১,২৮২ কনটেইনার নিয়ে বিপাকে সিএনসি ইউরেনাস, বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা

অনলাইন ডেস্ক

কর্ণফুলী নদীর মোহনা পেরিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের প্রবেশপথে ঢোকার মুখে হঠাৎ বিকল হয়ে যায় কন্টেইনারবাহী বিদেশি জাহাজের স্টিয়ারিং।

- Advertisement -

মুহূর্তেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে জাহাজটি ভাসতে ভাসতে চলে যায় মোহনার বাইরে। প্রায় ৪০ মিনিট পর নেভাল একাডেমির পশ্চিম পাশে সাগরের চরে গিয়ে আটকা পড়ে জাহাজটি।

- Advertisement -
google news follower

সোমবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে ঘটে এই ঘটনা।

মাল্টার পতাকাবাহী ‘সিএনসি ইউরেনাস’ নামের জাহাজটিতে ছিল আমদানি পণ্যভর্তি ১ হাজার ২৮২ একক কন্টেইনার।

- Advertisement -
islamibank

চীনের শেনজেন বন্দর থেকে আসা জাহাজটির গন্তব্য ছিল চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি)।

জাহাজটিতে থাকা কয়েক হাজার কোটি টাকা মূল্যের আমদানি পণ্যের কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে জাহাজে থাকা সব বিদেশি নাবিক নিরাপদে আছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ বলেন, সব নাবিক নিরাপদে অক্ষত আছে। বন্দর প্রবেশপথ সচল আছে।

তবে জাহাজের মেকানিক্যাল প্রবলেম হয়েছে তাই আমাদের মেরিন বিভাগের টীম টাগবোট নিয়ে ঘটনাস্থলে আছে।

এখন কর্ণফুলী নদীতে ভাটা শুরু হয়েছে। পরবর্তী জোয়ারে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।

চট্টগ্রাম বন্দরের প্রবেশপথেই যদি জাহাজটি আটকে যেত, তাহলে ব্যাহত হতে পারত জাহাজ চলাচল।

অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হতো দেশের ৯২ শতাংশ পণ্য আমদানি-রপ্তানি পরিবহনের অন্যতম প্রধান এই বন্দর লাইফলাইন। এতে বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারত চট্টগ্রাম বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম।

তবে শেষ পর্যন্ত সেই বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর।

চট্টগ্রাম বন্দরের মেরিন বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, ‘সিএনসি ইউরেনাস’ বহির্নোঙর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনালে (এনসিটি) ভেড়ার জন্য আসছিল।

কর্ণফুলী নদীর মোহনায় প্রবেশের কিছুদূর যাওয়ার পরই হঠাৎ জাহাজটির স্টিয়ারিং বিকল হয়ে যায়।

এরপর নিয়ন্ত্রণহীনভাবে জাহাজটি ভাসতে থাকে। দুপুর সোয়া ২টার দিকে ঘটনাটি ঘটার পর প্রায় ৪০ মিনিট ভেসে গিয়ে মোহনার পাশে নেভাল একাডেমির পশ্চিম পাশের সাগরে গিয়ে আটকা পড়ে।

ওই সময় কর্ণফুলী নদীতে ভাটা চলছিল। ফলে পানির গভীরতা কম থাকায় জাহাজটি চরে আটকে যায়।

পানির গভীরতা বেশি থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সে ক্ষেত্রে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি ছিল।

জাহাজটিকে নিরাপদে নোঙর করাতে ঘটনাস্থলে কাজ করছে চট্টগ্রাম বন্দরের চারটি টাগবোট।

পাশাপাশি মেরিন বিভাগের চারজন পাইলটও জাহাজটির নিরাপদ অবস্থান নিশ্চিত করতে কাজ করছেন।

বর্তমানে কর্ণফুলী নদীতে ভাটা শুরু হওয়ায় পরবর্তী জোয়ারের অপেক্ষায় রয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। জোয়ার এলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের মেরিন বিভাগ।

KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ