কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের একটি দোকানের সামনে থেকে রাতের আঁধারে তুলে নেওয়ার অভিযোগ। এরপর শুরু হয় খোঁজাখুঁজি।
আড়াইটার দিকে খবর আসে, একটি আবাসিক এলাকার ভবনে তাঁকে আটকে রাখা হয়েছে।
নেতা-কর্মীরা সেখানে ছুটে যাওয়ার পরপরই আসে আরও ভয়াবহ খবর-মহাসড়কের পাশে পড়ে আছে তাঁর লাশ।
এভাবেই কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে নিখোঁজ থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার হলেন ইউনিয়ন ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ইসফাতুল ইসলাম (২৮)।
গতকাল রোববার দিবাগত রাত তিনটার দিকে উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের মেধাকচ্ছপিয়া ঢালা এলাকা থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ইসফাতুল ইসলামের বাড়ি কাকারা ইউনিয়নের লোটনী এলাকায়।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাত ১১টার দিকে কাকারা ইউনিয়নের সাবের সওদাগরের দোকানের সামনে ছিলেন ইসফাতুল।
এ সময় কয়েক ব্যক্তি তাঁকে জোরপূর্বক একটি নোয়া মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর ইসফাতুলের খোঁজে বেরিয়ে পড়েন দলের নেতা-কর্মী ও স্থানীয় লোকজন। তাঁরা বিভিন্ন এলাকায় তাঁর সন্ধান করতে থাকেন। এমনকি মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানেও পাহারা বসানো হয়।
এরই মধ্যে দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে নেতা-কর্মীদের কাছে খবর আসে, ইসফাতুলকে চকরিয়া পৌরসভার সবুজবাগ আবাসিক এলাকার একটি ভবনে আটকে রাখা হয়েছে।
খবর পেয়ে তাঁরা ভবনটির ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। তবে ভবনের প্রহরী তাঁদের বাধা দিলে সেখানে উত্তেজনা দেখা দেয়।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভবনটিতে তল্লাশি চালায়। কিন্তু এর মধ্যেই পরিস্থিতি আরও রহস্যময় হয়ে ওঠে। খবর আসে, মহাসড়কের পাশে পড়ে আছে ইসফাতুলের লাশ। পরে পুলিশ সেখানে গিয়ে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে।
চকরিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, ইসফাতুলের গলায়, কপালে ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাঁকে কারা তুলে নিয়ে গিয়েছিল এবং কী কারণে হত্যা করা হয়েছে, তা অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
ওসি জানান, এ ঘটনায় তিন নারীকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ইসফাতুলের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ইসফাতুলকে রাতের বেলায় তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ, পরে একটি ভবনে তাঁকে আটকে রাখার খবর এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মহাসড়কের পাশে তাঁর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটির পেছনের কারণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত করছে পুলিশ।




