জিপিএ-৫ পাওয়া যেন সাফল্যের শেষ সিঁড়ি নয়, বরং জীবনের আরও বড় পথচলার প্রথম ধাপ-কৃতী শিক্ষার্থীদের এমন বার্তাই দিয়েছেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ।
তাঁর আহ্বান, শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল নয়, জ্ঞান, সততা, নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।
কারণ সামনে অপেক্ষা করছে এমন এক বিশ্ব, যেখানে জ্ঞান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রতিযোগিতাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে বোয়ালখালী উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ১৪৬ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে এরশাদ উল্লাহ বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’-এই চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে দেশপ্রেমিক ও সুনাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। আগামীর বিশ্ব হবে জ্ঞানদীপ্ত এবং এআইয়ের লড়াইয়ের বিশ্ব। নতুন প্রজন্মের সামনে রয়েছে সেই কঠিন চ্যালেঞ্জ। আর সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজন কঠোর পরিশ্রম, বুদ্ধিভিত্তিক জ্ঞান ও সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করা।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মেধাবীদের নেতৃত্বে দেশ গঠন করতে চান। একদিন এই শিক্ষার্থীরাই দেশের হাল ধরবে।
পুরো জাতি তাদের দিকে তাকিয়ে আছে। তাই শুধু মেধাবী হলেই হবে না, ভালো মানুষ ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে।
এরশাদ উল্লাহ আরও বলেন, জিপিএ-৫ পাওয়াটিই জীবনের একমাত্র সাফল্য নয়। এটি জীবনের পরবর্তী ধাপগুলোতে আরও এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা মাত্র। সামনে পড়ে আছে বিশাল পথ। সেই পথে এগোতে হলে বড় স্বপ্ন দেখতে হবে এবং স্বপ্ন পূরণের জন্য এখন থেকেই নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।
তিনি বলেন, সততা, নিষ্ঠা, আত্মবিশ্বাস ও মানবিক মূল্যবোধে আলোকিত মানুষ হওয়াই জীবনের বড় অর্জন। সমাজ ও দেশের প্রতি প্রত্যেকের দায়িত্ব রয়েছে। তাই নিজেদের শুধু ক্যারিয়ার গড়ার জন্য নয়, একজন দায়িত্বশীল সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
আগামীর বাংলাদেশকে পথ দেখানোর জন্য নিজেদের সেভাবেই প্রস্তুত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ আজিজুল হক চেয়ারম্যান। সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সদস্য ও কৃতী সংবর্ধনা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক মো. শওকত আলম।
জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আজগরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান ফারুক, সহকারী কমিশনার কানিজ ফাতেমা, সাংবাদিক মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সালমা ইসলাম ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুন্নবী চৌধুরী।
এ সময় বক্তব্য রাখেন প্রধান শিক্ষক মো. ইলিয়াছ ও মাওলানা এরশাদুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে নিজেদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন অভিনয়ে প্রাথমিক জাতীয় শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতায় ১ম স্থান অর্জনকারী মনীশ ক্ষেত্র চৌধুরী এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্ত আদিত্য বড়ুয়া, নাফিজা ইসলাম ও আদিত্য সরকার।
বৈচিত্র্যময় আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় কৃতীদের এ সংবর্ধনা। কোরআন তেলাওয়াত, গীতা পাঠ ও ত্রিপিটক পাঠের পর শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় জাতীয় ও দলীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।
পরে মনোজ্ঞ সংগীত পরিবেশন করেন বাউল মোজাহের ও উদীয়মান কৃতী শিল্পী উম্মে কাউছার নিঝুম।
১৪৬ কৃতী শিক্ষার্থীর হাতে সংবর্ধনা তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হয় আয়োজন।
তবে অনুষ্ঠানের মূল বার্তাটি যেন আরও বড়-শুধু ভালো ফল নয়, আগামী দিনের কঠিন বিশ্বে জ্ঞান, মেধা, নৈতিকতা ও মানবিকতা নিয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে আজকের শিক্ষার্থীদেরই।




