বাজারে মুরগি ও পেঁয়াজের দাম চড়া

অনলাইন ডেস্ক

জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের সাধারণ ছুটির প্রভাবে অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে নগরীর নিত্যপণ্যের বাজার।

- Advertisement -

ছুটির কারণে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল সীমিত হওয়া এবং আড়তগুলো বন্ধ থাকায় বাজারে সরবরাহ কমেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে মুরগি ও পেঁয়াজের দামে।

- Advertisement -
google news follower

নির্বাচনের ছুটির পরপরই ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

বর্তমানে বাজারগুলোতে সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩১০ টাকা কেজিতে। সোনালি হাইব্রিড জাতের মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকায়।

- Advertisement -
islamibank

এছাড়া ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়ে ১৭০ থেকে ১৮৫ টাকার মধ্যে অবস্থান করছে। বিক্রেতারা বলছেন, খামার থেকে সরবরাহ না আসায় দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না।

পেঁয়াজের বাজারেও অস্বস্তি কাটছে না। পুরোনো দেশি পেঁয়াজ চড়া দামে ১১০ থেকে ১৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

তবে বাজারে নতুন (মুড়িকাটা) পেঁয়াজের সরবরাহ থাকায় ক্রেতাদের কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে, যা মানভেদে ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষক ও ব্যবসায়ীদের মতে, ভোটের দিনের কড়াকড়ি এবং পরবর্তী ছুটির কারণে পাইকারি বাজার থেকে খুচরা পর্যায়ে পণ্য পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি হয়েছে।

বিভিন্ন বাজার ও অন্যান্য আড়তে পণ্যবাহী যানবাহনের সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম ছিল।

ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ব্যাংক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুরোদমে চালু হলে এবং পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক হলে দাম আবারও নাগালে চলে আসবে।

শুক্রবারও (১৩ ফেব্রুয়ারি) সবজি, মুরগি, পেঁয়াজসহ বেশকিছু পণ্যের দাম নিয়ে চট্টগ্রামের খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতারা জানিয়েছেন, সীমিত পরিসরে পরিবহন চলাচল করায় দেড় থেকে দ্বিগুণ বেড়েছে পরিবহন খরচ। যা সরাসরি প্রভাব ফেলেছে কাঁচাপণ্যের দামে।

কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি সবজি ভোটের আগের সময়ের চেয়ে কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে, ভোটের কারণে নগরের বাজারে মানুষের চাপও কমেছে। বাজারে ক্রেতা উপস্থিতিও কম, যে কারণে বেচাবিক্রিও কমেছে।

খরচ বেশি পড়ায় অনেক বাজারের দোকানি ও ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতারা আজ সবজি নিয়ে আসেননি। অনেক দোকানও বন্ধ দেখা গেছে।

বিক্রেতা রাশেদ বলেন, সরবরাহ যেমন কম, ক্রেতাও কম। যে কারণে দাম ১০-২০ টাকা বাড়লেও নাগালের মধ্যে রয়েছে। স্বাভাবিক সময়ের মতো ক্রেতা থাকলে দাম আরও কয়েকগুণ বাড়তো।

অপর এক বিক্রেতা বলেন, বৃহস্প্রতিবার রাতে বাজারে সবজি আমদানি কম হয়েছে। যে কারণে শসা, মটরশুটি, ফুলকপি, বাঁধাকপি আমিই কিনতে পারিনি। এগুলো আজ দোকানেই নেই।

ব্যবসায়ীরা জানান, বেগুন, ঝিঙা, শসা, ঢ্যাঁড়স, চিচিঙা, বাঁধাকপি, ফুলকপিসহ অন্যান্য সবজি এক থেকে দুই দিনের বেশি মজুত করা যায় না।

এর বেশি হলে এসব সবজি নষ্ট হতে শুরু করে। ভোটে যানবাহন বন্ধ থাকায় বাজারেই সবজি সরবরাহ কম। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে।

এদিকে, আরও কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এখন প্রতি কেজি শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকা ও টমেটো ৫০ থেকে ৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

এ দুই সবজির দাম কেজিপ্রতি ২০ টাকা বেড়েছে। এছাড়া কাঁচা মরিচ ১৬০ থেকে ২০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে, যা ভোটের আগের চেয়ে ৪০ টাকা বেশি।

এদিকে, প্রতি কেজি শিম, মুলা, পেঁপে মানভেদে ৪০ থেকে ৬০ টাকা, বেগুন ৭০ থেকে ৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এদিকে, হাইব্রিড করলা ও মটরশুটির দাম উঠেছে ১৬০ থেকে ২০০ টাকায়।

অন্যদিকে, বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ১০ টাকা। প্রতি কেজি ৫০ টাকার পেঁয়াজ এখন ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে বাজারে তেল, চিনির মতো মুদিপণ্যের দামে খুব একটা হেরফের হয়নি। ডিমের দাম প্রতি ডজন ১১০-১১৫ টাকার মধ্যে স্থিতিশীল রয়েছে।

KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ