রাত তখন গভীর। দিনের ব্যস্ততা শেষে দোকানের ঝাঁপ নামিয়ে ঘরে ফিরেছিলেন ব্যবসায়ীরা। কেউ জানতেন না, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই তাদের ব্যবসার জায়গা পরিণত হবে পোড়া কাঠ, ছাই আর ধ্বংসস্তূপে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের মিয়ারঘাটা এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেছে চারটি দোকান।
আগুনে ইসমাইল আজিজ ও মাহবুব আলমের দুটি মুদিদোকান, রতনের স্টেশনারি দোকান এবং আবদুল বাসেকের টিভি-ফ্রিজ মেরামতের দোকান পুড়ে যায়।
আগুনের তীব্রতায় দোকানগুলোর নগদ টাকা, বিভিন্ন ধরনের মালামাল, আসবাবপত্র ও স্টেশনারি সামগ্রী পুড়ে নষ্ট হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, এই অগ্নিকাণ্ডে তাদের মোট প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, একটি দোকানের বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। পরে মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। রাতের নীরবতার মধ্যে আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় ফায়ার সার্ভিস। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও ততক্ষণে চারটি দোকানের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মালামাল পুড়ে গেছে।
অগ্নিকাণ্ডে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্তদের একজন ব্যবসায়ী মুহাম্মদ ইসমাইল আজিজ। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, বুধবার রাত ১১টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে যান। পরে আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে দেখতে পান, তার দোকানের অধিকাংশ মালামাল পুড়ে গেছে। তার দাবি, এতে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এছাড়াও মাহবুব আলমের মুদিদোকান পুড়ে প্রায় ৬ থেকে ৮ লাখ টাকা, রতনের স্টেশনারি দোকান পুড়ে প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা এবং আবদুল বাসেকের টিভি-ফ্রিজ মেরামতের দোকান পুড়ে প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে দাবি তাদের।
সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
কালুরঘাট ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত ছাড়া আগুনের সঠিক কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।




