সমালোচনার মুখে ইউএনওর দেয়া রায় বাতিল: মা-মেয়েকে বেকসুর খালাস

অনলাইন ডেস্ক

কক্সবাজারের পেকুয়ায় পুলিশের কাছে ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়া নিয়ে দ্বন্দ্বে কলেজশিক্ষার্থী জুবাইদা জান্নাত (২৩) ও তার মা রেহেনা মোস্তফা রানু (৩৮)কে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুব আলম।

- Advertisement -

দুজনই পেকুয়া উপজেলার সাবেক গুলদি এলাকার মৃত নুরুল আবছারের স্ত্রী ও কণ্যা। মা-মেয়ের এমন শাস্তি হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সমালোচনার মুখে পড়ে।

- Advertisement -
google news follower

অবশেষে সেই মা-মেয়ের মুক্তি মিলেছে। শনিবার (৭ মার্চ) সন্ধ্যায় কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান তারা। এর আগে গত বুধবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের সাজা দিয়েছিলেন ইউএনও মাহবুব আলম।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পেকুয়া উপজেলার সাবেক গুলদি এলাকার মৃত নুরুল আবছারের স্ত্রী রেহেনা মোস্তফা রানু (৩৮) এবং তার মেয়ে কলেজ শিক্ষার্থী জুবাইদা জান্নাতকে (২৩) শনিবার কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক দেয়া এক মাসের কারাদণ্ডের রায় বাতিল করে খালাস দেন।

- Advertisement -
islamibank

পরে কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তারা চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

এর আগে ভুক্তভোগীদের পরিবার জানিয়েছে, জমি সংক্রান্ত একটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন নিজেদের পক্ষে পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পেকুয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পল্লব ওই পরিবারের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন।

একপর্যায়ে ভয়ভীতি ও নানা অজুহাত দেখিয়ে টাকা আদায় করলেও পল্লব সেই প্রতিবেদন প্রতিপক্ষের পক্ষে জমা দেন।

গত বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে এ ব্যাপারে কথা বলতে গেলে এসআই পল্লব ক্ষিপ্ত হয়ে মা-মেয়েকে থানা কম্পাউন্ডে মারধর করেন এবং আটকে রাখেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জুবাইদার প্রতিবেশী মনজিলা বেগম বলেন, আমি তাদের সঙ্গে থানায় গিয়েছিলাম, এসআই পল্লবের কাছে জুবাইদা টাকা ফেরত চাইলে তিনি চড়াও হয়ে তেড়ে যান।

পরে পুলিশ সদস্যরা জুবাইদা ও তার মাকে আটকে রাখেন এবং সেখানে উপস্থিত আমাদের কয়েকজনকে চলে যেতে বলেন।

এমন পরিস্থিতিতে কিছুক্ষণের মধ্যে পুলিশের তথ্যে থানায় আসেন ইউএনও মাহবুব আলম।

স্বজনেরা অভিযোগ করেন, ঘুষ লেনদেনের ফলে পল্লবের সঙ্গে তৈরি হওয়া বিরোধের কারণ বর্ণনা করলেও ইউএনও তা আমলে না নিয়ে উলটো ভুক্তভোগীদেরকে বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর হামলার মিথ্যা অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজা শুনিয়ে কারগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

ভুক্তভোগী জুবাইদার ছোট ভাই রুবেল বলেন, আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে মামলা চলছে। এসআই পল্লব নানাভাবে হয়রানি করে আসছিল।

ন্যায়বিচারের পরিবর্তে আমার মা ও বোনকে দোষী বানিয়েছেন ইউএনও। ওসি-এসআই পল্লবের যোগসাজশে তিনি এমন অন্যায় করেছেন।

রেহেনা মোস্তফা রানুর বোন আমেনা মুন্নী (জুবাইদার খালা) বলেন, পরিকল্পিতভাবে আমার বোন ও বোনের মেয়েকে ফাঁসানো হয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, থানায় পুলিশের মারধরে রেহেনা মোস্তফা রানু ও তার মেয়ে জুবাইদা গুরুতর আহত হয়েছেন।

তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ কারণে চিকিৎসার জন্য তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় বক্তব্য নেয়ার জন্য অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শাহীদুল আলম এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তারা ফোনে সাড়া দেননি।

KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ