চট্টগ্রাম নগরীর বর্জ্য অপসারণে ব্যবহৃত পুরোনো গাড়ি ও যন্ত্রপাতি মেরামত এবং বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রাংশ কেনার নামে একসঙ্গে ৪৬টি দরপত্র আহ্বান করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)।
একটি-দুটি নয়, একই সময়ে এত বিপুলসংখ্যক গাড়ি, ভারী যন্ত্রপাতি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সরঞ্জাম মেরামতের উদ্যোগ স্বাভাবিকভাবেই সামনে আনছে কয়েকটি মৌলিক প্রশ্ন-এসব যানবাহনের প্রকৃত অবস্থা কী?
কোন ভিত্তিতে মেরামতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে? প্রতিটি গাড়ির সংস্কারে কত টাকা লাগবে? আর পুরোনো গাড়ি মেরামত করাই কি অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত?
চসিকের যান্ত্রিক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রুবেল চন্দ্র দাসের স্বাক্ষরে গত ১৯ আগস্ট প্রকাশিত দরপত্র বিজ্ঞপ্তিতে ৪৬টি কাজের তালিকা দেওয়া হয়েছে।
তালিকাটি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এর প্রায় সব কাজই নগরীর বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
কোথাও ময়লার গাড়ির ইঞ্জিন সংস্কার, কোথাও গিয়ারবক্স মেরামত, কোথাও বডি ও কেবিন পুনর্নির্মাণ, আবার কোথাও ডেন্টিং-পেইন্টিং, টায়ার ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সরবরাহের কাজ রাখা হয়েছে।
অর্থাৎ এটি কেবল কয়েকটি গাড়ির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নয়, বরং চসিকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত যানবাহন ও যন্ত্রপাতির বড় একটি অংশকে একযোগে সংস্কারের আওতায় আনা হয়েছে। এখানেই প্রশ্নের শুরু।
একই গাড়ি, একই ধরনের কাজ-কেন?
দরপত্র বিজ্ঞপ্তির একটি বিষয় বিশেষভাবে নজর কাড়ে। ২৭৪৩৬২ চেসিস নম্বরের একটি আইশার ময়লার গাড়ির সংস্কারের বিষয়টি তালিকায় একাধিকবার এসেছে। দুই ক্ষেত্রেই ইঞ্জিন, গিয়ারবক্স, বডি ও কেবিন সংস্কারের কথা উল্লেখ রয়েছে।
একই গাড়ির একই ধরনের কাজ যদি একাধিকবার দরপত্রে উঠে থাকে, তাহলে এর কারণ কী-এটি কি বিজ্ঞপ্তি তৈরির সময়ের অসাবধানতা, নাকি একই গাড়ির সংস্কারকে আলাদা কোনো কাজ বা অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে?
দরপত্রের নথিতে বিষয়টি স্পষ্ট না হলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়। কারণ সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে একটি গাড়ির জন্য কোন কাজ একবার, কোন কাজ আলাদাভাবে এবং কোন কাজ কোন প্যাকেজে রাখা হয়েছে-তার পরিষ্কার ব্যাখ্যা থাকা জরুরি।
শুধু এই একটি গাড়িই নয়, বিভিন্ন গাড়ির ক্ষেত্রেও কাছাকাছি ধরনের কাজ আলাদা আলাদা প্যাকেজে রাখা হয়েছে। কোথাও নির্দিষ্ট গাড়ির সংস্কার, কোথাও আবার একসঙ্গে বহু গাড়ির যন্ত্রাংশ সরবরাহ ও মেরামতের কাজ।
এই বিভাজনের কারিগরি ও আর্থিক ভিত্তি কী, সেটিও জানার বিষয়।
পুরোনো গাড়ি মেরামত, নাকি নতুন গাড়ি কেনা-কোনটি সাশ্রয়ী?
দরপত্রের তালিকায় থাকা অনেক গাড়ির জন্য ছোটখাটো রক্ষণাবেক্ষণের বদলে বড় ধরনের সংস্কারের কথা বলা হয়েছে।
কোনো গাড়ির শুধু বডি, কেবিন, ডেন্টিং ও রং করার কাজ রয়েছে। আবার কোনো গাড়ির ইঞ্জিন খুলে বড় ধরনের সংস্কার, গিয়ারবক্স মেরামত, চেসিস সংস্কার এবং বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে।
একাধিক গাড়ির ক্ষেত্রে ইঞ্জিন সংস্কারের সঙ্গে বডি, কেবিনসহ অন্যান্য অংশ পুনর্নির্মাণের কথাও রয়েছে।
তাহলে প্রশ্ন হলো-এই গাড়িগুলোর বয়স কত? বর্তমান বাজারমূল্য কত? মেরামতের পর আর কত বছর ব্যবহার করা যাবে? আর একটি গাড়ি সংস্কারে সম্ভাব্য যে অর্থ ব্যয় হবে, সেই অর্থে নতুন গাড়ি কেনা সম্ভব কি না-এমন তুলনামূলক মূল্যায়ন কি করা হয়েছে?
প্রকাশিত দরপত্র বিজ্ঞপ্তি থেকে এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায় না।
পুরোনো গাড়ি সচল রাখা প্রয়োজন-এ নিয়ে বিতর্কের সুযোগ নেই। বর্জ্য অপসারণের গাড়ি অচল থাকলে নগরীতে বর্জ্য জমবে, বাড়বে জনদুর্ভোগ। কিন্তু সেই প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে অর্থনৈতিক যৌক্তিকতার প্রশ্নটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ একটি পুরোনো গাড়ি সংস্কারে যদি তার বর্তমান মূল্যের তুলনায় অস্বাভাবিক পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়, তাহলে সেই ব্যয়ের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। আবার মেরামতের পর গাড়ি যদি অল্প সময়ের মধ্যেই পুনরায় অচল হয়ে পড়ে, তাহলে একই সম্পদের পেছনে বারবার সরকারি অর্থ ব্যয়ের ঝুঁকিও তৈরি হবে।
৪৬ কাজ, কিন্তু মোট ব্যয় কত?
সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি এখানেই। ৪৬টি প্যাকেজে মোট কত টাকা ব্যয় করতে যাচ্ছে চসিক?
প্রকাশিত দরপত্র বিজ্ঞপ্তিতে ৪৬টি কাজের সম্ভাব্য মোট ব্যয়ের কোনো সমন্বিত অঙ্ক উল্লেখ নেই। ফলে নগরবাসীর পক্ষে এই মুহূর্তে বোঝার সুযোগ নেই-পুরোনো ময়লার গাড়ি, ভারী যন্ত্রপাতি, কনটেইনার ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশের পেছনে সিটি করপোরেশন মোট কত অর্থ ব্যয় করতে যাচ্ছে।
বিস্তারিত দরপত্র দলিলে প্রতিটি কাজের প্রাক্কলিত ব্যয় থাকার কথা। কিন্তু এত বড় পরিসরের একটি মেরামত কার্যক্রমে সামগ্রিক আর্থিক চিত্রটি প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে অনুপস্থিত থাকায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা অস্বাভাবিক নয়।
বিশেষ করে যখন একই বিজ্ঞপ্তিতে গাড়ির ইঞ্জিন, গিয়ারবক্স, চেসিস, বডি, কেবিন থেকে শুরু করে ভারী যন্ত্রপাতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ পর্যন্ত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
৩৬ গাড়ি, ২৬ গাড়ি, ২৪ গাড়ি-শুধু যন্ত্রাংশেই বড় আয়োজন
চসিকের এই দরপত্র আয়োজন শুধু গাড়ি মেরামতেই সীমাবদ্ধ নয়। একটি প্যাকেজে ৩৬টি গাড়ি ও একটি মোটরসাইকেলের জন্য বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রাংশ সরবরাহের কথা বলা হয়েছে। অন্য একটি প্যাকেজে রয়েছে ২৬টি গাড়ির যন্ত্রাংশ।
আরেকটিতে ২৪টি গাড়ির যন্ত্রাংশ সরবরাহের কথা রয়েছে। কোথাও ২৩টি, ১২টি ও ৫টি গাড়ি এবং একটি মোটরসাইকেলের বিভিন্ন অংশ সংস্কার বা সরবরাহের কাজ রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া ২২টি ইঞ্জিন ট্রলির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সরবরাহ, ১০টি ইঞ্জিন ট্রলির পুরো বডি সংস্কার এবং ১৫টি ময়লার কনটেইনার মেরামতের জন্য পৃথক কাজ রয়েছে।
অর্থাৎ একটি দরপত্র বিজ্ঞপ্তির মধ্যেই চসিকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত যানবাহন, ইঞ্জিন ট্রলি, কনটেইনার ও অন্যান্য সরঞ্জামের বড় একটি অংশকে মেরামত ও যন্ত্রাংশ সরবরাহের আওতায় নেওয়া হয়েছে।
এত বড় পরিসরের সংস্কার কার্যক্রমের আগে প্রতিটি সম্পদের কারিগরি অবস্থা যাচাই করা হয়েছে কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
ভারী যন্ত্রপাতিতেও বড় সংস্কার
শুধু ময়লার গাড়ি নয়, চসিকের ল্যান্ডফিলে ব্যবহৃত ভারী যন্ত্রপাতিও রয়েছে ৪৬টি কাজের তালিকায়।
হালিশহরের আনন্দবাজার বর্জ্যাগারে ব্যবহৃত একটি শৃঙ্খলচালিত ভারী মাটি কাটার যন্ত্রের শৃঙ্খল, দাঁতযুক্ত চাকা, ময়লা তোলার পাত্র, বডি, কেবিন ও বিভিন্ন সংযোগস্থল সংস্কারের কথা বলা হয়েছে।
আবার আরেফিন নগর বর্জ্যাগারে ব্যবহৃত দীর্ঘ বাহুবিশিষ্ট খননযন্ত্রের ইঞ্জিন সংস্কার এবং জল-স্থল উভয় জায়গায় চলাচল করতে সক্ষম একটি খননযন্ত্রের চালনা মোটরসহ বিভিন্ন অংশ মেরামতের কথা রয়েছে।
এসব যন্ত্রপাতি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর অংশ। ফলে এগুলোর সংস্কারে কাজের মান, যন্ত্রাংশের মান এবং মেরামতের পর কার্যক্ষমতা যাচাই-তিনটিই গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ একটি ভারী যন্ত্র মেরামতের নামে অর্থ ব্যয়ের পর সেটি যদি প্রত্যাশিত সময় পর্যন্ত কার্যকর না থাকে, তাহলে শুধু অর্থের অপচয়ের প্রশ্ন নয়, নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।
১৫ কনটেইনার থেকে পুরো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বহর
দরপত্রের আওতায় এসেছে বর্জ্য সংগ্রহের কনটেইনারও। নগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণে ব্যবহৃত ১৫টি ধাতব কনটেইনার মেরামতের কথা একটি প্যাকেজে রয়েছে।
অন্য একটি প্যাকেজে নগরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যবহৃত ইস্পাতের কনটেইনার মেরামতের কাজ রাখা হয়েছে।
ফলে ৪৬টি দরপত্রকে শুধু ‘গাড়ি মেরামতের দরপত্র’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর আওতায় রয়েছে বর্জ্য সংগ্রহের কনটেইনার, ইঞ্জিন ট্রলি, ময়লার গাড়ি, ভারী মাটি কাটার যন্ত্র, খননযন্ত্র এবং এসবের বিপুলসংখ্যক যন্ত্রাংশ।
এটি চসিকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটি বড় অংশের ওপর একযোগে সংস্কার কার্যক্রম।
একই দিনে ৪৬ দরপত্র, জমা দেওয়ার সময় মাত্র এক ঘণ্টা
দরপত্রের সময়সূচিও প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৩০ আগস্ট দুপুর ১টা পর্যন্ত দরপত্র দলিল কেনা এবং একই দিন দুপুর ২টার মধ্যে দরপত্র জমা দেওয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থাৎ একই দিনে দলিল কেনার শেষ সময়ের মাত্র এক ঘণ্টা পরেই ৪৬টি দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় রাখা হয়েছে।
যদিও সব দরপত্র সরকারি বৈদ্যুতিন ক্রয় ব্যবস্থার মাধ্যমে জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, তবু এতগুলো পৃথক কাজের জন্য একই দিনে এত অল্প সময়ের ব্যবধান রাখার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ক্ষেত্রে বিষয়টি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের অংশ হতে পারে। কিন্তু এত বড়সংখ্যক পৃথক কাজের দরপত্রে সময় নির্ধারণের পেছনে কী যুক্তি ছিল, তা পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
সবচেয়ে জরুরি-প্রতিটি গাড়ির কারিগরি পরীক্ষা হয়েছিল তো?
চসিকের বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থা সচল রাখতে পুরোনো গাড়ি মেরামতের প্রয়োজন থাকতেই পারে। কিন্তু সরকারি অর্থ ব্যয়ের আগে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর থাকা জরুরি।
প্রতিটি গাড়ির প্রকৃত যান্ত্রিক অবস্থা কি পরীক্ষা করা হয়েছে? কোন গাড়ির কোন যন্ত্রাংশ বদলাতে হবে, সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তি কী? প্রতিটি গাড়ির জন্য কি পৃথক কারিগরি প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে?
মেরামতের আনুমানিক ব্যয় নির্ধারণের আগে গাড়িটির বর্তমান বাজারমূল্য ও সম্ভাব্য অবশিষ্ট ব্যবহারকাল বিবেচনা করা হয়েছে কি?
পুরোনো গাড়ি মেরামত এবং নতুন গাড়ি কেনার মধ্যে কোনটি অর্থনৈতিকভাবে বেশি সুবিধাজনক-এমন কোনো তুলনামূলক হিসাব কি করা হয়েছে?
আর মেরামতের পর গাড়ি বা যন্ত্রপাতির কার্যক্ষমতা যাচাইয়ের ব্যবস্থা কী?
এসব প্রশ্নের উত্তর শুধু চসিকের জন্য নয়, নগরবাসীর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই অর্থ শেষ পর্যন্ত আসে সরকারি তথা জনগণের অর্থ থেকে।
তদন্তের প্রয়োজন কোথায়?
৪৬টি দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে-এ তথ্য নিজেই কোনো অনিয়মের প্রমাণ নয়। প্রয়োজনীয় মেরামত ও যন্ত্রাংশ কেনার জন্য এমন বড় দরপত্র আয়োজন যুক্তিসংগতও হতে পারে। কিন্তু একই গাড়ির একই ধরনের কাজ একাধিকবার তালিকাভুক্ত হওয়া, বিপুলসংখ্যক পুরোনো গাড়ি একযোগে বড় সংস্কারের আওতায় আসা, মোট সম্ভাব্য ব্যয়ের সমন্বিত চিত্র বিজ্ঞপ্তিতে না থাকা এবং একই দিনে মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে ৪৬টি দরপত্র জমা দেওয়ার সময় নির্ধারণ-এসব বিষয় স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দাবি করে।
বিশেষ করে ২৭৪৩৬২ চেসিস নম্বরের আইশার ময়লার গাড়ির ক্ষেত্রে একই ধরনের কাজের পুনরাবৃত্তির বিষয়টি নথিপত্র মিলিয়ে দেখা দরকার।
কোন গাড়ি কত বছরের পুরোনো, তার বর্তমান মূল্য কত, এর আগে কতবার মেরামত হয়েছে, প্রতিবার কত টাকা ব্যয় হয়েছে, এবার কত টাকা প্রাক্কলন করা হয়েছে এবং মেরামতের পর কত বছর সেটি ব্যবহারের উপযোগী থাকবে-এসব তথ্য একসঙ্গে পর্যালোচনা করলেই বোঝা সম্ভব হবে, সিদ্ধান্তটি সত্যিই অর্থনৈতিকভাবে যৌক্তিক কি না।
তাই ৪৬টি দরপত্রের প্রতিটি প্যাকেজ, সংশ্লিষ্ট গাড়ি ও যন্ত্রপাতির বয়স, পূর্ববর্তী মেরামতের ইতিহাস, কারিগরি মূল্যায়ন, প্রাক্কলিত ব্যয় এবং মেরামতের পর প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল যাচাই করে দেখা প্রয়োজন।
চট্টগ্রামের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সচল রাখতে মেরামত দরকার-এ নিয়ে প্রশ্ন নেই। প্রশ্ন হলো, সেই মেরামত কতটা প্রয়োজনীয়, কতটা যৌক্তিক এবং জনগণের অর্থে কতটা সাশ্রয়ী।
এই প্রশ্নগুলোর সন্তোষজনক উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত ৪৬টি দরপত্র ঘিরে ওঠা সংশয় দূর হওয়ার সুযোগ কম। আর যদি নথিপত্র যাচাইয়ে অসংগতি পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত হবে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দেখা-কোন গাড়ি কেন মেরামত হচ্ছে, কীভাবে ব্যয় নির্ধারিত হলো এবং প্রতিটি টাকার বিনিময়ে নগরবাসী আসলে কী পাচ্ছে।
কারণ পুরোনো গাড়ি সচল করার নামে সরকারি অর্থ ব্যয় করা যেমন প্রয়োজন হতে পারে, তেমনি সেই অর্থের প্রতিটি টাকার যৌক্তিকতাও নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।
এসব বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন যান্ত্রিক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রুবেল চন্দ্র দাসের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে তার হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে কিছু প্রশ্ন রেখে বার্তা পাঠিয়ে বেশ কয়েকদিন অপেক্ষা করার পরও তার কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তিনি বক্তব্য দিলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।




