সরকারি ফি মাত্র ১৫ হাজার টাকা। অথচ দলিল নিবন্ধনের জন্য দাবি করা হয় অতিরিক্ত দুই লাখ টাকা।
দলিলে কোনো ত্রুটি না থাকলেও আটকে রাখা হয় নিবন্ধন। শেষ পর্যন্ত দুদকের অভিযানে ঘুষের দুই লাখ টাকাসহ গ্রেপ্তার হন পাহাড়তলী সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহান, হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম ও উমেদার রূপণ দাশ।
গ্রেপ্তারের পর আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম ও উমেদার রূপণ দাশ।
ফারুক ইসলাম আদালতে বলেছেন, সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহানের নির্দেশেই তিনি ঘুষের দুই লাখ টাকা নেন। আর ওই টাকা উমেদার রূপণ দাশের মাধ্যমে তার কাছে পাঠানো হচ্ছিল বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন তিনি।
অন্যদিকে উমেদার রূপণ দাশ আদালতে বলেন, তিনি প্রায় ১৫ বছর ধরে ওই কার্যালয়ে কর্মরত।
বুধবার রাতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলমগীর হোসেনের আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে ফারুক ইসলাম ও রূপণ দাশ এসব কথা বলেন।
দুদক সূত্র জানায়, এক আইনজীবী তার মক্কেলের দুটি অংশীদারি চুক্তিপত্র নিবন্ধনের জন্য নগরের আদালত ভবনে অবস্থিত পাহাড়তলী সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ে যান। দলিল দুটিতে কোনো ত্রুটি না থাকলেও নিবন্ধন আটকে রাখা হয়।
পরে বিষয়টি নিয়ে ওই আইনজীবী দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হটলাইন ১০৬ নম্বরে অভিযোগ করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পর মঙ্গলবার বিকেলে ওই আইনজীবী ঘুষের টাকা দিতে পাহাড়তলী সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ে যান। এ সময় দুদকের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়।
অভিযানে ঘুষের দুই লাখ টাকাসহ সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহান, হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম ও উমেদার রূপণ দাশকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে এ ঘটনায় মামলা করা হয়।
আদালত সূত্র জানায়, যে দলিল নিবন্ধনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেটির সরকারি ফি ছিল ১৫ হাজার টাকা। তবে দলিল নিবন্ধনের জন্য অতিরিক্ত দুই লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়।
প্রথমে নেওয়া হয় এক লাখ ৮০ হাজার টাকা। পরে আরও ২০ হাজার টাকা কমিশন দেওয়ার কথা ছিল। দলিলদাতাদের একজন উপস্থিত হতে না পারায় তার বাসায় গিয়ে ওই টাকা নেওয়ার কথা ছিল।
আদালত সূত্র আরও জানায়, সংশ্লিষ্ট দলিলে কোনো ত্রুটি না থাকলেও সাবরেজিস্ট্রারের নির্দেশে অতিরিক্ত দুই লাখ টাকা নেওয়া হয় বলে জবানবন্দিতে উঠে এসেছে।
২২ সেপ্টেম্বর এক আইনজীবীর অভিযোগের ভিত্তিতে পাহাড়তলী সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয়ে অভিযান চালায় দুদক। অভিযানের সময় ঘুষের দুই লাখ টাকাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এরপর মামলার তদন্ত ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসে।
হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম তার জবানবন্দিতে সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহানের নির্দেশের কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে উমেদার রূপণ দাশের মাধ্যমে ঘুষের টাকা তার কাছে পৌঁছানোর কথাও বলেন তিনি।
অন্যদিকে রূপণ দাশ তার জবানবন্দিতে প্রায় ১৫ বছর ধরে ওই কার্যালয়ে কর্মরত থাকার তথ্য দেন।
ঘুষের টাকা লেনদেনের অভিযোগে দুদকের হাতে গ্রেপ্তারের পর আদালতে দেওয়া দুই কর্মচারীর জবানবন্দিতে পাহাড়তলী সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ের কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে নানা প্রশ্ন সামনে এসেছে।
এখন মামলার তদন্তে জবানবন্দিতে উঠে আসা এসব তথ্য কতটা সত্য এবং ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল, সেটিই নির্ধারণের বিষয়।




