সপ্তম শ্রেণিতে পড়ালেখার পাশাপাশি ভালোবাসত খেলাধুলাও। সহপাঠীদের সঙ্গে হাসি-আনন্দে কাটত বিদ্যালয়ের সময়। কিন্তু সেই চেনা দিনগুলো আর ফিরবে না রাইসা তানিয়া রাধিকার জীবনে।
হামে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভায়।
প্রিয় সহপাঠীর নিথর দেহ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়ে শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম ন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় রাধিকা।
সে দোহাজারী জামিজুরী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাড়ি উপজেলার জামিজুরী ঘোড়াপাড়া এলাকায়। সে ওই এলাকার মোহাম্মদ আলীর মেয়ে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেল ৩টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে রাধিকার মরদেহ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আনা হয়। পরিচিত সেই প্রাঙ্গণে প্রিয় বন্ধুর নিথর দেহ দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেনি সহপাঠীরা। কান্নায় ভেঙে পড়ে তারা।
মুহূর্তেই বিদ্যালয়জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে শোকের আবহ। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যেও নেমে আসে গভীর বিষাদ।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিষ্ণু যশা চক্রবর্তী জানান, প্রায় ২০ দিন আগে রাধিকা একবার অসুস্থ হয়েছিল। পরে সুস্থ হয়ে সে বোনের বাড়িতে বেড়াতে যায়।
এরপর হামে আক্রান্ত হয়ে আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চট্টগ্রাম ন্যাশনাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
প্রধান শিক্ষক বলেন, পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলাতেও পারদর্শী ছিল রাধিকা। তার এমন মৃত্যুতে বিদ্যালয়ের সবাই শোকাহত।
একজন শিক্ষার্থীর অকালমৃত্যুতে শোকস্তব্ধ তার সহপাঠী ও শিক্ষকরা। যে বিদ্যালয় ছিল তার প্রতিদিনের চেনা ঠিকানা, সেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণেই বুধবার তাকে ঘিরে তৈরি হয় বিষাদের এক স্মরণীয় মুহূর্ত।
রাধিকাকে হারিয়ে তার সহপাঠীদের মনে রয়ে গেল এক গভীর শূন্যতা।




