শ্রমিকদের নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র না দেওয়া, ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়ন না করা, অতিরিক্ত কাজের মজুরি এবং ছুটির সুবিধা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে চট্টগ্রামের বেকারি ও মিষ্টান্ন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ফুলকলি ফুড প্রোডাক্টসের পরিচালকদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর।
প্রতিষ্ঠানের বাকলিয়ায় অবস্থিত কারখানায় শ্রম আইন ও বিধিমালার বিভিন্ন বিধান অনুসরণ না করার অভিযোগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম মহানগর দ্বিতীয় শ্রম আদালতে মামলাটি করা হয়। মামলার নম্বর ৬৬/২৬।
শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা, মজুরি ও ছুটির সুবিধা থেকে শুরু করে কারখানার অগ্নিনিরাপত্তা-বিভিন্ন বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে পরিদর্শন প্রতিবেদনে।
একাধিকবার নোটিশ ও তাগিদপত্র দেওয়ার পরও অভিযোগগুলোর সন্তোষজনক সমাধান না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে শ্রমিকদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, চুক্তিভিত্তিক মজুরিতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাঁদের ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়।
অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে কাজে অনুপস্থিত থাকলে সেদিনের মজুরি না পাওয়া এবং সাপ্তাহিক ছুটি নিলে মজুরি কেটে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন শ্রমিকেরা।
পরিদর্শন প্রতিবেদনে শ্রমিকদের নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র না দেওয়া, সার্ভিস বই এবং ছুটির রেজিস্টার সংরক্ষণে ঘাটতির বিষয় উঠে এসেছে।
পাশাপাশি অতিরিক্ত কাজের মজুরি পরিশোধ না করা এবং সরকার নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়ন না করার অভিযোগও রয়েছে।
এ ছাড়া সাপ্তাহিক ছুটি, ক্ষতিপূরণমূলক ছুটি ও অর্জিত ছুটির হিসাব সংরক্ষণ এবং শ্রমিকদের প্রাপ্য সুবিধা নিশ্চিত করা নিয়েও অনিয়মের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৫ জানুয়ারি ফুলকলির বাকলিয়া কারখানা পরিদর্শন করেন শ্রম পরিদর্শকেরা। পরিদর্শনে পাওয়া অনিয়ম সংশোধনের জন্য ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানটিকে নোটিশ দেওয়া হয়।
এরপর গত ৪ আগস্ট পুনরায় কারখানা পরিদর্শন করা হলে আগের অনিয়মের পাশাপাশি আরও কিছু ঘাটতি শনাক্ত করা হয়।
এ অবস্থায় ১৭ আগস্ট প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পরিচালক ও মহাব্যবস্থাপকের কাছে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাগিদপত্র পাঠানো হয়।
তবে অভিযোগগুলোর সন্তোষজনক সমাধান না হওয়ায় অধিদপ্তর শেষ পর্যন্ত আদালতের শরণাপন্ন হয়। গত ৩০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম মহানগর দ্বিতীয় শ্রম আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়।
শুধু মজুরি ও ছুটির সুবিধা নয়, কারখানার কর্মপরিবেশ এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও বিভিন্ন ঘাটতির কথা উঠে এসেছে পরিদর্শন প্রতিবেদনে।
অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে জরুরি বহির্গমনপথ যথাযথভাবে চিহ্নিত না করা, অগ্নিনিরাপত্তা মহড়ার নথি দেখাতে না পারা, বৈদ্যুতিক ওয়্যারিংয়ের উপযুক্ততার সনদ উপস্থাপনে ব্যর্থতা এবং শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা-সংক্রান্ত নোটিশ যথাযথভাবে প্রদর্শন না করা।
কারখানার নিরাপত্তাব্যবস্থায় এ ধরনের ঘাটতির অভিযোগ শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ ও জরুরি পরিস্থিতিতে তাঁদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে সামনে এনেছে।
অভিযোগের বিষয়ে ফুলকলি ফুড প্রোডাক্টসের জেনারেল ম্যানেজার এ সবুর বলেন, কলকারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তর আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনে মামলা করেছে, এটাও তাদের বিষয়। কিন্তু আইন সবার জন্যই আছে। আমরাও আমাদের পক্ষ থেকে আইনিভাবে উত্তর দেব।
তিনি আরও বলেন, আমরা এখনো কোনো নোটিশ পাইনি। পেলে সে বিষয়ে ভাবব। আইনের প্রতি আমাদের সম্মান আছে। যদি মামলা হয়, তো সবই আইন অনুযায়ী হবে।




