিল ফিনিশে বল জালে জড়ান তিনি। সেই গোলেই শেষ হয় হাইতির ৫২ বছরের বিশ্বকাপ গোল-খরা।

প্রথম ধাক্কা সামলে মরক্কো সমতায় ফিরতে অপেক্ষা করে ৩৯ মিনিট পর্যন্ত। দলের অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি তখন দায়িত্ব নেন নিজ কাঁধে।

হাইতির গোলরক্ষক প্লাসিদ একটি ডিফ্লেক্টেড ক্রস ঠেকালেও বল নিরাপদে সরাতে পারেননি।

গোললাইনের কাছে তৈরি হওয়া সুযোগে দ্রুত ছুটে এসে কাছ থেকে বল জালে পাঠিয়ে দেন হাকিমি। তাতেই ম্যাচে ফেরে মরক্কো।

গোলের উচ্ছ্বাস তখনও শেষ হয়নি, এরই মধ্যে আবারও এগিয়ে যায় হাইতি। ৪৩ মিনিটে ডান প্রান্তে বল পেয়ে উইলসন ইসিডর প্রথমে নিজের জন্য জায়গা তৈরি করেন, এরপর দুর্দান্ত গতির শটে বল জড়িয়ে দেন জালে। মুহূর্তেই আবার এগিয়ে যায় ক্যারিবীয়রা।

কিন্তু প্রথমার্ধের শেষ হাসি ছিল মরক্কোর। হাইতির আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেননি হাকিমি। ডিফেন্সের পেছনে বল পেয়ে বক্সের ভেতরে নিচু ক্রস বাড়ান তিনি।

আর বক্সে ঢুকে পড়া সাইবারি নিখুঁত ফিনিশে বল জালে পাঠিয়ে ম্যাচে দ্বিতীয়বারের মতো সমতা ফেরান।

বিরতির পর যেন আরও ভয়ংকর রূপ নেয় মরক্কো। বলের দখল, আক্রমণের গতি এবং সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রে একচ্ছত্র আধিপত্য দেখাতে থাকে তারা।

হাইতিকে আর কোনো সুযোগ না দিয়ে উল্টো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেয়।

এর ফলও আসে দ্রুত। ৭৮ মিনিটে সোফিয়ান রাহিমির গোলে প্রথমবারের মতো এগিয়ে যায় মরক্কো। এরপর ম্যাচের ৮৯ মিনিটে গেসিম ইয়াসিন আরেকটি গোল করে জয় নিশ্চিত করেন।

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে স্কোরবোর্ডে জ্বলজ্বল করে মরক্কোর ৪-২ গোলের দাপুটে জয়।

দুইবার পিছিয়ে পড়েও অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তা ও আক্রমণাত্মক ফুটবলের প্রদর্শনীতে ম্যাচ জিতে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে মরক্কো।

গ্রুপ ‘সি’-তে শীর্ষে থাকা ব্রাজিলের পর দ্বিতীয় স্থান দখল করে নকআউট পর্বে উঠেছে তারা।

অন্যদিকে, বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও ৫২ বছরের গোল-খরা ভেঙে স্মরণীয় এক অর্জন নিয়েই ঘরে ফিরছে হাইতি।

KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ