বাড়িজুড়ে তখন বিয়ের আমেজ। উঠানে তৈরি হয়েছে প্যান্ডেল, অতিথিদের আপ্যায়নের প্রস্তুতিও শেষ। আত্মীয়-স্বজনের আনাগোনায় মুখর ছিল পুরো বাড়ি।
শুক্রবার দ্বিতীয় মেয়ের বিয়ে-এ নিয়ে ব্যস্ততার শেষ ছিল না বাবা বাহার উদ্দিনেরও। কিন্তু কে জানত, সেই আনন্দের ঠিক একদিন আগেই তাঁকে হারিয়ে শোকে ডুবে যাবে পুরো পরিবার!
মেয়ের বিয়ের প্রয়োজনীয় বাজার-সদাই করে বুধবার রাতে পরিবারের সঙ্গে খাবার খেয়ে ঘুমাতে গিয়েছিলেন বাহার উদ্দিন (৫৫)।
এরপর ভোরে ঘুমের মধ্যেই হেঁচকি দিয়ে থেমে যায় তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাস। পরিবারের দাবি, ঘুমের মধ্যে স্ট্রোক করে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার দিবাগত রাত ৪টার দিকে মিরসরাই সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব মোটবাড়িয়া এলাকার হাবীব উল্লাহ ভূঁইয়া বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত বাহার উদ্দিন কাটাছরা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব কাটাছরা এলাকার ওবায়দুল হক ইঞ্জিনিয়ার বাড়ির মৃত মনির আহমদের ছেলে। তিনি পেশায় সিএনজি অটোরিকশাচালক ছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শুক্রবার বাহার উদ্দিনের দ্বিতীয় মেয়ের বিয়ের দিন ধার্য করা হয়েছিল। বিয়ের প্যান্ডেল নির্মাণসহ অধিকাংশ প্রস্তুতি আগেই শেষ করা হয়।
বুধবার দিনভর সিএনজি চালানোর পাশাপাশি মেয়ের বিয়ের প্রয়োজনীয় বাজারও করেন বাহার নিজেই। রাতে বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি।
পরিবারের ভাষ্য, রাত ৪টার দিকে ঘুমের মধ্যে বাহার উদ্দিন হেঁচকি দেন। এরপর তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়।
স্বজনরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে মিঠাছরা বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্বজন মো. রেজাউল করিম বলেন, বাহার কাকা খুব ভালো মানুষ ছিলেন। সিএনজি চালিয়ে সংসার চালাতেন। শুক্রবার তাঁর দ্বিতীয় মেয়ের বিয়ের দিন ধার্য করা হয়েছিল। বিয়ের সব আয়োজন শেষ করেছিলেন তিনি।
বুধবারও সারাদিন সিএনজি চালানোর পর রাতে বিয়ের বাজার করে বাড়িতে ফেরেন। খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন।
রাত ৪টার দিকে হেঁচকি দেওয়ার পর তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর এমন মৃত্যুতে মুহূর্তেই বিয়ের বাড়ির আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়েছে।
বাহার উদ্দিনের ছেলে মো. সেলিম বলেন, শুক্রবার আমার ছোট বোনের বিয়ের দিন ছিল। বিয়ের প্যান্ডেল ও অতিথিদের জন্য প্রয়োজনীয় বাজার-সদাই সবই করা হয়েছিল।
বিয়ের একদিন আগে ঘুমের মধ্যে স্ট্রোক করে আমার বাবা মারা যান। এর আগেও তিনি দুইবার স্ট্রোক করেছিলেন।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে মিরসরাই সদর ইউনিয়নের পূর্ব মোটবাড়িয়া এলাকায় বাহার উদ্দিনের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
পরে বাদ জোহর কাটাছরা ইউনিয়নের পূর্ব কাটাছরা এলাকায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
বাহার উদ্দিনের মৃত্যুর পর মুহূর্তেই বদলে যায় পুরো বাড়ির দৃশ্য। যে উঠানে মেয়ের বিয়ের প্যান্ডেল সাজানো হয়েছিল, সেখানে নেমে আসে শোকের ছায়া।
যে বাড়িতে শুক্রবার আত্মীয়-স্বজনের হাসি-আনন্দে মুখর হওয়ার কথা ছিল, সেখানে এখন চলছে কান্নার মাতম।
মেয়ের বিয়ের বাজার করে ঘুমাতে যাওয়া সেই বাবা আর ফিরলেন না।
তাঁর রেখে যাওয়া বিয়ের আয়োজনগুলোই যেন এখন পরিবারের কাছে আনন্দের বদলে হয়ে উঠেছে গভীর শোকের স্মৃতি।




