চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ডে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যান্ড এক্সপোর্ট ফেয়ার-২০২৬-এর প্রস্তুতিতে বাধা ও নির্মাণসামগ্রী নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় মেট্রোপলিটন চেম্বারের প্রতিনিধি মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান ও মো. ফোরকানকে মারধর এবং তাদের মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন ভুক্তভোগী।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে মেলার প্রস্তুতির সময় পলোগ্রাউন্ডে ঢুকে কাজ বন্ধ করতে বলে একদল লোক। মেট্রোপলিটন চেম্বারের দাবি, এর আগে কয়েকদিন ধরে বিভিন্নভাবে সংগঠনটির নেতাদের কাজ বন্ধ রাখার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত লোকজন নিয়ে মেলাস্থলে গিয়ে নির্মাণাধীন মালামাল ভাঙচুর ও সরিয়ে নেওয়া হয়।
কাজ করতে আসা কয়েকজন শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, লাঠিসোঁটা হাতে একদল লোক এসে তাদের মারধরের হুমকি দেয়। তাদের কথা না শোনায় গালাগাল ও গায়ে হাত দেওয়া হয়। পরে মালামাল ভাঙচুর করে কয়েকজন কিছু জিনিস নিয়ে যায়।
ঘটনার সময় উপস্থিত মো. ফোরকান বলেন, সকালে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের কর্মীরা কাজ করার সময় একদল লোক প্রথমে মালামাল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। বাধা দিলে তারা বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করে। এ সময় আব্দুল হান্নান ও তাকে হেনস্তা করা হয় এবং মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া হয়।
ফোরকানের দাবি, চলে যাওয়ার সময় ওই ব্যক্তিরা ১০ লাখ টাকা দাবি করে বলে, ‘১০ লাখ টাকা দিবি, না হলে কেউ কাজ করতে পারবে না।’
পলোগ্রাউন্ডে মেলা আয়োজন নিয়ে আগে থেকেই দুই চেম্বারের মধ্যে বিরোধের বিষয়টি সামনে আসে। মেট্রোপলিটন চেম্বার জানায়, বাংলাদেশ রেলওয়ের মালিকানাধীন মাঠ ব্যবহারের জন্য তারা নিয়ম অনুযায়ী অনুমতি নিয়েছে। নির্ধারিত জামানত ও ভাড়া পরিশোধের পর রেলওয়ের সঙ্গে চুক্তিও সম্পন্ন হয়েছে। মেলা আয়োজনের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের অনুমতিও নেওয়া হয়েছে।
সংগঠনটির দাবি, প্রস্তুতি শুরুর পর চট্টগ্রাম চেম্বারের নাম করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে ওই অনুমতি বাতিলের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপকের কাছে বিষয়টি জানানো হলে তিনি অনুমতি বাতিল করা সম্ভব নয় জানিয়ে দুই চেম্বারকে সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার অনুরোধ করেন।
মেট্রোপলিটন চেম্বারের সহসভাপতি এ এম মাহবুব চৌধুরী বলেন, ‘বিষয়টি আমরা সমাধান করেছি। দুই পক্ষই চেম্বার, সবাই চট্টগ্রামের সম্মানিত মানুষ। হয়তো শ্রমিকদের মধ্যে একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল, সেটিও আমরা মীমাংসা করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ রেলওয়ে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যান্ড এক্সপোর্ট ফেয়ার-২০২৬ আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা কাজ শুরু করার প্রাক্কালে চট্টগ্রাম চেম্বার একই স্থানে একই সময়ে মেলা আয়োজনের চেষ্টা করছে। পরিচালনা পর্ষদে সিদ্ধান্ত নিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারণ করা হবে।’
মেট্রোপলিটন চেম্বারের পরিচালক মো. শাহ আলম বলেন, ‘প্রস্তুতিমূলক কাজের সময় বহিরাগত কিছু লোকজন এসে হামলা চালিয়ে মালামাল নিয়ে গেছে বলে আমরা জেনেছি। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি করণীয় বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে ঠিক করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আইন হাতে তুলে নেওয়া শোভনীয় নয়। বিষয়টি সময় নিয়ে সমাধান করতে হবে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার ও চট্টগ্রাম চেম্বার- দুটিই চট্টগ্রামের বিশিষ্ট শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের সংগঠন। উভয় চেম্বারেই গণ্যমান্য ব্যক্তিরা রয়েছেন। আমরা বিষয়টির একটি ভালো সমাধান প্রত্যাশা করি।’
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) ইকবাল হোসেন বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। মারামারি হওয়ার খবর পেয়েছিলাম। তবে সেখানে গিয়ে কোনো মারামারি দেখতে পাইনি। পরিবেশ শান্ত ছিল, কয়েকজন শ্রমিক কাজ করছিলেন। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগও আসেনি।’
আর এসব ঘটনার অভিযোগের তীর চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের আরেকটি বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী সংগঠন চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির দিকে। এ বিষয়ে সংগঠনটির বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
জেএন/এমআর




