ডিপোতে বিস্ফোরণ : মৃত ৮ ফায়ার সার্ভিস কর্মীর পরিচয় মিলেছে

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপো পরিণত হয়েছে মৃত্যুপুরীতে। ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থল থেকে একের পর এক বেরিয়ে আসছে মরদেহ। দীর্ঘ থেকে আরো দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি।

- Advertisement -

এ ঘটনায় রবিবার (৫ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের ৯ কর্মীসহ মোট ৪৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। দগ্ধ হয়েছেন চার শতাধিক। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়ার আশংকা করছেন দমকল বাহিনী।

- Advertisement -
google news follower

নিহত ৯ জনের মধ্যে আট জন ফায়ার সার্ভিসকর্মীর মরদেহ শনাক্ত করা গেছে। অপরজনের পরিচয় শনাক্তে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তাছাড়া নিখোঁজ রয়েছেন ১২ জন। এদের মধ্যেও কয়েকজনের পরিচয় জানা গেছে।

নিহত ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা হলেন, কুমিরা ফায়ার স্টেশনের ফায়ারফাইটার ও মানিকগঞ্জ জেলার বাসিন্দা মো. রানা মিয়া, একই ফায়ার স্টেশনের নার্সিং অ্যাটেনডেন্ট ও কুমিল্লা জেলার বাসিন্দা মো. মনিরুজ্জামান, ফায়ারফাইটার ও নোয়াখালী জেলার বাসিন্দা মো. আলাউদ্দিন, ফায়ার স্টেশনের কর্মী মো. শাকিল তরফদার, স্টেশন লিডার ও রাঙ্গামাটি জেলার বাসিন্দা মিঠু দেওয়ান, একই জেলা ও একই ফায়ার স্টেশনের লিডার নিপন চাকমা, ফায়ারফাইটার ও শেরপুর জেলার বাসিন্দা রমজানুল ইসলাম এবং সীতাকুণ্ড ফায়ার স্টেশনের ফায়ার ফাইটার ও ফেনী জেলার বাসিন্দা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী।

- Advertisement -
islamibank

এখনো নিখোঁজ রয়েছেন কুমিরা ফায়ার স্টেশনের লিডার ও চাঁদপুর জেলার বাসিন্দা মো. ইমরান হোসেন মজুমদার, ফায়ার ফাইটার ও সিরাজগঞ্জ জেলার বাসিন্দা শফিউল ইসলাম, সীতাকুণ্ড ফায়ার স্টেশনের ফায়ার ফাইটার ও নওগাঁর বাসিন্দা মো. রবিউল ইসলাম, সীতাকুণ্ড ফায়ার স্টেশনের ফায়ার ফাইটার ও রংপুর জেলার বাসিন্দা ফরিদুজ্জামান। নিখোঁজ আরো ৪ জনের নাম পরিচয় শণাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

এর আগে শনিবার (৪ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী এলাকার বিএম কন্টেইনার ডিপোতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আগুন লাগার পর কনটেইনার বিস্ফোরিত হয়। যার ফলে সেখানে থাকা ক্যামিক্যালের প্রভাবে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ডিপোতে এসময় প্রায় ৫ হাজার কনটেইনার ছিল।

পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রাত পৌনে ১১টার দিকে এক কনটেইনার থেকে অন্য কনটেইনারে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। একটি কনটেইনারে রাসায়নিক থাকায় বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে ঘটনাস্থল থেকে অন্তত চার কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকা কেঁপে ওঠে, আশপাশের বাড়িঘরের জানালার কাঁচ ভেঙে পড়ে।

সবশেষ খবর অনুযায়ী আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ২৮টি ইউনিট কাজ করছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, র্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনীর টিম কাজ করছেন।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২০ ঘণ্টা পার হলেও এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি আগুন। এখনো ক্ষণে ক্ষণে কেঁপে উঠছে এলাকা। ঘটনাস্থলের আশপাশে আগুন, উত্তাপ ও ধোঁয়া প্রত্যক্ষভাবে ছড়িয়েছে আড়াই বর্গকিলোমিটার এলাকায়, আর প্রভাব পড়েছে ১০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৫০ জন সদস্য কাজ করছেন। উদ্ধার অভিযান ও আগুন নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য সেনাবাহিনীর একটি বিশেষজ্ঞ দলও কাজ করছে। এ ছাড়া সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার ও নিরাপত্তা দলও নিয়োজিত রয়েছে। তাদের সঙ্গে আছে মিলিটারি পুলিশ।

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত রাসায়নিক সামগ্রী সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়া রোধে এ দল কাজ করছে। আর বিস্ফোরণে আহত ব্যক্তিদের সেনাবাহিনীর মেডিকেল টিম চিকিৎসাসেবা দিতে কাজ করে চলেছে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, কনটেইনার ডিপোটিতে বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক ‘হাইড্রোজেন পারক্সাইড’ ছিল। হাইড্রোজেন পারক্সাইড একটি রাসায়নিক যৌগ। এ কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না।

জেএন/টিটি

KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ