বোয়িং থেকে আরও ১১ উড়োজাহাজ কিনছে বিমান

অনলাইন ডেস্ক

আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণ, যাত্রী চাহিদা বৃদ্ধি ও বহর আধুনিকায়নের লক্ষ্য সামনে রেখে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর সম্প্রসারণের পরিকল্পনা আরও বড় হচ্ছে। মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে আরও ১১টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে জাতীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইনসটি।

- Advertisement -

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে নিউইয়র্কে স্বাক্ষরিত হয়েছে এ-সংক্রান্ত চুক্তি।

- Advertisement -
google news follower

এর ফলে আগে ঘোষিত ১৪টি উড়োজাহাজের পরিকল্পনার সঙ্গে নতুন ১১টি যুক্ত হয়ে বোয়িং থেকে বিমানের পরিকল্পিত উড়োজাহাজ সংগ্রহের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ২৫টিতে।

চুক্তিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পক্ষে পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসেন এবং বোয়িংয়ের কমার্শিয়াল সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড ম্যাকমুলেন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের হয়ে স্বাক্ষর করেন।

- Advertisement -
islamibank

চুক্তি স্বাক্ষরের পর নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, দেশের অ্যাভিয়েশন খাতের সম্প্রসারণ এবং নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর পরিকল্পনা সামনে রেখেই নতুন উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাত ক্রমেই সম্প্রসারিত হচ্ছে। নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর পাশাপাশি যাত্রী ও যোগাযোগের চাহিদা বাড়ায় বিমানের বহরে আরও উড়োজাহাজ যুক্ত করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। সেই প্রয়োজন থেকেই বোয়িংয়ের সঙ্গে নতুন চুক্তি করা হয়েছে।

অর্থাৎ নতুন এই চুক্তিকে শুধু বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

বিমানের নতুন চুক্তির তাৎপর্য আরও স্পষ্ট হয় আগের ক্রয় পরিকল্পনার সঙ্গে হিসাব মিলিয়ে দেখলে।

বিমান কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ এপ্রিল বোয়িংয়ের সঙ্গে করা ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তির আওতায় ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা ছিল। এবার সেই পরিকল্পনার অতিরিক্ত হিসেবে আরও ১১টি উড়োজাহাজ যুক্ত হয়েছে।

ফলে বোয়িং থেকে বিমানের পরিকল্পিত উড়োজাহাজ সংগ্রহের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ২৫টিতে।

তবে নতুন ১১টি উড়োজাহাজের নির্দিষ্ট মডেল, মোট মূল্য, অর্থায়ন পদ্ধতি এবং সরবরাহের সময়সূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

ফলে নতুন উড়োজাহাজগুলো কবে থেকে বিমানের বহরে যুক্ত হবে এবং এ জন্য মোট কত অর্থ ব্যয় হবে-এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যের জন্য পরবর্তী ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসেন চুক্তিটিকে বিমানের বহর আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক বিস্তারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেন, বিমানের বহর পরিকল্পনার প্রয়োজন বিবেচনা করেই নতুন উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা হিসেবে প্রবাসী বাংলাদেশি, ব্যবসায়ী, পর্যটক এবং দেশের সাধারণ যাত্রীদের ক্রমবর্ধমান যোগাযোগের চাহিদা পূরণে বিমানের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন রুমী এ হোসেন।

তার ভাষায়, দীর্ঘমেয়াদি সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এখানে বহর সম্প্রসারণের বিষয়টি কেবল উড়োজাহাজের সংখ্যা বৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে নতুন রুট চালু, বিদ্যমান আন্তর্জাতিক যোগাযোগের সক্ষমতা বাড়ানো এবং ক্রমবর্ধমান যাত্রী চাহিদা মোকাবিলার পরিকল্পনা।

বাংলাদেশ ও বোয়িংয়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের সঙ্গেও আলোচনা হতে পারে।

এরই মধ্যে বহর সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে আরও ১০টি এয়ারবাস উড়োজাহাজ কেনার একটি পৃথক প্রস্তাব বিবেচনা করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

ফলে বিমানের বহর সম্প্রসারণের পরিকল্পনায় একদিকে বোয়িংয়ের সঙ্গে বড় আকারের ক্রয় পরিকল্পনা এগোচ্ছে, অন্যদিকে এয়ারবাসের উড়োজাহাজ কেনার প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে।

নতুন চুক্তিকে শুধু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর সম্প্রসারণের বিষয় হিসেবে দেখছে না যুক্তরাষ্ট্রও। ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বিমানের সঙ্গে বোয়িংয়ের নতুন চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে উভয় দেশের জন্য ইতিবাচক একটি পদক্ষেপ।

অর্থাৎ চুক্তিটির প্রভাব বিমান খাতের গণ্ডি ছাড়িয়ে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্ব বহন করছে।

নিউইয়র্কে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নতুন ১১টি উড়োজাহাজের মডেল, মূল্য, অর্থায়ন এবং সরবরাহের সময়সূচি এখনো প্রকাশ না হওয়ায় চুক্তিটির পূর্ণ আর্থিক ও পরিচালনাগত চিত্র আপাতত স্পষ্ট নয়। তবে ইতোমধ্যে ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, বোয়িং থেকে বিমানের উড়োজাহাজ সংগ্রহের পরিকল্পিত সংখ্যা ২৫টিতে পৌঁছেছে।

এর পাশাপাশি আরও ১০টি এয়ারবাস উড়োজাহাজ কেনার পৃথক প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে।

সব মিলিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সামনে এখন বহর সম্প্রসারণের একটি বড় পরিকল্পনা।

নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালু, যাত্রী ও যোগাযোগের চাহিদা পূরণ, বহর আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক বিস্তারের যে লক্ষ্য সামনে রাখা হয়েছে, তার বাস্তবায়ন কতটা কার্যকরভাবে হয়-শেষ পর্যন্ত সেটিই নির্ধারণ করবে নতুন এই উড়োজাহাজ সংগ্রহের প্রকৃত প্রভাব।

KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ