চট্টগ্রাম নগরের ব্যস্ততম লাভলেইন মোড়ে পিকআপ ভ্যানের গতিরোধ করে প্রায় ৫০ লাখ টাকা মূল্যের বিদেশি সিগারেট লুটের অভিযোগ উঠেছে।
এ সময় পিকআপের চালক ও হেলপারকে মারধর করে গুরুতর জখম করা হয়।
এ ঘটনায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করে কোতোয়ালী থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে লাভলেইন মোড়ের অ্যাপোলো-১১ পেট্রোল পাম্পের পূর্ব পাশে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন দুপুর সোয়া ১টার দিকে কাজীর দেউড়ির এসএ পরিবহন থেকে প্রায় ৭৮ মাস্টার কেস সিগারেট বোঝাই করে একটি পিকআপ রিয়াজউদ্দিন বাজারের উদ্দেশে রওনা হয়। পিকআপটি চালাচ্ছিলেন মো. আনোয়ার হোসেন। সঙ্গে ছিলেন হেলপার মো. জাহিদ।
দুপুর দেড়টার দিকে পিকআপটি লাভলেইন মোড়ের অ্যাপোলো-১১ পেট্রোল পাম্পের পূর্ব পাশে পৌঁছালে কয়েকজন দুর্বৃত্ত আকস্মিকভাবে এর গতিরোধ করে। এ সময় তারা চালক আনোয়ার হোসেনের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
চালক চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা আনোয়ারকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে শুরু করে। চালককে রক্ষা করতে হেলপার মো. জাহিদ এগিয়ে গেলে তাকেও লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয়। এতে জাহিদের নাকে গুরুতর জখম হয়।
এরপর পিকআপে থাকা ৭৮ মাস্টার কেস সিগারেট জোরপূর্বক একটি অজ্ঞাতনামা গাড়িতে তুলে নেয় দুর্বৃত্তরা।
পরে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। লুট হওয়া সিগারেটের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে চালক ও হেলপারের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় মামলা করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আহত চালক ও হেলপারকে উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় মামলা করেন। মামলায় অভিযুক্ত আসামিরা হলেন-মো. হৃদয়, শুরুর, নয়ন, ফরহাদ, মো. শফি আলম, মো. আদি এবং মো. আফসার। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, এ ঘটনায় থানায় নিয়মিত মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। মামলার প্রতিটি অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




