চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে এক মাস বয়সী এক কন্যাশিশুকে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে অন্য পরিবারের কাছে দিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
শিশুটিকে মারা গেছে বলে পরিবারের সদস্যদের জানানো হলেও দাফনের স্থান দেখাতে পারেনি তারা।
এ ঘটনায় শিশুটির দাদি ফিরোজা বেগমের সন্দেহ হলে থানায় অভিযোগ করেন তিনি।
পরে পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে শিশুটিকে হাটহাজারীর একটি নিঃসন্তান পরিবারের কাছে দিয়ে দেওয়ার তথ্য।
দাদির অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে শনিবার (১ আগস্ট) দিবাগত রাতে হাটহাজারী উপজেলার বড় দিঘিরপাড় এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ।
পরে রোববার (২ আগস্ট) সকালে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে শিশুটিকে তার মা-বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বোয়ালখালীর পূর্ব চরণদ্বীপ এলাকার সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মো. রাকিবের (১৮) সঙ্গে একই এলাকার রোকসানা বেগমের (১৮) বিয়ে হয়।
গত ২০ জুন তাদের ঘরে জন্ম নেয় একটি কন্যাশিশু। সন্তান জন্মের পর রোকসানা শিশুটিকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান।
এরপর গত ২৭ জুলাই শিশুটির দাদি ফিরোজা বেগমকে জানানো হয়, তার নাতনি মারা গেছে এবং দাফনও সম্পন্ন হয়েছে।
কিন্তু বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হয় দাদির। তিনি শিশুটির কবর দেখতে চাইলে মেয়ের পরিবারের সদস্যরা কবরের স্থান দেখাতে পারেননি।
এতেই সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয় ফিরোজা বেগমের। পরে তিনি বিষয়টি জানিয়ে বোয়ালখালী থানায় অভিযোগ করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে নামে পুলিশ। একপর্যায়ে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, শিশুটিকে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে হাটহাজারীর একটি নিঃসন্তান পরিবারের কাছে দিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এরপর তথ্যের ভিত্তিতে হাটহাজারীর বড় দিঘিরপাড় এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকেই এক মাস বয়সী শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত করে হাটহাজারীর বড় দিঘিরপাড় এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার সকালে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে শিশুটিকে তার মা-বাবার কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।




