মেয়াদ অনিশ্চয়তায় বিদ্যুৎ-জ্বালানির অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি

অনলাইন ডেস্ক

সরকারের মেয়াদের অনিশ্চয়তা ও অর্থায়ন সংগ্রহ করতে না পারায় বিদ্যুৎ-জ্বালানির অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. ফাওজুল কবির খান।

- Advertisement -

আজ (মঙ্গলবার) বিদ্যুৎ ভবনে ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ (এফইআরবি) আয়োজিত এনার্জি ফর চেঞ্জ প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

- Advertisement -
google news follower

তিনি বলেন, অনেক চেষ্টা করেও ‍তৃতীয় এফএসআরইউ স্থাপন করতে পারিনি। কারণ, সরকারের মেয়াদ নিয়ে অনিশ্চয়তা। সৌদি যুবরাজ সালমানের বড় ভাইকে বিনিয়োগের বিষয়ে বললাম, তখন তিনি বললেন, আপনারা আর কতদিন আছেন! একই কারণে গভীর সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান এগিয়ে নেওয়া যায়নি। আগের সরকারের সময়ে দরপত্র আহ্বান করা হয়, কয়েকটি কোম্পানি দরপত্র কিনলেও জমা দেয়নি। আমরা ওদের কাছে যখন কারণ জানতে চাইলাম, ওরা কিছু কারণ জানিয়েছে।

তিনি বলেন, ইস্টার্ন রিফাইনারি-২ অর্থায়ন জোগাড় করতে বেগ পেতে হয়েছে। ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ও আরেকটি ব্যাংক পেয়েছি। এটি করা গেলে তেল পরিশোধনের সক্ষমতা বাড়বে। এফএসআরইউ, অনসোর অফসোর রেডি রয়েছে, নতুন সরকার চাইলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে, কারণ গ্রাউন্ড ওয়ার্ক রেডি।

- Advertisement -
islamibank

উপদেষ্টা বলেন, জ্বালানি বিভাগের বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, বিশাল বকেয়ার বিষয়টি। তৎকালীন জ্বালানি সচিব আমাকে জানালেন ৫ কর্মদিবসের মধ্যে বকেয়া বিল না দিলে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ করে দেবে। আমরা পেমেন্ট দেওয়ায় অনেক কমদামে জ্বালানি কিনতে পারছি। এলএনজির আমদানির ক্ষেত্রে প্রিমিয়াম খরচ কম হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিপিসি তেল আমদানির ক্ষেত্রে কিছু জটিল শর্ত ছিল। আমরা সেই বিধিনিষেধ তুলে দিলাম, এতে অনেক প্রতিযোগিতা হচ্ছে, কম দামে পাচ্ছি। প্রথম ৫ মাসে ১৫০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। একইভাবে এলএনজি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকা বাড়িয়ে দিলাম, এখন প্রতিযোগিতা বেড়েছে।

বিদ্যুৎ জ্বালানি খাত ছিল দুর্নীতিগ্রস্ত। সেই দুর্নীতিগ্রস্ত প্রক্রিয়া থেকে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যাওয়া কঠিন কাজ ছিল। বিইআরসির ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া, দুর্নীতির সুযোগ যাতে সীমিত করা তার প্রচেষ্টা নেওয়া। মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা, আরইবি ও সমিতির ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরির জন্য নীতিমালা প্রায় চূড়ান্ত করাকে সফলতা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, দুর্নীতি অনুসন্ধানে দু’টি কমিটি করা হয়, এখানে তারা তুলে ধরেছেন কিভাবে দুর্নীতি হয়েছে। কমিটি প্রকল্প ধরে ধরে রিপোর্ট দিয়েছে। আমরা এটা রেখে যাচ্ছি, পরবর্তী সরকার যাতে ব্যবস্থা নিতে পারে। আগে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সচিবরা স্ব স্ব বিভাগের আওতাধীন কোম্পানির চেয়ারম্যান হতেন। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই নিয়ম বদলে দিয়েছি।

তিনি বলেন, তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে কূপ খনন কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে, ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি করতে সময় লেগেছে। যে গ্যাস পেয়েছি, উৎপাদন হ্রাসের তুলনায় কম। যে কারণে গ্যাস ঘাটতি দূর করা যায়নি।

এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমরা কেমন অবস্থায় দায়িত্ব নিয়েছি সেটা একবার চিন্তা করা দরকার। অনেকেই তখন বলেছিলেন দেশ শ্রীলংকার মতো দেউলিয়া হয়ে যাবে। ১৭০টি আন্দোলন মোকাবিলা করে, ভালো একটি নির্বাচন আয়োজন করতে পেরেছি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এফইআরবি চেয়ারম্যান শামীম জাহাঙ্গীর, জ্বালানি বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ফারজানা মমতাজ প্রমুখ।

জেএন/এমআর

KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ