চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও একাধিক হত্যা-চাঁদাবাজি মামলার আসামি মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারের পর চট্টগ্রামে এনে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত পুলিশের হাতে ধরা পড়েন তিনি।
বুধবার (২৯ জুলাই) ভোরে যশোর ও চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের যৌথ অভিযানে যশোরের ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে ডেভিড ইমন ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে একটি প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালানোর সময় তাদের আটক করা হয়।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার এড়াতে ডেভিড ইমন নিজের বেশভূষা ও গোঁফ পর্যন্ত পরিবর্তন করেছিলেন।
পরিচয় গোপন করে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। তবে চেকপোস্টে পুলিশের তল্লাশিতে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।
গ্রেপ্তারের পর বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। এর আগে বেলা ১১টার দিকে জেলা পুলিশ কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং শেষে আদালতে নেওয়ার জন্য তাকে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়।
প্রিজন ভ্যানে ওঠার সময় নিরাপত্তাবেষ্টনীর ভেতর থেকে সাংবাদিকদের উদ্দেশে ডেভিড ইমন বলেন, ‘আমার অনেক কিছু বলার আছে।’ তবে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ সদস্যরা তাকে বাধা দিলে তিনি আর কোনো কথা বলতে পারেননি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ডেভিড ইমন বিদেশে পলাতক চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে ‘বড় সাজ্জাদ’এর অন্যতম প্রধান সহযোগী। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় হত্যা, চাঁদাবাজিসহ ১১টিরও বেশি গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে।
এসব মামলার মধ্যে বাকলিয়ায় জোড়া খুন, পতেঙ্গায় ঢাকাইয়া আকবর হত্যা এবং সাম্প্রতিক সময়ে একটি ইন্টারনেট সেবা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে দেশ ছাড়ার চেষ্টা, চেহারা ও গোঁফ পরিবর্তন এবং শেষ পর্যন্ত পুলিশের চেকপোস্টে গ্রেপ্তার-ডেভিড ইমনের এই পলায়নচেষ্টাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে চট্টগ্রামের অপরাধজগতের এই আলোচিত নাম।
প্রেস ব্রিফিং ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে কঠোর পুলিশি প্রহরায় ডেভিড ইমনকে আদালতের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়।




