ভোটযুদ্ধ শুরু ২১ জানুয়ারি

সাত ধাপ থেকে পাঁচ ধাপ, ইউপি নির্বাচনের নতুন রোডম্যাপ ঘোষণা ইসির

অনলাইন ডেস্ক

দেশের ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে নির্বাচনী আমেজ ছড়িয়ে পড়তে যাচ্ছে। ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি প্রথম ধাপের ভোট গ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হবে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের নতুন পর্ব।

- Advertisement -

পাঁচ ধাপে অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচন আগামী ২৭ মে’র মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

- Advertisement -
google news follower

প্রাথমিক পরিকল্পনায় সাত ধাপের কথা থাকলেও সময়ের স্বল্পতা ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনের কথা বিবেচনায় নিয়ে পাঁচ ধাপে নির্বাচন সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এ তথ্য জানিয়েছেন।

- Advertisement -
islamibank

আজ রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ইউপি নির্বাচন নিয়ে কমিশন সভা শেষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ. এম. এম. নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্য চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

ইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত পাঁচ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজন করা হবে।

ঘোষিত সূচি অনুযায়ী ভোটের তারিখগুলো হলো-প্রথম ধাপ: ২১ জানুয়ারি ২০২৭, দ্বিতীয় ধাপ: ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৭, তৃতীয় ধাপ: ২৯ এপ্রিল ২০২৭, চতুর্থ ধাপ: ১৩ মে ২০২৭ ও পঞ্চম ধাপ: ২৭ মে ২০২৭।

আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, আগামী ২৭ মে’র মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। আনুমানিক ৪ হাজার ৩০০টি ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে। আইন অনুযায়ী, এসব ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন ২০২৭ সালের ২৭ মে’র মধ্যে শেষ করতে হবে।

ইউপি নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনায় পরিবর্তনের কারণও ব্যাখ্যা করেছেন নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ।

তিনি জানান, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের কথা বলা হয়েছিল। তবে সময়ের স্বল্পতার কারণে সেই পরিকল্পনা পরিবর্তন করে পাঁচ ধাপে নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি নির্ধারণের ক্ষেত্রে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন বিবেচনায় নিতে হয়েছে বলে জানান তিনি।

তাঁর ভাষ্য, আগামী ছয় থেকে সাত মাসের মধ্যে দুটি ঈদ, দুটি পরীক্ষা এবং বিশ্ব ইজতেমাসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কমিশনকে তুলনামূলক আঁটসাঁট সময়সূচির মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করতে হয়েছে।

তিনি বলেন, ২১ জানুয়ারির আগেই ইউপি নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা ছিল। কিন্তু বিভিন্ন আয়োজন একই সময়সীমার মধ্যে পড়ে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়সূচি অনুসরণ করেই এগোতে হচ্ছে।

ইউপি নির্বাচনের তফসিল কেন্দ্রীয়ভাবে একযোগে ঘোষণার পরিবর্তে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা ঘোষণা করবেন বলে জানিয়েছেন আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

তিনি জানান, সাধারণত ভোটের প্রায় ৪২ থেকে ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে। অর্থাৎ, সংশ্লিষ্ট ধাপের ভোটের তারিখ সামনে রেখে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা তফসিল প্রকাশ করবেন।

ভোটের দিন নির্ধারণের ক্ষেত্রেও একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুসরণের কথা জানিয়েছেন তিনি।

সানাউল্লাহ বলেন, সব ধাপের ভোট বৃহস্পতিবারে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। পাশাপাশি সব জেলায় নির্বাচন কার্যক্রম শুরু করা হবে এবং সদর উপজেলাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

আইন অনুযায়ী যেসব ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষ হয়েছে, সেগুলোকে নির্বাচনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করবে নির্বাচন কমিশন।

এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আগে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সে সময় কমিশনকে জানানো হয়েছিল, নভেম্বরের মধ্যে তাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা প্রস্তুতি ও সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোর সক্ষমতা নিশ্চিত করতে পরবর্তী সময়ে আবারও বৈঠক করা হবে বলে জানান তিনি।

নির্বাচনী আইন সংশোধন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, যেদিন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে, সেদিন যে আইন বলবৎ থাকবে, সেই আইন অনুসারেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

অন্যদিকে নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপের বিষয়ে তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনের বাকি কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চলমান থাকবে।

ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

তিনি বলেন, কমিশন আশা করে, যে ভালো নির্বাচনী সংস্কৃতি শুরু হয়েছে, তা অব্যাহত থাকবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

পাঁচ ধাপের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ২০২৭ সালের ২৭ মে’র মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ প্রায় ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য পূরণে এগোবে নির্বাচন কমিশন।

এখন নির্বাচনের নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী প্রস্তুতি, তফসিল ঘোষণা এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম কতটা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, সেদিকেই থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের নজর।

KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ