ঢাকা থেকে সন্দ্বীপ-রাজনীতির দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এবার ডিবির হেফাজতে সাবেক সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতা।
সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর গুলশান-২ এলাকার ৪৩ নম্বর সড়কের ২৯ নম্বর বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগ।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে গ্রেফতারের তথ্য নিশ্চিত করেন ডিবি গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) আ.ফ.ম আনোয়ার হোসেন খাঁন।
তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই বাসায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের পর তাকে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।
তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিবির এই কর্মকর্তা। ডিবি সূত্রে আরও জানা গেছে, মাহফুজুর রহমান মিতা চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ থানায় দায়ের করা একাধিক মামলার এজাহারনামীয় আসামি।
সোমবার দিবাগত রাত। রাজধানীর ব্যস্ততম ও অভিজাত এলাকাগুলোর একটি গুলশান-২ তখন অনেকটাই নীরব। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে ৪৩ নম্বর সড়কের ২৯ নম্বর বাসাকে ঘিরে অভিযান চালায় ডিবির গুলশান বিভাগ।
ডিবির ভাষ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতেই অভিযানটি পরিচালিত হয়। অভিযানের পর গ্রেফতার করা হয় মাহফুজুর রহমান মিতাকে। পরে তাকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
কে এই মাহফুজুর রহমান মিতা?
মাহফুজুর রহমান মিতা চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। তিনি ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি তৃতীয়বারের মতো এই আসনে জয়ী হন।
একাদশ জাতীয় সংসদে তিনি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
অর্থাৎ, সন্দ্বীপের রাজনীতিতে মাহফুজুর রহমান মিতার অবস্থান ছিল দীর্ঘদিনের। ২০১৪ সালের নির্বাচন থেকে ২০২৪ সালের নির্বাচন পর্যন্ত টানা তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হয়ে রয়েছে।
গ্রেফতারের পর মাহফুজুর রহমান মিতাকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। এখন তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর প্রেক্ষাপটে আইনগত প্রক্রিয়া কীভাবে এগোয়, সেটিই হবে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
একজন সাবেক সংসদ সদস্যের গ্রেফতার স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক ও আইনি-দুই দিক থেকেই আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে ঘটনার পরবর্তী গতিপথ নির্ধারিত হবে সংশ্লিষ্ট মামলার নথি, তদন্ত এবং আদালতের কার্যক্রমের মাধ্যমে।




