সারাবিশ্ব বিস্ময়ে বাংলাদেশকে দেখবে: প্রধানমন্ত্রী

আমরা মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছি। আমরা বীরের জাতি। আর বিজয়ী জাতি মাথা উঁচু করে চলবে। এ দেশকে এমনভাবে গড়ে তুলতে চাই যাতে বাংলোদেশের মানুষ বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলতে পারে। তাই নতুন নতুন কিছু করার চেষ্টা করি। একদিন সারাবিশ্ব বিস্ময়ে বাংলাদেশকে দেখবে।

- Advertisement -

রোববার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পতেঙ্গায় এক সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর এ প্রথম চট্টগ্রাম সফরে আসলেন প্রধানমন্ত্রী।

- Advertisement -
google news follower

তিনি বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এ প্রথম নদীর তলদেশে এত বড় টানেল বাংলাদেশে নির্মিত হচ্ছে। ২০১০ সালে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ করবো ঘোষণা দিয়েছিলাম। এখন নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যদিয়ে দেশ উন্নয়নের নতুন ধাপে প্রবেশ করেছে।

সাবেক মেয়র প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহিউদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রামের মেয়র ছিলেন। টানেল নির্মাণের দাবিতে তিনিও আন্দোলন করেছিলেন। নদীর ওপর ঘন ঘন ব্রিজ করলে নদীর ক্ষতি হবে। তাই তিনি কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ করলে নদীর কোনো ক্ষতি হবে না-এটাই ছিল তাঁর যুক্তি। তবে এটেই ছিল একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি। আজকের এমন দিনে তিনি বেঁচে থাকলে খুব খুশি হতেন।

- Advertisement -
islamibank

শেখ হাসিনা বলেন, ৯৬ সালে যখন ক্ষমতায় এসেছিলাম তখন দেশে ৪০ লক্ষ মেট্রিকটন খাদ্য ঘাটতি ছিল, চারদিকে ছিল বিদ্যুতের হাহাকার। ক্ষমতায় এসে কিভাবে মানুষের মুখে খাবার তুলে দিতে পারি সে চেষ্টাই করেছি আমরা। সে সমযে বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ ঘোষণা দিয়েছিলাম। পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ফিরিয়ে এনেছিলাম।

চট্টগ্রামকে প্রাকুতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু বাণিজ্যিক দিক থেকে নয় প্রাকৃতিক দিক থেকে চট্টগ্রাম অপূর্ব একটি জায়গা। তাই চট্টগ্রামকে সুন্দরভাবে কিভাবে গড়ে তোলা যায়, এ বিষয়ে জাতির পিতার চিন্তা ছিল। আমরা সে অনুযায়ী চট্টগ্রামের উন্নয়ন করে যাচ্ছি।

পদ্মাসেতু নির্মাণকাজে  মিথ্যা দুর্নীতির অভিযোগ বিষয়ে তিনি বলেন, ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর পুনরায় পদ্মাসেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিই। সবাই তখন এটি নির্মাণের অর্থায়নের ব্যাপারে আগ্রহ দেখায়। সব থেকে বেশি উৎসাহ দেখিয়েছিলো ওয়ার্ল্ড ব্যাংক। হঠাৎ মাঝামাঝি সময়ে এসে তারা অভিযোগ আনলো, এখানে দুর্নীতি হয়েছে। তাদের অফিসার কিছুদিন পর পর দেশে আসতেন আর অপপ্রচার চালাতেন। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলাম কোথায় দুর্নীতি হয়েছে দেখাতে হবে। বার বার চিঠি দিয়ে জানাতে বলেছি, কোথায় দুর্নীতি হয়েছে তার প্রমাণ দিতে হবে। কিন্তু তারা তা পরেননি।

সুধী সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, গৃহায়ন ও গণপুর্তমন্ত্রী স ম রেজাউল করিম, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও  চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

জয়নিউজ/পলাশ/শহীদ
KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ