চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস। অন্যদের মতোই যাত্রীবেশে বসেছিলেন মো. শহিদুল ইসলাম (৪২)। সঙ্গে ছিল দুটি অ্যাশ রঙের কোর্ট ফাইল।
দূর থেকে দেখলে সেগুলোকে আদালত-সংক্রান্ত কাগজপত্র রাখার সাধারণ ফাইল বলেই মনে হওয়ার কথা। কিন্তু সেই ফাইলের ভেতরেই যে লুকিয়ে ছিল প্রায় ৬০ লাখ টাকা মূল্যের ইয়াবার চালান, তা ছিল একেবারেই অজানা।
শেষ পর্যন্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বসানো অস্থায়ী চেকপোস্টে থামতে হয় বাসটিকে।
তল্লাশিতে কোর্ট ফাইলের ভেতর বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় উদ্ধার হয় ১৯ হাজার ৮৪৫ পিস ইয়াবা। এ ঘটনায় মো. শহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৭)।
ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কের সীতাকুণ্ড এলাকায়।
এসআরবি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, এক মাদক কারবারি চট্টগ্রাম শহর থেকে যাত্রীবাহী বাসে করে ইয়াবার একটি চালান নিয়ে ঢাকার দিকে যাচ্ছেন।
তথ্যটি পাওয়ার পর বুধবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের লালবাগ এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসানো হয়।
এর কিছুক্ষণ পর, পৌনে ১১টার দিকে মহিউদ্দিন মেরিন ইঞ্জিন স্টোরের সামনে স্টারলাইন পরিবহনের একটি বাস পৌঁছালে সেটিকে থামার সংকেত দেওয়া হয়।
পরে বাসটিতে তল্লাশি চালিয়ে যাত্রীবেশে থাকা মো. শহিদুল ইসলামকে আটক করা হয়।
এসআরবি-৭-এর সদস্যরা শহিদুল ইসলামের কাছে থাকা অ্যাশ রঙের দুটি কোর্ট ফাইলে তল্লাশি চালান। ফাইল দুটির ভেতর থেকে কসটেপ দিয়ে মোড়ানো নীল রঙের পলিজিপার প্যাকেট পাওয়া যায়।
প্যাকেটগুলো খুলতেই বেরিয়ে আসে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা। গণনা করে মোট ১৯ হাজার ৮৪৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এসআরবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫৯ লাখ ৫৪ হাজার টাকা।
অর্থাৎ, বাইরে থেকে সাধারণ কোর্ট ফাইল মনে হলেও সেগুলোকেই ব্যবহার করা হয়েছিল মাদকের চালান বহনের আড়াল হিসেবে।
গ্রেপ্তার মো. শহিদুল ইসলাম খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার দরগাপাড়ার আলী মিয়ার ছেলে।
এসআরবি জানিয়েছে, শহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম শহর থেকে ইয়াবা কিনে বেশি দামে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে আসছিলেন।
সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রার সময়ই তার কাছে থাকা চালানটি শনাক্ত করা হয়।
মাদক পরিবহনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে নানা কৌশল ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় দুটি কোর্ট ফাইলের মতো সাধারণ সামগ্রীর ভেতর ইয়াবা লুকিয়ে রাখার কৌশল সামনে এসেছে।
তবে চেকপোস্টে তল্লাশির সময় সেই কৌশলও শেষ পর্যন্ত কাজে আসেনি। বিশেষ কৌশলে প্যাকেটজাত করে রাখা ইয়াবা উদ্ধার করে এসআরবি-৭।
ঘটনার মধ্য দিয়ে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত কৌশল যেমন সামনে এসেছে, তেমনি চট্টগ্রাম থেকে দেশের অন্য অঞ্চলে মাদক সরবরাহের অভিযোগও আবার আলোচনায় এসেছে।
এ বিষয়ে এসআরবি-৭ চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এ আর এ মোজাফফর হোসেন বলেন, গ্রেপ্তার শহিদুল ইসলাম ও উদ্ধার করা ইয়াবা পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সীতাকুণ্ড থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।




